Suvendu Adhikari : তৃণমূলের বিরুদ্ধে দিকে দিকে তীব্র জনরোষ! এই সময়ে বিজেপি কর্মীদের এই পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রীর
'সস্তার প্রচার ওরা না পায়'...বিজেপি কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

কলকাতা : রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরই তৃণমূলের বিরুদ্ধে উপচে পড়ছে জনরোষ। এদ্দিন ধরে হয়ে চলা নানা 'অত্যাচার ও দুর্নীতির' বিরুদ্ধে সরব হচ্ছে মানুষ। একাধিক জায়গায় তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীর অফিস ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে। প্রকাশ্যে এসে পড়ছে তৃণমূল নেতাদের সরকারি সামগ্রী চুরি ! এরই মধ্যে সোনারপুরে গিয়ে শনিবার প্রবল রোষের মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ( Suvendu Adhikari )।
সোমবার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ, কোথাও আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকারের উপর আস্থা রাখার আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন ও পুলিশ ইতিমধ্যেই সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছে।
‘সরকারি মাল উদ্ধার হচ্ছে, পুলিশকে কাজ করতে দিন’
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রাজ্যের বহু জায়গায় বিধায়ক, সাংসদ, কাউন্সিলর এবং চেয়ারম্যানদের অফিস থেকে সরকারি সামগ্রী উদ্ধার হচ্ছে। সেই কাজ প্রশাসন ও পুলিশকেই করতে দেওয়ার আবেদন জানান তিনি। তাঁর কথায়, “BDO, ম্যাজিস্ট্রেটরা যাচ্ছেন। ভিডিওগ্রাফি হচ্ছে। আপনারা আইন হাতে তুলে নেবেন না। অভিযোগ করুন, সরকার ব্যবস্থা নেবে।” তিনি আরও বলেন, যেসব জায়গায় বিক্ষোভ হচ্ছে, তার পিছনে সরাসরি কোনও রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নেই বলেই তাঁদের ধারণা। বরং সাধারণ মানুষের ক্ষোভ থেকেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী।
ফলতা উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ
মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলকে আক্রমণ করে বলেন, “কার্যত উঠে যাওয়া একটা পার্টি, ফলতা উপনির্বাচনে চতুর্থ হয়ে যাওয়া পার্টির লোকেদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হচ্ছে।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, '' আপনাদের কোথাও কার্যত উঠে যাওয়া একটা পার্টির, ফলতা উপনির্বাচনে চতুর্থ হয়ে যাওয়া পার্টির তাদের লোকেদেরকে কোনওরকমভাবে আইন হাতে তুলে নিয়ে বা বিক্ষোভ দেখিয়ে, সব বিক্ষোভেই কোথাও সরাসরি রাজনৈতিক দল যুক্ত নয়। জনরোষে হচ্ছে আমরা জানি এটা। ''
‘সস্তার প্রচার’ না করার আবেদন
বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোনওভাবেই যেন এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয় যাতে বিরোধীরা “সস্তার প্রচার” পেয়ে যায়। তিনি বলেন, “এই ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা সস্তার প্রচার ওরা না পায়, সেটা আপনাদের দেখতে হবে।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নিয়ম মেনেই সরকার পদক্ষেপ করছে।
‘মানুষ শুধু মুখ বদল নয়, ব্যবস্থার বদল চেয়েছিল’
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে প্রশাসনিক বদলের প্রসঙ্গও। তাঁর দাবি, মানুষ শুধু সরকার বা দলের পরিবর্তন চায়নি, চেয়েছিল গোটা ব্যবস্থার পরিবর্তন। তাঁর কথায়, “শুধু মুখের বদল, নামের বদল, দলের বদল নয়, ব্যবস্থার বদলও চেয়েছিলেন মানুষ। অনেকটা বদল হয়েছে। এখনও এক মাসও হয়নি।” তিনি আরও দাবি করেন, প্রশাসন, পুলিশ এবং সংবাদমাধ্যম—সব ক্ষেত্রেই সক্রিয়তা বেড়েছে এবং সেই পরিবর্তন সাধারণ মানুষ দেখতে পাচ্ছেন।
ক্ষমতায় এসে থেকেই তোলাবাজি, কাটমানি নিয়ে কড়া বার্তা দিচ্ছে বিজেপির সরকার। মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন --- এসব কোনওভাবে বরদাস্ত করা হবে না।






















