Sabyasachi Laskar : NEET - UG তে রাজ্যে প্রথম, তবু ডাক্তারি নয়, পড়বেন ইঞ্জিনিয়ারিংই, কোন মন্ত্রে পরপর সাফল্য সব্যসাচী লস্করের?
সাধারণত NEET-UG-তে শীর্ষস্থান অর্জনকারী হলে অধিকাংশ পড়ুয়াই চিকিৎসাবিদ্যা নিয়েই এগিয়ে যেতে চান। কিন্তু সব্যসাচী তো সব ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রমী।

কলকাতা : সর্বভারতীয় ডাক্তারি এন্ট্রান্স পরীক্ষায় তিনি এই রাজ্যে প্রথম। সারা ভারতে তাঁর পোজিশন ৩৫। ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট বা NEET-UG-এ পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ নম্বর তাঁর ঝুলিতে। তবু ডাক্তারি নয়, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চান বিডিএম ইন্টারন্যাশনালের ছাত্র সব্যসাচী লস্কর। মেডিক্যাল এন্ট্রানস টেস্টে তিনি রাজ্যের টপার, কিন্তু তাঁর পরবর্তী গন্তব্য আইআইটি খড়গপুর। পড়বেন কম্পিউটের সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং। এই সিদ্ধান্তে অনেকেই অবাক হলেও,একটু আশ্চর্য হননি সব্যসাচীর বাবা-মা। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার বাবা ও শিক্ষিকা মা বরাবরই জানতেন, ছেলে আইআইটি-তে পড়তে চায়। এ চাওয়া তার ছোট্ট থেকেই। সাধারণত NEET-UG-তে শীর্ষস্থান অর্জনকারী হলে অধিকাংশ পড়ুয়াই চিকিৎসাবিদ্যা নিয়েই এগিয়ে যেতে চান। কিন্তু সব্যসাচী তো সব ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রমী।
ছোট থেকেই স্কুলের উজ্জ্বল ছাত্র। মায়ের কথায়, নতুন ক্লাসের বই পেয়েই আগ্রহের চোটে মাস দুয়েকে শেষ করে ফেলত। তারপর শুরু হয়ে যেত বাইরের বই পড়া। সব্যসাচীর কথায়, ছোট থেকেই চেষ্টা করতাম স্কুলে যা পড়ানো হচ্ছে, তার থেকে এগিয়ে থাকতে আর অনেক অনেক বাইরের বই পড়তে। যে কোনও বিষয়ের গভীরে জ্ঞান অর্জন ছিল তাঁর হবি ! পড়তে ভালবাসের বিজ্ঞানীদের জীবন , তাঁদের আবিষ্কারের কাহিনি। যে কোনও বিষয়ের ইতিহাস নিয়ে ঘাঁটা তাঁর ভীষণ পছন্দের। জানালেন সব্যসাচী।
সব্য়সাচীর স্কুল বি ডি এম ইন্টারন্যাশনাল - এর প্রিন্সিপাল মধুমিতা সেনগুপ্ত জানালেন, সব্যসাচী একদম ছোট থেকেই সেই স্কুলের ছাত্র। ২০২৪ সালে ৫০০ য় ৫০০ পেয়ে সিবিএসসি দশমে ন্যাশনাল টপার হয়। অসাধারণ ও অনন্য সেই সাফল্য। এবারও সেই পরম্পরা জারি রেখেছে জয়শীর্ষ বসু নামে এক ছাত্র। ছোট থেকেই পড়াশোনার প্রতি খুবই মনযোগী সব্যসাচী। শুধু পড়াশোনা নয়, ছবি আঁকাতেও অসাধারণ সে। ভাল মানুষ সে। কোনও গৃহশিক্ষক ছাড়াই এই সাফল্যের নজির গড়েছে সে। একাদশ - দ্বাদশেও স্কুলের উপস্থিতিতে ঘাটতি হয়নি তাঁর। এটাই তারিফ করার মতো, অন্যদেরও দেখে শেখার মতো। স্কুলের গাইডেন্সও পড়ুয়াদের জন্য খুব জরুরি। সেই সঙ্গে প্রিন্সিপাল মধুমিতা সেনগুপ্ত জানালেন, ভাল ফলাফল করতে নিয়মিত পড়াশোনা করার ও ভালবেসে পড়াশোনা করার অভ্যেস তৈরি করতে হবে। স্কুল বাচ্চাদের প্রতিভা বিকশিত হওয়ার নানারকম সুযোগ দেয়। তার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের রোজকার পড়া, রোজ করতে হবে, জমিয়ে রাখলে হবে না। দরকারে শিক্ষিকা ও সহপাঠীদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রযুক্তিগত ভাবেও নিজেদের আপ- টু - ডেট থাকতে হবে।
সিবিএসসি দশমে তিনি ১০০ শতাংশ নম্বর পেয়ে সারা দেশে শীর্ষ স্থান পেয়েছিলেন। সিবিএসসি দ্বাদশেও তিনি স্থানাধিকারী। জেইই-তেও পেয়েছেন দুর্দান্ত স্থান। তারপরই খড়গপুর আইআইটি-তে পড়বেন , ঠিক করে ফেলেছেন। একদিকে যখন NEET-UG নিয়ে সারা দেশে তুঙ্গে তরজা, তখন রি-এগজামিনেশনের আগেই সব্যসাচী লস্কর আইআইটি খড়গপুরে ভর্তি হয়ে যান। এরপর সেই পরীক্ষায় রাজ্যের সেরা হয়ে এবং সারা দেশে ৩৫তম স্থান অর্জন করেন। তাও সব্যসাচী তাঁর সিদ্ধান্তে অনড়।
পরপর সব পরীক্ষায় এমন নজরকাড়া সাফল্যের নেপথ্যে ফর্মুলাটি কী ? সব্যসাচীর কথায়, বহুদিন থেকেই বিভিন্ন মক টেস্ট দিয়ে-দিয়ে নিজেকে তৈরি রাখা। নিজের দক্ষতা বাড়াতে ছোট থেকেই ছোট-বড় নানা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। অংশ নিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াডেও । একাধিক সর্বভারতীয় পরীক্ষায় তিনি নজরকাড়া ব়্যাঙ্ক পেয়েছেন। এই বিষয়টিই তাঁকে আরও শানিত করেছে। সব্যসাচীর মা চামেলি সর্দার, পেশায় শিক্ষিকা। তাঁর কথায় ছেলেকে পড়ার জন্য কোনওদিন বলতে হয়নি। একদম ছোট থেকেই অসম্ভব মনোযোগী ছিলেন। সেটা বেড়েছে বই কমেনি।
গান, আঁকা, বই পড়া - এই ছিল তাঁর পড়াশোনার বিরতিতে আনন্দের জায়গা। অনলাইন ক্লাস আর পড়াশোনার প্রয়োজন ছাড়া কোনওদিন মোবাইল ঘাঁটেননি। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ছিলেন যোজন-যোজন দূরে। এটাই পড়াশোনায় মনোযোগ অটল রাখার মন্ত্র বলে মনে করেন সব্যসাচী। পড়াশোনার পাশাপাশি ভাল মানুষ হয়ে উঠুক ছেলে, এটাই চান সব্যসাচীর মা।
Education Loan Information:
Calculate Education Loan EMI























