Sushanta Ghosh: 'এই নেতাদের জন্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে যেতে পারতাম না', পদ ছেড়ে বিস্ফোরক TMC কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ
পুরসভায় অরূপ ও স্বরূপের পদত্যাগ। কলকাতা পুরসভায় ১২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষ পদ ছেড়েছেন।

কলকাতা: কলকাতা পুরসভায় ফের ধাক্কা তৃণমূলের। বরো চেয়ারম্যানের পদ ছাড়লেন সুশান্ত ঘোষ। অ্যাকাউন্টস কমিটি থেকে ইস্তফা দিলেন অরূপ চক্রবর্তী। এর আগে ৯ নম্বর বোরো চেয়ারম্যানের পদ ছেড়েছিলেন দেবলীনা বিশ্বাস। এবার কি কলকাতা পুরসভাতেও পর পর ধাক্কা খাওয়া শুরু হল তৃণমূলের?
পুরসভায় অরূপ ও স্বরূপের পদত্যাগ। কলকাতা পুরসভায় ১২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষ পদ ছেড়েছেন। কাউন্সিলর থাকলেও, বরো চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করছেন সুশান্ত ঘোষ। তৃণমূল নেতা ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, তাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন, কাউন্সিলর হয়েছেন, তাঁরা কাউন্সিলর থাকছেন, কিন্তু তাঁদের বিভিন্ন বিষয়ে সই করার যে অধিকার ছিল, সেই সই করার অধিকার রাখতে চাইছেন না। সেই কারণেই, সুশান্ত ঘোষ, বরো ১২-র চেয়ারম্যান, তিনি পদত্যাগ করতে চলেছেন। মেয়রের ঘরে জমা দেন পদত্যাগ পত্র।
সুশান্ত ঘোষ যখন কাউন্সিলর বা বরো চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেছেন, তখন বাংরবার গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা উঠে এসেছে। সুশান্ত ঘোষ অনেক ক্ষেত্রেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের শিকার হয়েছেন। তাঁর ওপর গুলি চালানোর চেষ্টা। ঘনিষ্ঠ মহলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গুলি চালানোর ঘটনায় কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হনি। ক্ষোভ ছিল।
সদ্য পদত্যাগী বরো চেয়ারম্যান ও তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ বলেন, 'বাংলার মানুষের যে রায়, সেটাকে অস্বীকার করতে পারছি না। আজকে আমি যে বরোর চেয়ারম্যান, সেই বরোর প্রায় প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে মানুষ আমাদের পরাজিত করেছে। আমরা যখন নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলাম, মানুষের রায় নিয়ে আমরা ক্ষমতায় এসেছিলাম। সাড়ে ৪ বছর আমরা মানুষকে পরিষেবা দিয়েছি। কিন্তু, এই নির্বাচনে মানুষ আমাদের চায়নি, বা পছন্দ করেনি। আমাদের পরাজিত করেছে। অন্য একটা রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এসেছে। যাদেরকে মানুষ ক্ষমতায় এনেছে, তাদেরকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত'।
কেন পদত্যাগ করলেন?
সুশান্ত ঘোষ বলেন, 'প্রশ্ন একটা আসতে পারে, আমরা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করলাম, কাউন্সিলরের পদ থেকে কেন করলাম না। সেক্ষেত্রে আমরা বলি, যে, কেন মানুষ আমাদের ৫ বছরের জন্য় নির্বাচিত করেছিল, এবং এই ৫ বছরে মানুষের চাহিদা পূরণ করার দায়িত্ব আমাদের ওপর ছিল। সাড়ে ৪ বছর আমরা করেছি। কলকাতা পুরসভার পুর প্রতিনিধিদের সই করার যে ক্ষমতা, সেটা সবক্ষেত্রে সইটা কাজে লাগে মানুষের। এখনও প্রতিনিয়ত মানুষ আসছে সইয়ের জন্য। আমরা সেই সইটা কন্টিনিউ করার জন্য কাউন্সিলর পদটা রেখে দিলাম। আগামীদিনে মানুষের সঙ্গে কথা বলব। যদি মানুষ মনে করে রাখবে, থাকতে বলে, আমরা থাকব। নাহলে আমরা হয়তো কাউন্সিলর পদ থেকেও আমি অন্তত ব্যক্তিগতভাবে পদত্যাগ করব, যদি মানুষ চায়'।
তিনি এ বলেন, কারণগুলোর পোস্টমর্টেম পরে করব। কারণ তো আছে। আমি শুধু বলব যে, এটা হওয়া কাম্য ছিল না। এই রেজাল্ট হওয়াও কাম্য ছিল না। আমার ওয়ার্ডে প্রায় এক-দেড়শো ছেলের মামলা, পাড়া ছাড়া হয়েছে, এতদিন যাঁরা জেড প্লাস, ওয়াই প্লাস ক্য়াটিগরি নিয়ে ঘুরে বেড়াত মন্ত্রীরা, গত ২৪ দিন-২৫ দিনে কোনও মন্ত্রীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। একেকজন মন্ত্রীর ৪টে, ৫টা জেলার দায়িত্ব ছিল। বড় বড় রাজনীতিবিদ ছিল। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কাছে আমরা কেউ ঘেঁষতে পারতাম না। এই সমস্ত মন্ত্রীগুলোর জন্য। আজকে এদের কিন্তু একটাবারের জন্য রাস্তায় খুঁজে পাওয়া গেল না। আমি ধন্যবাদ জানাব বিজেপির আঞ্চলিক নেতৃত্ব, যাঁরা ছেলেদের ঘরে ফেরাতে সহযোগিতা করেছে আমাদের সঙ্গে। নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপির লোকার দলীয় নেতৃত্বকে, যার ফলে অনেক ছেলেকে ঘরে ফেরাতে পেরেছি।'
সুশান্ত ঘোষের কথায়, 'গত ১৫ বছরে, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের স্নেহ ও প্রশ্রয়ে যে তথাকথিত নেতারা বাজার করে বেড়ালেন, সেই নেতারা আজকে কোথায়? যাঁরা কনভয় নিয়ে ঘুরে বেড়ালেন, সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেন, সেই নেতারা আজকে কোথায়? কেন তাঁদেরকে আজকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না?'
Before You Go
Narendra Modi News: দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তিনটি যুদ্ধজাহাজ উদ্বোধন করলেন মোদি






















