Success Story: বাবার পেশা ছাগল চরানো, সংসারে অভাব-অনটন! একসময় প্রয়োজনে সাহায্য করেনি পুলিশও, সেই পরিবার থেকেই IPS বিরুদেব
মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরের ইয়ামগে গ্রামের বিরুদেব সিদ্ধাপ্পা ঢোণে আর্থিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে UPSC 2024-এ ৫৫১ র্যাঙ্ক পান। ছাগল চরানো বাবার ছেলে কীভাবে IPS হলেন, জানুন তাঁর অনুপ্রেরণার গল্প।

মুম্বই: একটা মোবাইল হারিয়েছিল। থানায় গিয়েও ঠিকমতো সাহায্য পাননি। সেই ঘটনাই বদলে দিয়েছিল জীবনের লক্ষ্য। ঠিক করেছিলেন, একদিন নিজেই পুলিশ অফিসার হবেন। তারপর শুরু হয় লড়াই। সীমিত আর্থিক সামর্থ্য, ছোট গ্রামের জীবন, পরিবারের কষ্ট—সবকিছুকে পিছনে ফেলে UPSC-র প্রস্তুতি নেন। শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন পূরণ হয়।
মহারাষ্ট্রের কোলহাপুর জেলার কাগল তহশিলের ইয়ামগে গ্রামের বিরুদেব সিদ্ধাপ্পা আজ বহু তরুণের কাছে অনুপ্রেরণার নাম। ২০২৪ সালের UPSC Civil Services Examination-এ অল ইন্ডিয়া ৫৫১তম র্যাঙ্ক অর্জন করে তিনি IPS হিসেবে নির্বাচিত হন। বয়স তখন ২৭।
ছোটবেলা থেকেই জীবনটা সহজ ছিল না
বিরুদেবের পরিবার ছিল আর্থিকভাবে দুর্বল। তাঁর বাবা সিদ্ধাপ্পা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। এরপর পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে ছাগল চরানোর কাজ শুরু করেন।
অভাব ছিল, কিন্তু ছেলের পড়াশোনার ক্ষেত্রে বাবা-মা পিছিয়ে যাননি।
বিরুদেবও পড়াশোনায় শুরু থেকেই ভালো ছিলেন। কাগল তহশিলের মুরগুড় কেন্দ্রে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় ভালো ফল করেন। এরপর পড়াশোনার জন্য ভর্তি হন পুনের COEP Engineering College-এ।
অর্থাৎ, যে পরিবারের কাছে প্রতিদিনের সংসার চালানোই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ, সেই পরিবারের ছেলের লক্ষ্য তখন দেশের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা।
একটি মোবাইল হারানোই বদলে দিল স্বপ্ন
বিরুদেবের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে একটি ছোট ঘটনায়।
একদিন তাঁর মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। অভিযোগ জানাতে তিনি থানায় যান। কিন্তু সেখানে প্রত্যাশিত সাহায্য না পাওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে ভিতর থেকে নাড়িয়ে দেয়।
সেই সময়ই তাঁর মনে প্রশ্ন তৈরি হয়—
“পুলিশ যদি মানুষের সমস্যার সমাধান করার জায়গা হয়, তাহলে আমি নিজেই কেন পুলিশ অফিসার হব না?” এই ঘটনা থেকেই IPS হওয়ার সংকল্প আরও শক্ত হয় বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একটা খারাপ অভিজ্ঞতাকে হতাশা হিসেবে না দেখে সেটাকেই নিজের জীবনের লক্ষ্য বানিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। UPSC-র প্রস্তুতির জন্য পাড়ি দিলেন দিল্লিতে। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়াশোনা শেষ করার পর বিরুদেব UPSC-র প্রস্তুতির জন্য দিল্লিতে যান। এখানেও সমস্যা ছিল অর্থ। পরিবারের হাতে প্রচুর টাকা ছিল না। তবুও ছেলের স্বপ্ন যাতে থেমে না যায়, তার জন্য তাঁর বাবা প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার করে পাঠাতেন। পরিবারের পক্ষে এই টাকা জোগাড় করাও সহজ ছিল না।
একদিকে দিল্লির মতো শহরে থাকা ও পড়াশোনার খরচ, অন্যদিকে বাড়ির সীমিত আয়—দুটির মধ্যে ভারসাম্য রেখে এগোতে হয়েছে বিরুদেবকে। বাবা মাঝে মাঝে তাঁকে অন্য কোনও চাকরি করে নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন। কারণ পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি ছিল কঠিন। কিন্তু বিরুদেব নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাননি।
লক্ষ্য ছিল একটাই—অফিসার হওয়া
UPSC এমন একটি পরীক্ষা যেখানে শুধু মেধা থাকলেই হয় না। দীর্ঘ প্রস্তুতি, ধারাবাহিকতা, মানসিক চাপ সামলানোর ক্ষমতা এবং বারবার নিজের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার প্রয়োজন হয়। বিরুদেবের গল্পের সবচেয়ে বড় শিক্ষা এখানেই। তিনি কোনও বিলাসবহুল পরিবেশ থেকে উঠে আসেননি। বড় শহরের স্বচ্ছল পরিবারও তাঁর ছিল না। ছিল একটি ছোট গ্রামের পরিবার। ছিল বাবার কঠোর পরিশ্রম। ছিল সীমিত অর্থ। আর ছিল নিজের উপর বিশ্বাস। তারপর এল সেই দিন ২০২৪ সালের UPSC Civil Services Examination-এর ফল প্রকাশের পর বিরুদেবের জীবনের সবচেয়ে বড় খবরটি আসে। অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক—৫৫১। তিনি UPSC-তে সফল হয়েছেন। আর তাঁর সাফল্য শুধু তাঁর নিজের নয়। কাগল তহশিলের জন্যও তা ছিল বিশেষ ঘটনা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁকে কাগল তহশিল থেকে UPSC-তে সফল হওয়া প্রথম প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সবচেয়ে আবেগের মুহূর্ত ছিল তাঁর বাবা-মায়ের জন্য। তাঁদের পড়াশোনা খুব বেশি দূর এগোয়নি। তাই UPSC-র ফল বা র্যাঙ্কের জটিল হিসাব তাঁরা হয়তো পুরোপুরি বুঝতে পারেননি। কিন্তু তাঁরা বুঝেছিলেন একটি কথা— তাঁদের ছেলে এবার ‘সাহেব’ হয়েছে।
এই গল্প শুধু IPS হওয়ার গল্প নয়
বিরুদেবের সাফল্যের গল্পকে শুধু “ছাগল চরানো পরিবারের ছেলে IPS হলেন”—এই এক লাইনে আটকে রাখলে গল্পের আসল গুরুত্বটাই হারিয়ে যায়।
আসল গল্পটা হল—
অভাব আপনার শুরুটা ঠিক করে দিতে পারে, কিন্তু শেষটা নয়। একটি মোবাইল হারানোর ঘটনা তাঁকে হতাশ করতে পারত। পরিবারের আর্থিক সমস্যা তাঁকে চাকরি নিতে বাধ্য করতে পারত। বাবার সীমিত আয় তাঁকে স্বপ্ন ছেড়ে দিতে বাধ্য করতে পারত। কিন্তু তিনি কোনওটাকেই শেষ কথা হতে দেননি। বরং প্রতিটি সমস্যাকে নিজের লক্ষ্যের দিকে আরও এক ধাপ এগোনোর কারণ বানিয়েছেন।
আজ তাঁর পরিচয় শুধু একজন গ্রামের ছেলে হিসেবে নয়। বাবা ছাগল চরিয়েছেন। ছেলে সেই পরিবারের নাম পৌঁছে দিয়েছেন UPSC-র মেধাতালিকায়। আর সেই কারণেই বিরুদেব সিদ্ধাপ্পা ঢোণের গল্প শুধু একটি সাফল্যের গল্প নয়—এটি এমন একটি গল্প, যা হাজার হাজার UPSC পরীক্ষার্থীকে মনে করিয়ে দেয়:
“শুরুটা যত কঠিনই হোক, স্বপ্নটা বড় হলে লড়াই থামানো যায় না।”
Education Loan Information:
Calculate Education Loan EMI






















