'বাবাকে পণের টাকা দিতে বল'! বউয়ের ঘরে বিষাক্ত সাপ ঢোকাল শ্বশুরবাড়ি, এরপর যা হল...
পণের টাকা না দেওয়ায় নববিবাহিতা মহিলাকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। সেই ঘরে একটি বিষাক্ত সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়।

নয়া দিল্লি: যৌতুক না দেওয়ায় ভয়ঙ্কর নির্যাতন। গত কয়েকদিনে দেশজুড়ে একাধিক পণ সংক্রান্ত অভিযোগের ঘটনা সামনে এসেছে। কোথাও পিটিয়ে মেরে ফেলা বয়েছে স্ত্রীকে, কোথাও দিনের পর নৃশংস অত্যাচারের খবর সামনে এসেছে। এবার কানপুরে নববিবাহিতার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটিয়েছে শ্বশুরবাড়ি, সেই ঘটনাকে ন্যক্করজনক বললেও কম বলা হবে।
পণের টাকা না দেওয়ায় নববিবাহিতা মহিলাকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। সেই ঘরে একটি বিষাক্ত সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়। অনেকক্ষণ লড়াই করেও সাপের কামড় খায় সদ্যবিবাহিতা। এরপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করলেও শ্বশুরবাড়ির তরফে তাঁকে ওই ঘরেই আটকে রাখা হয়। অবশেষে তার বোনের হস্তক্ষেপে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনাটি ঘটে কানপুর শহরের কর্নেলগঞ্জে। নববিবাহিতার বোন রিজওয়ানা জানান, রেশমাকে ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল এবং সাপটিকে ড্রেন দিয়ে ঘরে ঢোকানো হয়েছিল। যাতে সরাসরি কোনও যোগসূত্র না পাওয়া যায়। গভীর রাতে সাপটি রেশমার পায়ে কামড় দেয়, এমনটাই অভিযোগ রেশমার বোন।
তিনি এও জানান, রেশমা সাপের কামড় খেয়ে ব্যথায় চিৎকার করে উঠলেও পরিবারের সদস্যরা দরজা না খুলে বাইরে দাঁড়িয়ে হাসতে থাকে। কোনওভাবে, রেশমা ফোনে রিজওয়ানার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। দিদির এই অবস্থা জানতে পেরেই কোনওরকমে ছুটে আসে বোন। রিজওয়ানা তাকে গুরুতর অবস্থায় দেখতে পান এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে তাকে জরুরি চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।
রিজওয়ানা বলেন, ২০২১ সালের ১৯ মার্চ শাহনাওয়াজের সঙ্গে রেশমার বিয়ের পরপরই সমস্যা শুরু হয়। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকেরা যৌতুকের জন্য তাকে কটূক্তি ও হয়রানি শুরু করে। কিছুদিন আগে, ১.৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অতিরিক্ত ৫ লক্ষ টাকার দাবি পূরণ না হওয়ায় বিরোধ আরও তীব্র হয়।
এর আগে মধ্যপ্রদেশে পণের টাকা না দেওয়ায় রাগে স্ত্রীর মুখে গরম ছুরি ঢুকিয়ে দিয়েছিল স্বামী। অভিযোগ উঠেছে, পণ দেওয়া নিয়ে বচসা বাড়ায় তাঁর স্বামী প্রথমে তাঁকে বেঁধে মারধর করেন। এরপর ছুরি গরম করে মুখের ভিতর ঢুকিয়ে দেন। মর্মান্তক অত্যাচারের ফলে খুশবুর শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন তৈরি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মদ্যপ অবস্থায় খুশবুর স্বামী প্রথমে তাঁকে লাথি-ঘুষি মেরে বেধড়ক মারধর করেন।






















