SSC Recruitment Scam : একসঙ্গে চাকরি গিয়েছে স্বামী-স্ত্রীর, 'ছেলে আছে...কী খাব আমরা', রাস্তাতেই ভাঙলেন কান্নায়
স্বামী-স্ত্রী দীপঙ্কর আদক এবং শিপ্রা বিশ্বাস। দুজনই স্কুলে চাকরি করতেন। দুজন একই প্য়ানেলে চাকরি পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার চাকরি গেছে দু'জনেরই।

কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা : সকাল থেকে আশায় বুক বেঁধে এসে বসেছিলেন একসঙ্গে। ভরসা ছিল, যোগ্য আর অযোগ্যদের আলাদা করা যাবে। সারা জীবনের পড়াশোনা, কঠিন পরীক্ষায় পাশ করে চাকরি পাওয়ার বিচার মিলবে। চাল থেকে কাঁকর বেছে ফেলবে শীর্ষ আদালত। কিন্তু শুনানির শেষে আদালত জানিয়ে দিল,' এখানে পুরো বাছাই প্রক্রিয়াটিই কলঙ্কিত এবং সমাধানের বাইরে। বৃহত্তর পরিসরে জালিয়াতি হয়েছে। তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করার ফলে বাছাই প্রক্রিয়াটি অপূরণীয়ভাবে কলুষিত হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার বৈধতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে।' ফলে একসঙ্গে চাকরি গেল ২৫ হাজার ৭৫২ জনের।
স্বামী-স্ত্রী দীপঙ্কর আদক এবং শিপ্রা বিশ্বাস। দুজনই স্কুলে চাকরি করতেন। দুজন একই প্য়ানেলে চাকরি পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুর্নীতির কারণে গোটা প্য়ানেল বাতিল হয়ে যাওয়ায় চাকরি গেছে দু'জনেরই। সকাল থেকে হাসিখুশি মুখেই অপেক্ষা করছিলেন তাঁরা। কিন্তু এক মুহূর্তে নেমে এল অন্ধকার। ডুকরে উঠলেন দীপঙ্কর। দিশেহারা হয়ে পালাতে থাকলেন সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা থেকে। 'আমার কিছু বলার নেই। কী করব জানি না। আমার একটা ছেলে আছে'। বারবার একই কথা বলে চাপড়াতে থাকলেন মাথা। চোখের সামনে যেন একমাত্র খোলা রাস্তাটাও বন্ধ হয়ে গেল। পাশে চাকরি হারানো স্ত্রী । তিনি নিজেকে শান্ত রাখবেন, নাকি অস্থির স্বামীকে সামাল দেবেন বুঝতে পারছিলেন না। বললেন, 'বাড়িতে আড়াই বছরের ছোট্ট সন্তান রয়েছে। বৃদ্ধ বাবা মা। আমাজের আর কেউ নেই। কাল থেকে...এই মুহূর্ত থেকে কী করব জানি না। কী খাব। আগামী এক ঘণ্টার মধ্যে কী ঘটবে জানি না'
ফের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলে পরীক্ষায় বসবেন? দিশেহারা দীপঙ্কর বললেন, 'যতদিন না নিয়োগ হবে, আমি খাব কী? বউ-বাচ্চা-বাবা-মা তাদের কী হবে, তাদের কোনও নিশ্চয়তা দিল না। ' দীপঙ্করের স্ত্রীরও একইরকম দিশেহারা অবস্থা। প্রশ্ন করছেন, ' সৎপথে চাকরি পেয়েছি, করেছি, এভাবে চাকরি চলে যাবে ভাবনারই বাইরে। কী করব জানি না। বাবা মা রয়েছে, তাদের ওষুধ পত্র কেনা, সবই আমাদের ওপর নির্ভরশীল। এতটা অবিচার! '
কে ভেবেছিল এই পরিণতি হবে! কেউ নতুন সংসার করেছেন, কেউ সরকারি চাকরি পেয়ে ছেড়েছেন পুরনো চাকরি। কেউ আবার চাকরি পেয়ে নিয়েছিলেন গৃহঋণ। কী হবে আগামী। জানেন না তাঁরা। শুধুই অনিশ্চয়তা। শুধুই অন্ধকার।






















