Kunal Ghosh : '৩ মাস হয়নি, আর...' ! বিজেপি নেতাদের তোলাবাজি নিয়ে সরব তৃণমূল, কী জানালেন কুণাল ঘোষ ?
Kunal Ghosh On BJP Leaders Extortion Allegations : তোলাবাজি রুখতে বার্তা দিতে হচ্ছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি থেকে রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রীদের। এই অবস্থায় কটাক্ষ করে তৃণমূলও। কুণাল ঘোষ জানান...

কলকাতা : পাল্টেছে সরকার। বিধানসভা নির্বাচনের পর নতুন বিজেপি সরকার একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স নীতি'। কিন্তু তোলাবাজির অসুখ কি সেরেছে ? এই প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে বিজেপি নেতাদের দ্বারা সংঘটিত বিক্ষিপ্ত কয়েকটি ঘটনা। তোলাবাজি রুখতে গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য একের পর এক বার্তা দিয়েছেন। তোলাবাজি রুখতে বার্তা দিতে হচ্ছে রাজ্যের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ থেকে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকেও। অন্যদিকে, তোলাবাজি বন্ধ নিয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের এই বার্তাকেই কটাক্ষ করছে 'কালীঘাট তৃণমূল'।
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রতিনিয়ত বার্তা দিয়ে এসেছেন যে, দুর্নীতি হলেই কোনও আপোষ করা হবে না। যে বা যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত থাকবে, সরকার কড়া ব্যবস্থা নেবে। এখন প্রশ্ন, এবার কোন পদক্ষেপ নেবে সরকার ও দল ? দলের অন্দরের নেতাদের নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। বলেন, ''আমাদের বহু নেতা তোলাবাজির মধুতে আসক্ত''। শমীক ভট্টাচার্য জানান, ''সমস্ত কিছুর সমাধান করা যায়নি। আমি আমার দলের পক্ষ থেকে যদি দাঁড়িয়ে আপনাদের সামনে বলি যে আমি সমস্ত জায়গায় তোলাবাজি বন্ধ করে দিতে পেরেছি, ভুল বলছি। বিচ্যুতি আছে।'' এর পাশাপাশি, এই 'অসুখ' সারাতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ কড়া বার্তায় দেন নেতা ও কর্মীদের। বিজেপির রাজ্য সভাপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, '' প্রোমোটারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পার্টি আপনাকে ছাড়বে না। সে পুলিশই হোক, আর সে বিজেপির কোনও নেতাই হোক, কাউকে প্রোটেকশন দিতে গেলে আর মিউনিসিপ্যালিটি অফিসে যাতায়াত বাড়িয়ে দিলে পার্টি তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। যা করবে সরকার করবে। পার্টি কিন্তু আপনাকে রেয়াত করবে না।''
তোলাবাজির এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। কটাক্ষের সুরে, 'কালীঘাট তৃণমূলের' বিধায়ক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ''৩ মাস হয়নি একটা সরকারের, সেখানে শীর্ষ নেতৃত্বকে বলতে হচ্ছে তোলাবাজি নয়, তোলাবাজি নয়, তোলাবাজি নয়। তাহলে আপনারা এইটা প্রমাণ করে দিচ্ছেন যে, বিজেপির এই একটা বড় অংশ এই তোলাবাজিতে ঢুকে গেছে। তৃণমূলের সময় যে দু-তিনজন তোলাবাজিতে নাম করেছিল তাদের থেকে তোলা তুলছে।''
রাজনীতির রং পাল্টেছে। সরকার পাল্টেছে। কিন্তু, তোলাবাজি সংস্কৃতি কি পাল্টেছে? তোলাবাজির অসুখ কি সেরেছে? তৃণমূল আমলে প্রায় প্রতিদিনই
সিন্ডিকেট, তোলাবাজি ও কাটমানি শব্দগুলো শোনা যেত। নতুন সরকারের আমলে কি তা পরোপুরি বন্ধ হয়েছে? না কি বর্তমান সরকারের অস্বস্তিও বাড়ছে ? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে।























