Bengal Assembly Election 2026 Live Results: লোডশেডিং করে দেওয়া হতে পারে ! ঠিক কোথায় কোথায় ... কী আশঙ্কা অভিষেক - মমতার, সামনে বিস্ফোরক দাবি
পরিবর্তন নাকি প্রত্যাবর্তন— মিলবে সেই বহু প্রতীক্ষিত উত্তর। তবে ভোট গণনার আগের রাতেও রাজনৈতিক চাপানউতোর, সতর্কতা এবং স্নায়ুযুদ্ধ অব্যাহত।

দেড় মাসের রাজনৈতিক যুদ্ধ শেষ। অপেক্ষা এখন শুধু ফল ঘোষণার। সোমবার সূর্যাস্তের আগেই স্পষ্ট হয়ে যাবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য পশ্চিমবঙ্গের রাশ কার হাতে থাকবে। পরিবর্তন নাকি প্রত্যাবর্তন— মিলবে সেই বহু প্রতীক্ষিত উত্তর। তবে ভোট গণনার আগের রাতেও রাজনৈতিক চাপানউতোর, সতর্কতা এবং স্নায়ুযুদ্ধ অব্যাহত।
লোডশেডিং নিয়ে সতর্ক মমতা-অভিষেক
শনিবার কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, বৈঠকে বিশেষভাবে লোডশেডিং নিয়ে সতর্ক করা হয় দলীয় কর্মী ও কাউন্টিং এজেন্টদের। সূত্রের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “গণনাকেন্দ্রে ১০ সেকেন্ডও যেন লোডশেডিং না হয় দেখবেন। ১০ সেকেন্ডে ৫০টা মেশিন পাল্টে দিতে পারে। যদি কোথাও লোডশেডিং হয়, দলীয় নেতৃত্বকে জানাবেন।” অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে সতর্ক করে বলেন, “নন্দীগ্রামের অভিজ্ঞতা মনে আছে। খেয়াল রাখবেন যাতে লোডশেডিং না হয়।”
ট্রান্সফর্মার পাহারায় থাকতে নির্দেশ তৃণমূল কর্মীদের
এরপরই রবিবার উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের জলপাইগুড়ি ক্যাম্পাসে দেখা যায় ট্রান্সফর্মার পাহারা দিচ্ছেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। এই ক্যাম্পাসেই জলপাইগুড়ি জেলার পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্র— ধূপগুড়ি, ময়নাগুড়ি, জলপাইগুড়ি সদর, রাজগঞ্জ এবং ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির ভোট গণনা হবে।গণনাকেন্দ্রের গেটের কাছে থাকা ট্রান্সফর্মারের সামনে কয়েকজন তৃণমূল কর্মীকে রাতভর পাহারায় থাকতে দেখা যায়। এক তৃণমূল কর্মীর দাবি, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন, গণনাকেন্দ্রের চারপাশের ট্রান্সফর্মারগুলোর দিকে নজর রাখতে। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে লোডশেডিংয়ের মধ্যে পুনর্গণনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো হয়েছিল বলে আমাদের অভিযোগ।”
বিজেপির পাল্টা কৌশল
তৃণমূলের এই পদক্ষেপকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। তবে সূত্রের খবর, বিজেপির তরফেও কাউন্টিং এজেন্ট ও দলীয় কর্মীদের জন্য একাধিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত কাউন্টিং এজেন্ট প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে পার্টি অফিসে। একইসঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, উচ্ছ্বাসে বা আশঙ্কায় যেন কোনও এজেন্ট গণনা শেষ হওয়ার আগে টেবিল না ছাড়েন। বিজেপির তরফে আরও বলা হয়েছে, গণনার সময় মেশিন স্পষ্টভাবে দেখা যায় এমন জায়গায় বসতে হবে এবং প্রয়োজনে বারবার সংখ্যা মিলিয়ে নিতে হবে। কোনও বেআইনি কাজ চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে বাইরে থাকা দলীয় কর্মীদের জানাতে বলা হয়েছে।
কমিশনের কড়া নিরাপত্তা
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে রাজ্যের ৭৭টি কাউন্টিং সেন্টারে একযোগে ভোট গণনা শুরু হবে। দক্ষিণ ২৪ পরগণার ফলতা কেন্দ্র বাদে বাকি ২৯৩টি আসনের গণনা হবে। প্রথমে পোস্টাল ব্যালট, তারপর ধাপে ধাপে ইভিএম খোলা হবে। গণনার জন্য অতিরিক্ত কাউন্টিং অবজার্ভার এবং পুলিশ অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে মোতায়েন রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, শুধুমাত্র QR কোড ভিত্তিক পরিচয়পত্র থাকলেই প্রবেশের অনুমতি মিলবে। মোবাইল ফোন নিয়েও থাকছে কড়া নিষেধাজ্ঞা। সিসিটিভি নজরদারি ও ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে গোটা গণনা প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখা হবে। এখন নজর শুধু ইভিএম খোলার দিকে। রাউন্ডে রাউন্ডে বদলাবে সমীকরণ, আর দিনের শেষে স্পষ্ট হবে— বাংলার মানুষ এবার কাদের হাতে তুলে দিলেন ক্ষমতার রাশ।
আরও পড়ুন : ২৯৩টি বিধানসভা আসনের ভোট গণনা আজ, কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে ? লেটেস্ট আপডেট
আরও পড়ুন : 'আমায় ভুল বুঝ না' ভোট গণনার আগেই কেমন এমন বার্তা বিজেপি প্রার্থী 'অভয়ার মা'-র?
সেরা শিরোনাম





















