SSC Job Loser Death: 'আমি কী করে থাকব আমার বাচ্চার ২ বছর বয়স' শোকার্ত মৃত চাকরিহারা শিক্ষকের স্ত্রী
West Midnapore News: শুক্রবার সকালে আর এন টেগোর হাসপাতালে মৃত্যু হয় পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা সুবল সোরেনের।

কলকাতা: চাকরি বাতিলের পর থেকেই ভুগছিলেন মানসিক চাপে। এরপর স্ট্রোক হয়। আর এন টেগোর হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে ভর্তিও ছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। এদিন সকালে মৃত্যু হল এসএসসি-র চাকরি হারা শিক্ষক ও আন্দোলনকারী সুবল সোরেনের। চাকরি বাতিলের পর থেকে চাপে ছিলেন, দাবি শোকার্ত পরিবারের।
তীব্র মানসিক চাপে পড়ে SSC-র এক চাকরিহারা 'যোগ্য' শিক্ষকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। শুক্রবার সকালে আর এন টেগোর হাসপাতালে মৃত্যু হয় পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা সুবল সোরেনের। বছর সাঁইতিরিশের সুবল সোরেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুরের বৌলাসিণী বিবেকানন্দ উচ্চতর বিদ্যালয়ের একাদশ-দ্বাদশের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন। পরিবারের বক্তব্য়, চাকরি বাতিলের পর থেকেই তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন সুবল সোরেন। আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বেতন মিলবে। তারপর কী হবে, এই চিন্তা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল চাকরিহারা এই শিক্ষককে। এরইমধ্যে ধীরে ধীরে তাঁর শরীর খারাপ হতে শুরু করে। শেষে সোমবার স্ট্রোক হয়।
এই মৃত্যুর খবরে আকাশ ভেঙে পড়েছে মৃত সুবল সোরেনের পরিবারের মাথায়। মৃত চাকরিহারা শিক্ষকের স্ত্রী সন্ধ্যা সোরেন বলেন, "ওই চাকরির জন্য....মমতা মুখ্যমন্ত্রী। এর দায়ী হচ্ছে মমতা মুখ্যমন্ত্রী। আমি কী করে থাকব আমার বাচ্চার ২ বছর বয়স। অনেক চিন্তা করত যে কী হবে না হবে! চাকরি নিয়ে সবসময় চিন্তা করত। চাকরি তো চলেই গেছে। অগাস্ট মাসে যে রিভিউ পিটিশন ছিল, বলেছিল যে কোনওকিছু একটা হবে। দিয়ে যখন কিছুই হল না, আবার অনেক ভেঙে পড়ল। হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ল। বেশি চাপ নিতে পারল না। টেনশন আমি বেশি নিতে পারছি না।''
পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় সুবল সোরেনের মৃতদেহ পৌঁছলে বেশকিছু চাকরিহারা শিক্ষক ও স্থানীয় মানুষজন দেহ আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অবরুদ্ধ হয়ে যায় ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক। পরে ডেবরা থানার পুলিশ এসে বিক্ষোভকারীদের হঠিয়ে দেয়। যা ঘিরে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়। মৃত চাকরিহারা শিক্ষকের চিকিৎসক অনিমেষ কর বলেন, "বেসিকালি ওনার মাথায় একটা বড় ব্লিডিং হয়। স্ট্রেসের জন্য প্রেসার বাড়তে পারে। এই বয়সে হঠাৎ চাকরিহারা হন সেক্ষেত্রে কনফিউসন হতে পারে। ওষুধ খাব লাইফ কী করে সামলাব। এতটাই প্রেসার ছিল না ৪টে ওষুধ দিয়ে আমরা প্রেসার কমাতে পারছিলাম না। স্ট্রেস অবশ্যই কনট্রিবিউটর।''






















