West Bengal Assembly Elections 2026: ‘১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় তৃণমূল, তার পরও…’, কলকাতায় এসে জোটসঙ্গীকেই বিঁধলেন মল্লিকার্জুন খড়গে, বোঝাপড়ায় কি ইতি?
Mallikarjun Kharge Attacks TMC-BJP: কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ উপলক্ষে মঙ্গলবার কলকাতায় পা রাখেন খড়গে। এর সেখানেই তৃণমূল-বিজেপিকে একসঙ্গে আক্রমণ করেন তিনি।

কলকাতা: দূরত্ব সত্ত্বেও পারস্পরিক বোঝাপড়া ছিল বরাবর। কিন্তু তৃণমূল এবং কংগ্রেসের মধ্যেকার সেই সমীকরণ কি বদলাচ্ছে এবার? পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই প্রশ্ন উস্কে দিলেন খোদ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে। কলকাতায় এসে তৃণমূল এবং বিজেপি-কে কার্যত একসারিতে বসিয়ে আক্রমণ শানালেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গে ১৫ বছর ধরে তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলেও, কিছু পাল্টায়নি বলে মন্তব্য করলেন। বিজেপি-র বিরুদ্ধে মেরুকরণের রাজনীতির অভিযোগ করলেন। (Mallikarjun Kharge Attacks TMC-BJP)
কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ উপলক্ষে মঙ্গলবার কলকাতায় পা রাখেন খড়গে। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, "১৫ বছর ধরে বাংলায় তৃণমূল ক্ষমতায় রয়েছে। তার পরও বাংলায় কিছু পাল্টায়নি। এখানে শিল্প আসা প্রয়োজন, কর্মসংস্থান জরুরি। অন্য দিকে রয়েছে বিজেপি। বাংলার কথা উঠলে অর্থনীতির কথা বলে না বিজেপি, শুধু মেরুকরণের কথা বলে। ওদের রাজনীতিই মেরুকরণের উপর টিকে রয়েছে।" (West Bengal Assembly Elections 2026)
যে সময় খড়গে এই মন্তব্য করলেন তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করতে গিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে তাদের আঁতাতের অভিযোগ তুলতে শোনা যায় তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। পশ্চিমবঙ্গ থেকে আমলা-অফিসারদের তামিলনাড়ুতে বদলি করা নিয়ে আক্রমণ শানান মমতা। তাতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, "বাংলায় যাঁরা আইনশৃঙ্খলা দেখেন, তাঁদের সবাইকে তামিলনাড়ু পাঠিয়ে দিয়েছেন। এত ভাব তামিলনাড়ুর সঙ্গে? ভিতরে ভিতরে নিশ্চয়ই কংগ্রেস আর স্ট্যালিনের সঙ্গে বোঝাপড়া আছে!"
অথচ এক মাস আগে পর্যন্ত পরিস্থিতি একেবারে অন্য রকম ছিল। কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, পশ্চিমবঙ্গে ফের তৃণমূলই ক্ষমতা দখল করতে চলেছে। সিঙ্ঘভি জানান, কংগ্রেস এবার পশ্চিমবঙ্গে বড় কিছু করতে পারবে বলে তাঁর মনে হয় না। বিজেপি যতই হাঁকডাক করুক না কেন, তারা পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সেই সময় সিঙ্ঘভির ওই মন্তব্য ঘিরে অস্বস্তিতে পড়েন প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বও। রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে কথা না বলে এই ধরনের মন্তব্য করা সিঙ্ঘভির উচিত হয়নি বলে জানান তাঁরা।
আবার I.N.D.I.A জোটের শরিক হিসেবেও জাতীয় স্তরে কংগ্রেসের সঙ্গে ভাল বোঝাপড়াই ছিল তৃণমূলের। এমনকি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী শিবিরের মুখ কে হবেন, তা নিয়ে বৈঠক হলে খড়গের নামই প্রস্তাব করেন মমতা। রাহুল গাঁধীর প্রতি অপত্য স্নেহও লুকোননি মমতা। আবার ভোটচুরির অভিযোগ তুলে বিরোধী দলগুলিকে নিয়ে দিল্লিতে যে বিশেষ আয়োজন করেন রাহুল, সেখানে তাঁর সঙ্গে আলোচনায় মগ্ন থাকতে দেখা যায় অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়কে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই সমীকরণ বদলাল কি না, আজ খড়গের মন্তব্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।





















