Tangra News:বাড়ি বন্ধক দিয়েও লাভ হয়নি ! ঠিক কত টাকার দেনায় ডুবে 'আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত' দে-পরিবারের?
Tangra Murder News : কতটা চাপে থাকলে এই ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত নেয় কোনও পরিবার ? দেনার অঙ্কটা মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো।

আবির দত্ত, কলকাতা : ট্যাংরাকাণ্ডে একটা প্রশ্ন খুবই ভাবাচ্ছে সকলকে। ঠিক কত টাকা দেনা পরিশোধ করার চাপে আত্মহননের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হল? আর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুসারে বাড়ির মহিলারা সকলে খুনই হয়েছেন। আর যদি এই এই খুন পরিবারের লোকেদের দ্বারাই হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন, কতটা চাপে থাকলে এই ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত নেয় কোনও পরিবার ? অঙ্কটা মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো।
চামড়া ব্যবসায়ী দুই ভাই প্রণয় ও প্রসূনের ব্যবসা ছিল মূলত এক্সপোর্টের। বিদেশের সঙ্গে লেনদেন। অঙ্কটাও বিরাট। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধটাই হল কাল। আঁধার নামল দে - পরিবারে। ব্যবসায় একটা একটা করে দরজা বন্ধ হতে শুরু করে। আর বাড়তে থাকে দেনার বোঝা। সূত্রের খবর, দিনে দিনে বাজারে দেনা বাড়তে বাড়়তে কয়েক কোটি টাকা হয়ে যায়। এর আগে প্রত্যক্ষদর্শীর কথাতেও উঠে এসেছিল এই প্রসঙ্গ। এলাকারই এক বাসিন্দা জানিয়েছিলেন, দেহ উদ্ধারের আগের দিন পাওনাদাররা বাড়ির সামনে এসেও ডেকে সাড়া পাননি কারও।
ভাড়ায় নেওয়া কারখানার ভাড়াও দিতে পারছিলেন না তাঁরা ইদানিং। বিপুল দেনার দায়ে বসত বাড়িও ব্যাঙ্কের কাছে বন্ধক রেখেছিল পরিবার। তাতেও লাভ হয়নি। দেনার পাহাড়ে ক্রমেই ডুবে যাচ্ছিল পরিবারটি। পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন জনের বয়ান ও পুলিশ সূত্র থেকে পাওয়া তদন্তের খবরে এমনই সব তথ্য সামনে আসছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রণয়-প্রসূনের বয়ান অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি, সোমবারই সপরিবারে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তাঁরা। ১৮ তারিখ, মঙ্গলবার পাওনাদারদের বাড়িতে আসতে বলা হয়। বুধবার ভোরে মেট্রোর পিলারে গাড়ি নিয়ে ধাক্কা মারে দুই ভাই। ওই দিনই সকালে ট্যাংরার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তিন মহিলার দেহ। মৃত্য়ুর সময় উল্লেখ করা হয়েছে, ময়নাতদন্তের ৩৬ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে। অর্থাৎ, মঙ্গলবারই খুন করা হয় বাড়ির ৩ সদস্য়কে।
সোমবার গোটা দিন, মঙ্গলবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ির ভিতর ঠিক কী ঘটেছিল, তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি CCTV ফুটেজে। পুলিশ সূত্রে দাবি, সবকটির প্লাগ খোলা ছিল! সূত্রের খবর, দুই ভাইয়ের বয়ানে অনেক অসঙ্গতি মিলছে।এই পরিস্থিতিতে তদন্তে দিশা দেখাতে পারত সিসিটিভি ফুটেজ, কিন্তু তাও পাওয়া গেল না। এখন আশপাশের সিসি ক্যামেরা ফুটেজের ওপরেই নির্ভর করতে হচ্ছে তদন্তকারীদের।
ট্রেন্ডিং
সেরা শিরোনাম
