Weather News : ভিটেমাটি গিলে খাবে সর্বগ্রাসী সাগর, ভাঙন শুরু, ভয়ে কাঁপছে ওরা, কোথায় জারি কমলা সতর্কতা?
বকখালি, ফ্রেজারগঞ্জ পর্যটন কেন্দ্রের পাশে হাতি কর্নার ও লক্ষ্মীপুর গ্রামের মানুষের আতঙ্কে ঘুম উড়েছে।

গৌতম মণ্ডল, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা : এবার সময়ের আগেই ঢুকে পড়েছে বর্ষা। রাজ্যে শুরু হয়েছে প্রাক্ বর্ষার বৃষ্টি। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে উত্তরবঙ্গে বর্ষা ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট, জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণাবর্ত নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পর আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এটি শক্তি বাড়িয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হবে। আর তারপর থেকে কয়েকদিন চলবে জাঁকিয়ে বৃষ্টি। তবে এমনিতেই প্রাক বর্ষার বৃষ্টির প্রভাবে বেশ জাঁতাকলে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার একের পর এক গ্রাম। প্রবল বৃষ্টিতে ভয়াবহ ভাঙনের মুখে মৎস্যজীবীদের ২টি গ্রাম। বকখালি, ফ্রেজারগঞ্জ পর্যটন কেন্দ্রের পাশে হাতি কর্নার ও লক্ষ্মীপুর গ্রামের মানুষের আতঙ্কে ঘুম উড়েছে। দক্ষিণবঙ্গের ৫ জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বৃহস্পতিবার থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে জেলায় জেলায় । কাল ও পরশু , দুই দিনই রাজ্যের বেশিরভাগ জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা রয়েছে।
ভিটেমাটি গিলে খেয়েছে সর্বগ্রাসী সাগর
বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী ২টি গ্রামে কংক্রিটের বাঁধের একটা বড় অংশে বছর দুয়েক আগে ধস নামে। তারপর থেকে বাঁধের ওই অংশ দিয়ে নিয়মিত নোনা জল ঢুকছে গ্রামে। জল বাড়লে অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, বকখালি, ফ্রেজারগঞ্জের হোটেলে আশ্রয় নিতে হয় গ্রামবাসীদের। ভিটেমাটি গিলে খেয়েছে সর্বগ্রাসী সাগর। সেচ দফতর তড়িঘড়ি বাঁধ মেরামতি শুরু করলেও আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
সেচ দফতরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
সেচ দফতরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরা। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের জন্য এর আগে বাঁধ মেরামতির কাজও বন্ধ করে দেন গ্রামবাসীরা। বিজেপি পরিচালিত ফ্রেজারগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতও সেচ দফতরের দিকে আঙুল তুলেছে। নিয়ম মেনেই কাজ হচ্ছে বলে দাবি করেছে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতি।
বড় দুর্যোগের সতর্কবার্তা
রবিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের সব জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে, কোনও কোনও জেলায় কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে। উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতে জল বাড়বে বলেই দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এছাড়া আবহাওয়ার বুলেটিনে উল্লেখ, নিম্নচাপের জেরে উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকবে বুধবার থেকে। ৩৫-৪৫ কিলোমিটার থেকে সর্বোচ্চ ৫৫ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা ঝোড়ো বাতাস বইতে পারে সমুদ্রে। মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত। যারা গভীর সমুদ্রে রয়েছেন, তাদের বুধবার রাতের মধ্যে ফিরে আসতে পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। অর্থাৎ দক্ষিণ বঙ্গেও দুর্যোগের পূর্বাভাস স্পষ্ট। তখন কী হবে এই গ্রামগুলোয় ? কীভাবে বাঁচবেন তাঁরা? কীভাবেই বা বাঁচাবেন নিজেদের অতি প্রয়োজনীয় সামগ্রী। আতঙ্কে ঘুম উড়েছে।






















