UPSC Success Story: খাবার জোটেনি, টাকা ছিল না, ছিল জেদ! রিকশাচালকের ছেলের দারিদ্র্যকে হারিয়ে UPSC-তে বাজিমাত
"যে ছেলেকে একদিন বলা হয়েছিল, 'তুই রিকশাই চালাবি', সেই ছেলেই আজ দেশের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে। গোবিন্দ জয়সওয়ালের গল্প প্রমাণ করে—স্বপ্ন দেখার সাহস থাকলে দারিদ্র্য কোনও বাধা নয়।"

কলকাতা: ভারতের অন্যতম অনুপ্রেরণার নাম গোবিন্দ জয়সওয়াল (Govind Jaiswal)। উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম তাঁর। বাবা ছিলেন একজন রিকশাচালক। সংসারে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। কিন্তু সেই অভাবই একদিন তাঁকে দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষায় সাফল্য এনে দেয়।
ছোটবেলার এক অপমান বদলে দেয় জীবন
মাত্র ১১ বছর বয়সে এক ধনী বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে অপমানিত হতে হয়েছিল গোবিন্দকে। কারণ, তাঁর বাবা ছিলেন একজন রিকশাচালক। সেই ঘটনা তাঁর মনে গভীর দাগ কাটে। পরে তিনি জানতে পারেন, সমাজে সম্মান পেতে হলে বড় কিছু করতে হবে। তখনই তিনি ঠিক করেন, দেশের সবচেয়ে সম্মানজনক চাকরি IAS অফিসার হবেন।
দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিদিন যুদ্ধ
গোবিন্দের বাবা নারায়ণ জয়সওয়াল রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন। কিছু রিকশা ভাড়াতেও দিতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে আর্থিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকে। পরিবারের সমস্ত আশা-ভরসা ছিল একমাত্র ছেলেকে নিয়ে। আশপাশের মানুষ কটাক্ষ করে বলতেন, "পড়াশোনা করে কী হবে? দুটো রিকশার মালিক হতে পারবে!" কিন্তু তিনি থামেননি।
IAS হওয়ার জন্য দিল্লিতে সংগ্রাম
UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তিনি দিল্লি চলে যান। সেখানে টাকার অভাবে অনেক সময় খাবার না খেয়েই দিন কাটিয়েছেন। খরচ চালাতে গণিতের টিউশন পড়াতেন। ছেলের পড়াশোনার জন্য বাবা নিজের জমি পর্যন্ত বিক্রি করে দেন। একই সময়ে বাবার শারীরিক অবস্থাও খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু গোবিন্দের লক্ষ্য ছিল একটাই— IAS অফিসার হওয়া।
প্রথম চেষ্টাতেই বাজিমাত
অদম্য পরিশ্রমের ফল মেলে ২০০৬ সালে। প্রথম চেষ্টাতেই UPSC পরীক্ষায় সারা দেশে ৪৮তম স্থান অর্জন করেন গোবিন্দ জয়সওয়াল। তখন তাঁর বয়স মাত্র ২২ বছর। তিনি হিন্দি মাধ্যমের ছাত্র ছিলেন এবং দর্শন ও ইতিহাস ছিল তাঁর ঐচ্ছিক বিষয়। তাঁর প্রথম বেতনের টাকা খরচ হয়েছিল বাবার চিকিৎসার জন্য।
মাত্র ১০x১২ ফুটের ঘরে বড় হওয়া
গোবিন্দ জয়সওয়াল তাঁর তিন বোন ও বাবার সঙ্গে বারাণসীর একটি ছোট ১০x১২ ফুটের ঘরে থাকতেন। পরিবারে আর্থিক সঙ্কট এতটাই ছিল যে দিনের পর দিন বিদ্যুৎ থাকত না। প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হতো, তবুও তিনি কেরোসিনের আলোয় পড়াশোনা চালিয়ে যেতেন।
খুব ছোট বয়সেই মাকে হারান
গোবিন্দ যখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়েন, তখন তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়। এরপর পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। সংসারের সমস্ত দায়িত্ব প্রায় একাই কাঁধে তুলে নেন তাঁর বাবা নারায়ণ জয়সওয়াল।
সমাজের কটাক্ষ তাঁকে ভেঙে দিতে পারেনি
অনেকে তাঁকে বলতেন, "পড়াশোনা করে কী হবে? শেষ পর্যন্ত তো অটো বা রিকশাই চালাতে হবে।" এমনকি তাঁর বোনদের অন্যের বাড়িতে কাজ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি এই কথাগুলোকে অপমান নয়, প্রেরণা হিসেবে নিয়েছিলেন।
হিন্দি মাধ্যমে পড়েও UPSC-তে সাফল্য
অনেকেই মনে করেন ইংরেজি মাধ্যম ছাড়া UPSC-তে সাফল্য পাওয়া কঠিন। কিন্তু গোবিন্দ হিন্দি মাধ্যমে পড়াশোনা করে প্রথম চেষ্টাতেই UPSC-তে অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ৪৮ অর্জন করেন।
বাবার ত্যাগই ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি
ছেলের স্বপ্ন পূরণের জন্য বাবা নিজের জমি বিক্রি করে তাঁকে দিল্লিতে পড়তে পাঠান। দিল্লিতে গিয়ে গোবিন্দ টিউশন পড়িয়ে নিজের খরচ চালাতেন এবং অনেক সময় খাবারও এড়িয়ে যেতেন টাকা বাঁচানোর জন্য।
প্রথম চেষ্টাতেই ইতিহাস
মাত্র ২২ বছর বয়সে প্রথম প্রচেষ্টায় UPSC পরীক্ষায় সফল হন তিনি। পরে তিনি ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবার (IAS) AGMUT ক্যাডারের অফিসার হন এবং বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চশিক্ষা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।
Education Loan Information:
Calculate Education Loan EMI
Before You Go
Madhyamik 2026: ইতিহাসে ফুল মার্কস পাওয়া মোটেও শক্ত নয়, মাধ্যমিকের লাস্ট মিনিট টিপস























