Vantara University : গুজরাতের জামনগরে বন্যপ্রাণী ও পশুচিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করবে ভানতারা
Anant Ambani News: বিশ্বের প্রথম একত্রিত বা অখণ্ড আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবে এই ইউনিভার্সিটি, যেটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পশুচিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রতি নিজেদের উৎসর্গ করবে।

Anant Ambani News: ভানতারা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ উদ্যোগের পর এবার গুজরাতের জামনগরে 'ভানতারা ইউনির্ভার্সিটি' প্রতিষ্ঠা করবেন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অনন্ত অম্বানি। নিজেই এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। বিশ্বের প্রথম একত্রিত বা অখণ্ড আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবে এই ইউনিভার্সিটি, যা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পশুচিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রতি নিজেদের উৎসর্গ করবে। বিশেষ শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করাই এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য।
এই বিশ্ববিদ্যালয়টি মূলত প্রাণিকল্যাণ, বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন ও দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে। এই প্রতিষ্ঠান পশুচিকিৎসা, বন্যপ্রাণী পরিচর্যা ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের পেশাদার গড়ে তুলবে। পাশাপাশি ভারতের জ্ঞান-ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রগতিশীল শিক্ষাব্যবস্থা বা মডেল তৈরি করতে সচেষ্ট থাকবে এই ইউনির্ভার্সিটি।
এই উদ্যোগ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে অম্বানি জানান, দুর্দশাগ্রস্ত প্রাণীদের প্রত্যক্ষ করে তাদের পরিচর্যায় বর্তমান ঘাটতিগুলি উপলব্ধি করেছেন তিনি। সেখান থেকেই তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অর্জন। যা এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি আরও বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি প্রাচীন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের চেতনা ও "আ নো ভদ্রাঃ ক্রতবো যন্তু বিশ্বতঃ" (চারদিক থেকে শুভ চিন্তা বা জ্ঞান আমাদের দিকে ধাবিত হোক)—এই দর্শনে অনুপ্রাণিত। যার লক্ষ্য হল, প্রাণ রক্ষার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ একটি প্রজন্ম গড়ে তোলা।
বিশ্ববিদ্য়ালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের প্রতীকী নকশায় এই দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন ঘটেছে। নালন্দার ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত প্রাচীন বিন্ধ্য পর্বতমালা থেকে সংগৃহীত বিজোলিয়া বেলেপাথরের দুটি খণ্ডকে এই আয়োজনের অঙ্গ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যা ভারতের শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য ও দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহ্যেরই পরিচয় বহন করে।
হিন্দু রীতিনীতি মেনে আয়োজিত এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে শিক্ষা জগত, সংরক্ষণ, বিজ্ঞান ও জনজীবনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। যাদের মধ্যে অম্বানির শিক্ষক ও পরামর্শদাতারাও ছিলেন। এক ছাতার তলায় সমবেত হয়েছিলেন অনেকে। অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ রীতি ছিল, ভারতের জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ বিভিন্ন অঞ্চল—বনভূমি ও জলাভূমি থেকে শুরু করে শুষ্ক অঞ্চল ও হিমালয় সংলগ্ন ভূখণ্ড থেকে সংগৃহীত মাটি, জল ও পাথর নিয়ে আসা। যা আসলে দেশের পরিবেশগত বৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গভীর সংযোগের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাই লক্ষ্য
ভানতারা ইউনিভার্সিটিকে বহুবিষয়ক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। যেখানে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বাস্তবসম্মত অনুশীলনকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে যোগ করা হবে। ভানতারার নিজস্ব কাজ পরিচালনার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হল, মাঠে-ময়দানের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে সুসংগঠিত শিক্ষাক্রম, পেশাগত প্রশিক্ষণ ও বিশ্বজনীন প্রাসঙ্গিক কাঠামোর রূপ দেওয়া।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্যপ্রাণী চিকিৎসা ও সার্জারি, নিউট্রিশন, বিহেবিয়ারাল সায়েন্সেস, জেনেটিক্স, এপিডেমিওলজি, 'ওয়ান হেলথ' (One Health) কনসেপ্ট, কনজারবেশন পলিসি ও প্রাণীদের আবাসস্থল ডিজাইন নিয়ে পড়ানো হবে। এখানে বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, ফেলোশিপ ও বিশেষ পাঠক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই শিক্ষার পাঠ্য়ক্রমগুলি বিশেষ কলেজের মাধ্যমে পরিচালিত হবে, যা ভানতারার বর্তমান কর্মক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ ছাড়াও সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য বৃত্তি চালু করা হবে এখানে। যা প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধাগুলিতে তাদের ব্যাপকতর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে।
এই ক্যাম্পাসে উন্নত অ্য়াকাডেমিক ও ক্লিনিক্যাল পরিকাঠামোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও আবাসিক সুবিধাও থাকবে। এই প্রতিষ্ঠান বন্যপ্রাণীর স্বাস্থ্য, সংরক্ষণ পদ্ধতি ও প্রাণী কল্যাণের লক্ষ্যে কর্মমুখী গবেষণাকে অগ্রাধিকার দেবে। এই অ্যাকাডেমিক মডেলটি ইন সিটু ও এক্স সিটু উভয় সংরক্ষণকে যোগ করবে। যা প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রকে বৈজ্ঞানিক যত্ন ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা কৌশলের সঙ্গে জুড়ে দেবে।
সংরক্ষণ, শিক্ষা ও উদ্ভাবনের একটি বৃহত্তর উদ্যোগ
মূলত, এই বিশ্ববিদ্যালয়টির উদ্বোধন ভারতে সংরক্ষণ-কেন্দ্রিক শিক্ষা প্রসারিত করার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। এই অনুষ্ঠানে ভানতারা, ‘ভানতারা ইউনিভার্সিটি ফাউন্ডিং ফেলোস’ প্রোগ্রাম ও ‘এভরি লাইফ ম্যাটারস’ বৃত্তির মতো উদ্যোগের ঘোষণা করেছেে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জ্ঞানকে সুরক্ষার সঙ্গে যোগ করার একটি বৃহত্তর আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভানতারা ইউনিভার্সিটি নিজেকে একটি অ্য়াকাডেমিক প্রতিষ্ঠানের চেয়েও বেশি কিছু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ভানতারা বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে, যেখানে মানবিক সংবেদনশীলতা ও যুক্তিনির্ভর বিজ্ঞানের যোগসূত্র তৈরি হয়। ভানতারার দৃষ্টিভঙ্গি বলে, বন্যপ্রাণী রক্ষা করার জন্য শুধু সচেতনতা যথেষ্ট নয়; এর জন্য দরকার উন্নত পরিকল্পনা, দক্ষ মানুষ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা।
Education Loan Information:
Calculate Education Loan EMI























