SIR : এসআইআর নিয়ে রাজ্যের ভূমিকার কড়া সমালোচনা, নজিরবিহীন নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জজ বা ডিস্ট্রিক্ট জজ কে নিয়োগ করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট

বিজেন্দ্র সিংহ, নয়াদিল্লি: এবার SIR মামলায় বিরাট নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। এবার এসআইআর মামলায় পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়ায় নজিরবিহীন নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রক্রিয়াটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিল, আমলা নয়, লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নজরদারি করবেন জুডিসিয়াল অফিসাররা। তাঁদের পরামর্শ দেবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা। সেই অনুযায়ী কলকাতা হাইকোর্ট-এর প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করা হয়েছে, জেলা জজ বা অ্যাডিশ্যানাল ডিস্ট্রিক্ট জজ পদমর্যাদার কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের প্রতিটি জেলায় নিয়োগ করতে হবে। ডিসট্রিক্ট জাজ ও অ্যাডিশনাল জাজদের কাজে পরামর্শ দেবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা। আর বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকারের মনোনীত আধিকারিকরা সহায়তা করবেন।
কী বললেন প্রধান বিচারপতি?
বিচারপতি বলেন, 'দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাজ্য এবং কমিশন অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ করছে. .. দোষারোপের খেলা চলছে, SIR-মামলায় কড়া বার্তা প্রধান বিচারপতির । সুপ্রিম কোর্টের তরফে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জজ বা অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জজ-কে নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা এক কথায় নজিরবিহীন। জুডিশিয়াল অফিসারদের পরামর্শ দেওয়ার জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে যে স্ক্রুটিনি বাকি রয়েছে সেগুলির শুনানি করে সিদ্ধান্ত নেবেন তাঁরা। এই জুডিশিয়াল অফিসাররা যে নির্দেশ দেবেন সেটা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বলে মনে করতে হবে। রাজ্যকে অবিলম্বে এটা মানতে হবে, নির্দেশ দেন দেশের প্রধান বিচারপতি। জুডিসিয়াল অফিসারদের নির্দেশকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বলেই মানতে হবে বলে জানাল শীর্ষ আদালত।
এদিন শুনানির শুরুতে মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী কপিল সিব্বল জানান, 'আদালত এসআইআর-এর সময়সীমা একসপ্তাহ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে নথি আপলোড বন্ধ করে দিয়েছে কমিশন'। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জানতে চান, 'গ্রুপ B অফিসারদের কী অবস্থা?' কপিল সিব্বল জানান, রাজ্য সাড়ে ৮ হাজার গ্রুপ B অফিসার দিয়েছে। তখন আধিকারিক বদল নিয়ে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তার কি অবস্থা জানতে চান সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। নির্বাচন কমিশন জানায়, 'আমরা কিছু আধিকারিক বদল করতে চেয়েছিলাম। রাজ্য জানিয়েছে যে তারা বিচার করে দেখছে' । সব শুনে প্রধান বিচারপতি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, 'আশা করেছিলাম রাজ্য সহযোগিতা করবে, আমরা আশাহত'। রাজ্যের আইনজীবী মেনকার গুরুস্বামী আদালতকে জানান, 'ভারতের সব রাজ্যে সমান সংখ্যক SDO নেই। পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ৬৯ জন SDO আছেন'। তাতে প্রধান বিচারপতি বলেন, 'যদি পর্যাপ্ত অফিসার না দিতে পারেন তাহলে কমিশনকে জানিয়ে দিন , তারা নিজেদের পছন্দমত অফিসার নিয়োগ করবে।'
এদিন শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, 'দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাজ্য এবং কমিশন অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ করছে'। রাজ্যের ভূমিকায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এবার আমলা নয়, লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নজরদারি করবেন জুডিসিয়াল অফিসাররা। এই নির্দেশের পর 'ইলেক্টোরাল রিফর্মসের ইতিহাস তৈরি হল' বলে মন্তব্য করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
























