Vande Bharat Sleeper : অত্যাধুনিক অ্যান্টি-কলিশন প্রযুক্তি, কবচের সুরক্ষা! হাওড়া-গুয়াহাটি ‘বন্দে ভারত স্লিপার’-এ আর কীসে কীসে চমক? ভাড়াই বা কত?
হাওড়া-গুয়াহাটির মধ্যে চালু হতে চলেছে দেশের প্রথম ‘বন্দে ভারত স্লিপার’ ট্রেন শনিবার থেকে। কী কী বৈশিষ্ট্য তার?

অরিত্রিক ভট্টাচার্য, কলকাতা : ভোটমুখী বাংলায় নয়া ট্রেন। গতির সঙ্গে বিলাসিতার মিশেলে হাওড়া-গুয়াহাটির মধ্যে চালু হতে চলেছে দেশের প্রথম ‘বন্দে ভারত স্লিপার’ ট্রেন শনিবার থেকে। দূরপাল্লার যাত্রায় এখন আর ক্লান্তি নয় বরং বিলাসবহুল বিছানায় শুয়েই গন্তব্যে পৌঁছবেন যাত্রীরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরেই অত্যাধুনিক এই ট্রেনের উদ্বোধন হতে চলেছে। এই ট্রেনটি পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, মালদা, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলার পাশাপাশি অসমের বঙ্গাইগাঁও ও কামরূপ মেট্রোপলিটন জেলায় পরিষেবা দেবে। কী কী বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে এই ট্রেনের?
কোন রুটে চলবে ট্রেন?
হাওড়া থেকে গুয়াহাটি রুটে ট্রেন থামবে—
- ব্যান্ডেল
- কাটোয়া
- মালদা টাউন,
- নিউ জলপাইগুড়ি
- নিউ কোচবিহার
- , নিউ বঙ্গাইগাঁও
- কামাখ্যা স্টেশন। আবার ফেরার সময়ে একই স্টেশনে থামবে ট্রেন।
বন্দে ভারত স্লিপারের ভাড়া কত?
যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই ভাড়া ঠিক হয়েছে বন্দে ভারত স্লিপারের।
- খাবার খরচ-সহ থার্ড এসির ভাড়া ২,৩০০ টাকা।
- সেকেন্ড এসি-র জন্য ৩,০০০ টাকা
- ফার্স্ট এসি-তে যাতায়াত করতে ৩,৬০০ টাকা খরচ হবে।
কতজন যাত্রী বহনে সক্ষম?
এই ট্রেনটি হতে চলেছে ১৬ কোচের । ৮২০ যাত্রীর যেতে পারেন। গোটা ট্রেন এসি। ১৬টি কোচ নিয়ে চলবে এই ট্রেন। এর মধ্যে ১১টি এসি থ্রি-টায়ার, চারটি এসি টু-টায়ার এবং একটি ফার্স্ট ক্লাস এসি কোচ থাকবে।
আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি কি রয়েছে?
যাত্রীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কোনও আপস করা হয়নি। এই ট্রেনে রয়েছে অত্যাধুনিক অ্যান্টি-কলিশন প্রযুক্তি। সব থেকে অত্যাধুনিক এবং আপগ্রেড ভার্সনের "কবচ" প্রক্রিয়া থাকছে এই ট্রেনটিতে। ট্রেনের প্রতিটি কোচে রয়েছে সেন্সর চালিত স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, যা দুর্ঘটনা রুখতে সক্ষম। এ ছাড়াও, প্রত্যেকটি কোচে রয়েছে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা।
- সময়ক্ষণ কী ?
হাওড়া থেকে কামাখ্যা অর্থাৎ গুয়াহাটিগামী বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস (২৭৫৭৫) ছাড়বে সন্ধ্যা ৬:২০ মিনিট নাগাদ। যা পৌঁছাবে পরের দিন সকাল ৮:২০ মিনিট নাগাদ। - কামাখ্যা থেকে বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস (২৭৫৭৫) ছাড়বে সন্ধ্যা ৬:১৫ মিনিট নাগাদ। হাওড়া পৌঁছাবে পরের দিন সকাল ৮:১৫ মিনিট নাগাদ।
কোন কোন দিন চলবে?
আপ এবং ডাউন দুটি ক্ষেত্রে এই সপ্তাহে ছয় দিন এই এক্সপ্রেস চলবে। তবে ডাউন হাওড়া-কামাখ্যা বুধবার এবং আপ কামাখ্যা - হাওড়া বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস বৃহস্পতিবার চলবে না। আপাতত মোট দুটি রেক আনা হয়েছে।
কোন কোন স্টেশনে দাঁড়াবে?
কামাখ্যা থেকে বেরিয়ে রঙ্গিয়া, নিউ বঙ্গাইগাঁও, নিউ আলিপুরদুয়ার, কিউ কোচবিহার, জলপাইগুড়ি রোড, নিউ জলপাইগুড়ি, আলুয়াবাড়ি রোড, মালদা টাউন, নিউ ফরাক্কা, আজিমগঞ্জ, কাটোয়া নবদ্বীপ এবং ব্যান্ডেল হয়ে হাওড়া পৌঁছবে।
দুরন্ত গতি
বন্দে ভারত স্লিপারের সর্বোচ্চ গতি ১৮০ কিমি প্রতি ঘণ্টা। এই ট্রেনের নকশা এতটাই অত্যাধুনিক, যে দুরন্ত গতিতে ছুটে চললেও যাত্রীরা কোনও ঝাঁকুনি অনুভব করবে না। ১৩ থেকে ১৫ ঘণ্টার মধ্যেই হাওড়া থেকে গুয়াহাটি পৌঁছবে এই ট্রেন।
ভাড়া কত লাগছে?
হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে ৪০০ কিলোমিটারের জন্য বাতানুকূল থ্রি-টিয়ারে ৯৬০ টাকা, বাতানুকূল টু-টিয়ারে ১২৪০ টাকা এবং প্রথম শ্রেণিতে ১৫২০ টাকা ভাড়া পড়বে। এর সঙ্গে যোগ হবে পাঁচ শতাংশ পণ্য-পরিষেবা কর। তবে, রেলের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যাঁরা নতুন ট্রেনে হাওড়া থেকে কামাখ্যা পর্যন্ত যাবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণিরভাড়া ৩৮৫০ টাকার কাছাকাছি হতে পারে। বাতানুকূল টু-টিয়ারে ওই ভাড়া ৩১৫০ টাকা এবং বাতানুকূল থ্রি-টিয়ারে সেই অঙ্ক ২৪৪০ টাকার কাছাকাছি হবে।
আরামদায়ক আসন
বন্দে ভারত স্লিপারের অন্দরসজ্জা ফাইভ স্টার হোটেলের থেকে কোনও অংশে কম নয়। ট্রেনের ভিতরে পা রাখলেই মনে হবে নামী হোটেল। উন্নত মানের বার্থ, এনার্জি-এফিসিয়েন্ট লাইটিং এবং আধুনিক শৌচাগার দীর্ঘ ট্রেন যাত্রার ক্লান্তি এক নিমেষেই দূর করে দেবে।
বিমানের মত পরিষেবা ?
বিমানের মতো বোতাম পরিষেবা যাতে আপার বার্থে সহজে পৌঁছনো যায়। যদিও এটি থাকবে শুধু ফার্স্ট ক্লাস বগিতে। এছাড়াও থাকছে টক ব্যাক ইউনিট। যাত্রীদের সঙ্গে ট্রেনের কর্মীদের সহজে যোগাযোগের জন্য থাকছে এই টক-ব্যাক ইউনিট।
সুস্বাদু খাবারের ব্যবস্থা
রসনা তৃপ্তির জন্যে বন্দে ভারত স্লিপারে মেনুতে রাখা হয়েছে আঞ্চলিক খাবারের ছোঁয়া। কলকাতা থেকে রওনা দিলে মিলবে নানা রকম বাঙালি খাবার। আবার গুয়াহাটি থেকে ফেরার পথে যাত্রীরা উপভোগ করতে পারবেন অসমের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ।
কোনও কোটা থাকছে?
এই ট্রেনে কোনো ভিআইপি বা জরুরি কোটা থাকছে না। কোনও আরএসি বা আংশিক ভাবে সংরক্ষিত কিংবা অপেক্ষমাণ তালিকার টিকিট দেওয়া হবে না। শুধুমাত্র সংরক্ষিত এবং নিশ্চিত আসনের টিকিটই প্রযোজ্য হবে। আসন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে মহিলা, বিশেষ ভাবে সক্ষম, প্রবীণ নাগরিক এবং রেলকর্মীদের ডিউটি পাসের জন্য কোটা থাকবে। তবে, তাঁদের জন্য কোনও ছাড় প্রযোজ্য হবে না। শিশুদের টিকিট কাটার ক্ষেত্রে রেলের চালু বিধিই প্রযোজ্য হবে।
পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কি বিধি?
পাঁচ বছরের কমবয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে আলাদা বার্থের জন্য আবেদন না করলে কোনও ভাড়া লাগবে না। পাঁচ থেকে ১২ বছর বয়সিদের ক্ষেত্রে অর্ধেক এবং ১২ বছরের বেশি বয়স হলে পুরো ভাড়া প্রযোজ্য হবে নতুন ট্রেনে।






















