Dholahat News: ঢোলাহাটে ঘরের মধ্যে মহিলা ও ৭ বছরের সন্তানের রক্তাক্ত দেহ, কাঠগড়ায় শ্বশুরবাড়ি, পলাতক স্বামী ও অন্যরা
Dholahat Mother Child Murdered: শ্বশুরবাড়ির বেশ কয়েক জনকে আটক করেছে পুলিশ।

ঢোলাহাট: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঢোলাহাট থেকে এবার জোড়া খুনের ঘটনা সামনে এল। সেখানে উদ্ধার হল মা ও সাত বছরের শিশুসন্তানের রক্তাক্ত দেহ। নিহত মহিলার নাম মনোয়ারা বিবি। স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধেই ওই মহিলা ও শিশুকে খুন করার অভিযোগ উঠছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক মহিলার স্বামী। শ্বশুরবাড়ির বেশ কয়েক জনকে আটক করেছে পুলিশ। (Dholahat News)
জানা গিয়েছে, সেখানে একটি বাড়িতে থাকতেন মনোয়ারা এবং তাঁর সাত বছরের সন্তান। রাতে খেয়ে সেখানেই ঘুমিয়েছিলেন তাঁরা। ওই বাড়ির পাশেই মনোয়ারার শ্বশুরবাড়ি। রবিবার সকালে মনোয়ারার আর এক সন্তান মাকে ডাকতে আসে। এসে দেখে, দরজা খোলা। রক্তাক্ত দেহ দু'টি পড়ে রয়েছে। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। (Dholahat Mother Child Murdered)
এদিন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় ঢোলাহাট থানার পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, প্রথমে মনোয়ারা এবং তাঁর সন্তানের শ্বাসরোধ করা হয়। তার পর ধারাল কিছু দিয়ে গলার নলি কাটা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় দেহ দু'টিই পাওয়া যায়। দেহ দু'টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।
কেন এমন পরিণতি হল মনোয়ারা ও তাঁর সন্তানের? জানা যাচ্ছে, শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিল। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল ছিল না। মোট চার সন্তান মনোয়ারার। ছোটটিকে নিয়ে আলাদা ওই বাড়িটিতে থাকছিলেন তিনি। পেট চালাতে গ্রামে জিনিসপত্র ফেরি করতেন। জীবন চলছিল কষ্টেই। কিন্তু তাঁর যে এমন পরিণতি হতে পারে, তা ভাবতেও পারছেন না কেউ।
পুলিশের ধারণা, শ্বশুরবাড়ির লোকজন এবং স্বামী এই ঘটনায় যুক্ত থাকতে পারেন। কারণ নিকটজন ছাড়া অত রাতে ঘরে কেউ ঢুকতে পারে না। মৃত্যু সুনিশ্চিত করতে শ্বাসরোধ করে গলার নলি কেটে দেওয়া হয়। নৃশংস ভাবে খুন করা হয়েছে মা ও ছেলেকে। প্রতিবেশীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরাও পৌঁছন ঘটনাস্থলে।
মৃতার আত্মীয় মুজিবর পাইক সংবাদমাধ্যমে বলেন, "সকালে বাড়িতে ছিলাম। আমার কাছে ফোন আসে। একজন বলে, 'তোমার বোনকে জবাই করে দিয়েছে'। শুনে ছুটে আসি। এসে দেখি, বোনকেও জবাই করে রেখেছে। ভাগ্নেও পড়ে আছে। বাড়িতে শুধু মা আছে দেখছি। আর কাউকে দেখছি না। ভাই-বোন, বোনাই, আর একটা বোন আছে। ওরাই করেছে বলে মনে হয় আমাদের। তারা কেউ নেই। ও ব্যবসা করে খাচ্ছিল। আমরা যা পারতাম, সাহায্য় করতাম। ওখানেও টিকতে দেয়নি, এখানেও দিল না। খেটে খাচ্ছিল, সেটা দেখতে পারছিল না।" দোষীর কঠোর শাস্তি হোক বলে দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।






















