TMC News: 'যেভাবেই হোক বেনোজল আটকাব, ছাকনি তো বানাতেই হবে', 'ঋতব্রত-তৃণমূলের' বৈঠকে নির্মল ঘোষ, কী বলছেন সন্দীপন সাহা?
Sandipan Saha: সন্দীপন সাহা বলছেন, 'নির্মল ঘোষের সঙ্গে আমাদের কোনও কথা হয়নি। এই মিটিংয়ে আসার জন্য আমরা তাঁকে আহ্বান জানাইনি। উনি নিজেই এসেছেন।'

উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : 'ঋতব্রত-তৃণমূলে' যাওয়ার মরিয়া চেষ্টা পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের। আর জি কর কাণ্ডে নাম জড়িয়েছে তাঁর। এরপর এক যুবকের জেতা লটারির টাকা হাতিয়ে নেওয়া-সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে। এই লটারিকাণ্ডে আবার ব্যাপক ধরপাকড়ও শুরু হয়েছে। নির্মল ঘোষের ২ ঘনিষ্ঠ ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কার্যত 'বেপাত্তা' ছিলেন নির্মল ঘোষ। শনিবার ১১ জুলাই আচমকাই তপসিয়ায় 'ঋতব্রত-তৃণমূলের' বৈঠকে পৌঁছে যান তিনি। ঢোকার আগে বলেন, 'বৈঠকে নয়, জাভেদ খানের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।' বৈঠকের শেষে বলেন, 'বিরোধী দলনেতার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে।' এদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি তাঁর সঙ্গে নির্মল ঘোষের কোনও কথা হয়নি।
এই গোটা প্রসঙ্গে 'ঋতব্রত-তৃণমূলের' তরফে সন্দীপন সাহা বলছেন, 'নির্মল ঘোষের সঙ্গে আমাদের কোনও কথা হয়নি। এই মিটিংয়ে আসার জন্য আমরা তাঁকে আহ্বান জানাইনি। উনি নিজেই এসেছেন। তাই এর দায় আমরা নিচ্ছি না। আমরা দেখেছি উনি এসেছেন। এসে গিয়েছেন, তাঁকে তো বের করে দেওয়া যায় না। কিন্তু আমরা ওনাকে এই মিটিংয়ে আসার জন্য আহ্বান জানাইনি। কীভাবে এসেছেন, কেন এসেছেন, উনিই বলতে পারবেন। আমরা ওনার আসার দায় নিচ্ছি না। উনি আমাদের কোনও কমিটিতে নেই। রাজ্যের দায়িত্ব নেই। বিরোধী দলনেতার সঙ্গে তাঁর কোনও আলোচনা হয়নি। উনি এসেছেন নিজের দায়িত্বে। ওনাকে আহ্বান করা হয়নি। আমাদের স্টেট কমিটি দেখলে দেখবেন কোথাও ওনার নাম নেই। উনি মিটিংয়ের শেষের দিকে হঠাৎ ঢুকে পড়েছিলেন। মিটিং শেষের পর এখানে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করেছেন। তারপর বেরিয়ে গিয়েছেন।'
গ্রেফতারির আশঙ্কা তৈরি হতেই শিবির বদলের ভাবনা নির্মল ঘোষের? কী কী অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে
কিন্তু বৈঠকে কাউকে ডাকা না হলে কী কেউ ঢুকতে পারেন?
সন্দীপন সাহার কথায়, 'নিশ্চিত ভাবে পারেন না। বেনোজল আমরা আটকাব। যেভাবেই হোক বেনোজল আটকাব। সবে শুরুর দিকে মিটিং। সিস্টেমে আসতে হয়তো একটু সময় লাগছে। কিন্তু নিশ্চিত ভাবে আমাদের এই তৃণমূলে বেনোজল থাকবে না। যেভাবে ফ্লাড গেট খুলে দিয়ে, বেনোজল ঢুকিয়ে দলটার এই পরিণাম এবং পরিণতি করা হয়েছে, সেটার দায়িত্ব আমরা সকলে নেব। এটা শেল্টার পাওয়ার সংগঠন কখনই নয়। এখানে আমরা যারা দলটাকে ভালবাসি, যাদের দলের প্রতি আবেগ আছে, যারা চাই যে দলটা আগামী দিনে ঘুরে দাঁড়াক, বাংলার মাটিতে লড়াই করুক, বাংলার কর্মীদের কথা তুলে ধরুক, বাংলার তৃণমূল কংগ্রেসের তৃণমূল স্তরের কর্মীদের নিয়ে পথ চলুক - আমরা সকলে এক জায়গায় এসেছি। এই উদ্দেশ্য, সিদ্ধান্তকে সামনে রেখেই আমরা চলব। এর মধ্যে কেউ যদি ভাবে এখানে এলে সিকিউরিটি প্রোটেকশন পাবে, সেটা তাদের ভাবনাচিন্তা। কিন্তু এরকম কোনও আশ্বাসন আমরা কাউকে দিচ্ছি না, দেব না। বেনোজল আটকাব। বেনোজল আটকাতে গেলে তো ছাকনি বানাতেই হবে। ছাকনি ছাড়া সংগঠন টিকবে না। আজকে সংগঠন যে জায়গায় দাঁড়িয়ে, তাকে মজবুত করতে গেলে, যাতে এমন কোনও ব্যক্তি দলের মধ্যে প্রবেশ করতে না পারে যার জন্য দলের ক্ষতি হবে, সেই ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত ভাবে আমরা যা পদক্ষেপ নেওয়ার, সতর্কতা অবলম্বন করার, তা আমরা করব।'























