Narendra Modi Cooch Behar Rally: ‘ঘোষণাপত্রকে ইস্তেহার বলছে তৃণমূল’, কোচবিহারে মোদি, বাংলার পরিচয় বদলে দেওয়ার অভিযোগ তুললেন
Narendra Modi on TMC Manifesto: রবিবার কোচবিহার রাসমেলা ময়দানে 'বিজয় সংকল্প সভা' থেকে তৃণমূলকে আক্রমণ করলেন মোদি।

কোচবিহার: ভোটঘোষণার পর প্রথম সভা রাজ্যে। আর তাতেই তৃণমূলকে ধারাল আক্রমণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলের বিরুদ্ধে তুষ্টিকরণের রাজনীতির অভিযোগ তুললেন তিনি। গত ১৫ বছরে তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকার জনবিন্যাস বদলে দিয়েছে বলে দাবি করলেন। পাশাপাশি, নির্বাচনী ইস্তেহার নিয়েও তৃণমূলকে বিঁধলেন তিনি। (Narendra Modi on TMC Manifesto)
রবিবার কোচবিহার রাসমেলা ময়দানে 'বিজয় সংকল্প সভা' থেকে তৃণমূলকে আক্রমণ করলেন মোদি। রাজ্যে ফের ক্ষমতায় এলে কী কী কাজ করা হবে, তা নিয়ে 'বাংলার জন্য দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা' নামে নির্বাচনী ইস্তেহার ২০২৬ প্রকাশ করেছে জোড়াফুল শিবির। 'ইস্তেহার' শব্দটি নিয়েই এদিন কটাক্ষ ছুড়ে দেন মোদি। বলেন, "আপনারা দেখেছেন, তৃণমূল ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছে, যার নাম বাংলায় রাখেনি। বরং ইস্তেহার বলা হচ্ছে। ভেবে দেখুন কেমন ভাবে বাংলার পরিচয় বদলে দিচ্ছে। ইস্তেহার শব্দটির ব্যবহার কী জন্য হয়েছিল বাংলায়? ১৯০৫ সালে সাম্প্রদায়িক শক্তি বাংলায় লাল ইস্তেহার জারি করেছিল। তার পর হিন্দুদের প্রাণ সংহার করা হয়েছিল। তৃণমূল সেই কথা মনে করাতে চাইছে।" (Narendra Modi Cooch Behar Rally)
তৃণমূলকে আক্রমণ করে মোদি আরও বলেন, "ভুলবেন না, এই নির্মম সরকার প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে যে, একটি বিশেষ ধর্মের লোক হিন্দুদের থাকা কঠিন করে দেবে। তুষ্টিকরণের এমন নোংরা খেলা বাংলার সম্মান ও সংস্কৃতিকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে। বাংলার পরিচয় বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে যারা, তাদের বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলা। বাংলার পরিচয় বদলানোর চেষ্টা যে করছে, তার বিদায় হবে।"
লিখিত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকে ইস্তেহার বলার চল নতুন নয়। তৃণমূলই নয় শুধু, সিপিএম-ও নিজেদের প্রতিশ্রুতিতে ইস্তেহার শব্দটি রেখেছে। সেই শব্দটি নিয়েই আপত্তি তুললেন মোদি। ইস্তেহার বা ইস্তাহার শব্দটি মূলত আরবি শব্দ 'ইশতিহার' থেকে এলেও, ফারসিতেও সেটির ব্যবহার বহুল। অন্য আরও অনেক শব্দের মতোই সেটি বাংলা ভাষায় পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরও 'ব্রজবিলাস'-এ 'ইস্তাহার' শব্দটি ব্যবহার করেন। যদিও মোদির দাবি, ইস্তেহার শব্দ ব্যবহার করে বাংলার পরিচয় বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে তৃণমূল।
ঘটনাচক্রে, এখনও পর্যন্ত নিজেদের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেনি বিজেপি। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই তাদের ইস্তেহার সামনে আসার কথা। রাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে সেখানে একাধিক প্রতিশ্রুতি থাকতে পারে। ভোটমুখী কেরলে ইতিমধ্যেই ইস্তেহার প্রকাশ করেছে তারা, যাতে দারিদ্রসীমার নীচে থাকা মহিলাদের মাসে মাসে ২৫০০ টাকা, বিধবা ও প্রবীণদের ৩০০০ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। বছরে দু'টি করে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারও বিনামূল্যে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছে বিজেপি।





















