ইডির মারাত্মক অভিযোগ, রাজ্যের পাল্টা ! আজ সুপ্রিম কোর্টে IPAC-এ ED-তল্লাশি মামলার শুনানি
I-PAC Case Today : ‘দলের তথ্য চুরি’ VS ‘তল্লাশির নথি ডাকাতি’ কী বলবে সর্বোচ্চ আদালত? নজর সুপ্রিম কোর্টে

কলকাতা : SIR নিয়ে রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংঘাত দিল্লি পর্যন্ত গড়িয়েছে। গত মঙ্গলবার সবার নজর ছিল, I-Pac-এর অফিসে তল্লাশি নিয়ে ED-র দায়ের করা মামলার শুনানির দিকে। কিন্তু শুনানির ঠিক আগের রাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য সরকার ও রাজ্য পুলিশের তরফে জমা করা হয় হলফনামা। তার জবাব দিতে আদালতের কাছে ৭ দিন সময় চেয়ে নেয় ED। এরপর শুনানি পিছিয়ে যায়। মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, সুপ্রিম কোর্টে রয়েছে I-PAC সংক্রান্ত সেই মামলার শুনানি।
গত ৮ জানুয়ারি, IPAC-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ED-র তল্লাশির সময় দুই জায়গাতেই পৌঁছে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লাউডন স্ট্রিটে তাঁকে সবুজ ফাইল-সহ বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। এরপরই তুঙ্গে ওঠে ইডি ও রাজ্য তরজা। পারদ চড়ে রাজনৈতিক আক্রমণ-প্রতি আক্রমণেরও। সেই তরজা সময়ের সঙ্গে বেড়েছে বই কমেনি। এই আবহেই সুপ্রিম কোর্টে IPAC-এ ED-র তল্লাশি মামলার শুনানি হবে আজ।
১৫ জানুয়ারি, ED-র মামলায় সুপ্রিম কোর্টে একসঙ্গে ধাক্কা খায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার, তৃণমূল ও পুলিশ। বারবার আবেদন সত্ত্বেও কলকাতা হাইকোর্টে মামলা ফেরায়নি সুপ্রিম কোর্ট। পুলিশের দায়ের ৪টি FIR-এর ওপরই স্থগিতাদেশ জারি করে সর্বোচ্চ আদালত। যে দুই জায়গায় ইডি তল্লাশি চালিয়েছিল, সেখানে ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সব পক্ষকে নোটিস জারি করে ২ সপ্তাহের মধ্য়ে হলফনামা জমা দিতে বলা হয়।
সুপ্রিম কোর্টে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ED-র কাছে তথ্য ছিল ঘটনাস্থলে প্রমাণ ও গুরুত্বপূর্ণ জিনিস রয়েছে। তারা (ED) স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি জানিয়ে সেখানে যায়। মুখ্যমন্ত্রী DG এবং DC-কে সঙ্গে নিয়ে সেখানে আসেন। তাঁরা সেখান থেকে জিনিসপত্রগুলো নিয়ে যান, যা চুরির মতো অপরাধের সামিল। তিনি (মুখ্যমন্ত্রী) একজন ED অফিসারের মোবাইল ফোন-সহ সবকিছু নিয়ে যান। রাজ্য পুলিশ এবং মুখ্যমন্ত্রী কি এটা করতে পারেন? একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হোক। কর্মকর্তাদের সাসপেন্ড করা হোক। ইডির তরফে অ্য়াডিশনাল সলিসিটর জেনারেল SV রাজু বলেন, রাজ্য় পুলিশের DG এবং পুলিশ কমিশনারের উপস্থিতিতে মুখ্য়মন্ত্রী চুরি করেছেন। তাই CBI তদন্ত জরুরি।
মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের পক্ষে আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, চেয়ারপার্সনের (তৃণমূল কংগ্রেস) সেখানে যাওয়ার অধিকার ছিল। তিনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়) ল্যাপটপ ও আইফোন ১৭ প্রো নিয়ে গেছেন, এটুকুই, এর বেশি কিছু নয়।
বিচারপতিরা তখন বলেন, প্রত্যেকে সংস্থা যাতে স্বতন্ত্রভাবে কাজ করতে পারে, সেটা দেখতে হবে। এরপরই ৩রা ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে আদালত।
এরপর শুনানির ঠিক আগের দিন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে দেওয়া হলফনামায় দাবি করা হয়, ED আধিকারিকদের অনুমতি নিয়েই I-Pac-এর কর্ণধারের বাড়ি থেকে দলের নথিপত্র নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তল্লাশিতেও কোনও বাধা দেওয়া হয়নি। এই হলফনাম ভাল করে পড়ার জন্যই সময় চেয়ে নেন ইডির আইনজীবীরা। ফলে শুনানি পিছিয়ে যায়।























