RG Kar Case: ‘প্রথম থেকেই খারাপ উদ্দেশ্য ছিল ওদের’, বলছে অভয়ার পরিবার, মুখ খুললেন প্রতিবাদী চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো
RG Kar Victim's Mother to Contest Election: বৃহস্পতিবার বিজেপি-র প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়েছেন অভয়ার মা।

কলকাতা: প্রতিবাদ, আন্দোলনে ভরসা নেই আর। ক্ষমতা হাতে পেলে হয়ত ন্যায়বিচার পাওয়া যেতে পারে। এই আস্থা নিয়েই বিজেপি-র হয়ে ভোটে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার, খুন হওয়া চিকিৎসক তরুণীর মা। নিজে ফোন করেই তিনি বিজেপি-র প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর এই ঘোষণায় তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। সেই নিয়ে এবার প্রতিক্রিয়া জানালেন প্রতিবাদী চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো। (RG Kar Victim's Mother to Contest Election)
বৃহস্পতিবার বিজেপি-র প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়েছেন অভয়ার মা। যদিও বিজেপি-র দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকায় তাঁর নাম দেখা যায়নি আজ। তবে পানিহাটি আসনে প্রার্থীও এখনও ঘোষণা করেনি বিজেপি। কিন্তু অভয়ার মা এবং বাবার কিছু বক্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে গোড়া থেকে পরিবারের পাশে থাকা সিপিএম এবং আন্দোলনকারীদের নিয়ে তাঁর মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া মিলেছে বিভিন্ন মহল থেকে। (RG Kar Case)
সেই নিয়ে তরজার মধ্যে প্রতিবাদী চিকিৎসক অনিকেত মুখ খুললেন এবিপি আনন্দে। তাঁর বক্তব্য, "ভোটের মাধ্যমে, ক্ষমতার মাধ্যমে যদি অভয়ার ন্যায় বিচার আনা যায়, তাহলে বর্তমান রাজ্য সরকার এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার তো ভোটে জিতেই ক্ষমতায় এসেছে! ভোটে জিতে, পাঁচ বছর মানুষের কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল! তাহলে অভয়ার ন্যায় বিচার তো তাদের কেউ করতেই পারত! আবার ক'টা ভোটের মাধ্যমে জিতলে, ক্ষমতায় জিতলে ন্যায় বিচার পাইয়ে দেবেন...এটা কী ধরনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি? কী ধরনের ভোটের বিচার ব্যবস্থার জায়গা?"
কোনও রাজনৈতিক দল বা নেতার ছত্রছায়া নয়, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়ায় শুরু হয়েছিল আর জি কর আন্দোলন। কিন্তু যাঁকে ঘিরে এই আন্দোলন, যাঁকে ঘিরে মানুষের ঢল নামে রাস্তায়, অভয়ার মায়ের মন্তব্যে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। সিপিএম এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেকে নিজেদের স্বার্থে এসেছিলেন, তাঁদের মেয়ের বিচারের স্বার্থে নয় বলে মন্তব্য করেছেন অভয়ার মা। কিন্তু অভয়ার দেহ যখন বের করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তড়িঘড়ি সৎকারের জন্য, সেই সময় গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করেন বাম শিবিরের মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, কলতান দাশগুপ্তরা। বিজেপি-র অগ্নিমিত্রা পাল, কৌস্তভ বাগচিকেও দেখা গিয়েছিল।
আন্দোলন চলাকালীন কেরিয়ার, ভবিষ্য়তের তোয়াক্কা না করে দলে দলে শামিল হন পড়ুয়া চিকিৎসকরা। রাজনীতিকে দূরে রেখে আন্দোলনকে বৃহত্তর চেহারা দেন তাঁরা। কখনও শিরদাঁড়া সোজা রেখে কলকাতার পুলিশ কমিশনারের মুখোমুখি হন, কখনও নিজেদের শর্তে অনড় থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই আন্দোলনের চাপে নতি স্বীকার করতে হয় রাজ্য সরকারকেও। কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক অফিসারকে বদলি করা হয়। গোটা শহর আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ায়, রাতের পর রাত জেগে থেকেছেন, রাস্তায় থেকেছেন সাধারণ মানুষ।
চিকিৎসক তমোনাশ চৌধুরী বলেন, "জুনিয়র চিকিৎসক, সিনিয়র চিকিৎসক, দলমত নির্বিশেষে রাজ্যের সব মানুষ এই আন্দোলন করেছেন। জুনিয়র চিকিৎসকরা যখন অনশন করেন ১৭ দিন ধরে, কারও ১১, তারও ১২ কেজি ওজন কমে যায়। কারও কিটন বডি এতটাই বেড়ে যায়, ডায়ালিসিস করার পরিস্থিতি তৈরি হয়। মৃত্যুর মুখে চলে যান কেউ। যাঁরা প্রতিবাদ করেছেন, তাঁদের উপর রাষ্ট্রীয় অত্যাচার কতটা হয়েছে...সুন্দরবনের বাড়িতে পুলিশ চলে যায় রাতে। সেখানে তল্লাশি শুরু হয়। বদলি করা হল বেছে বেছে তিন জনকে। বদলি করা হল সিনিয়র চিকিৎসকদের। ৫৩টা মামলা, আমার নামেই ৭টা। ত্রিধারায় উই ওয়ান্ড জাস্টিস ব্যাজ লাগানোয় ন'জন জেলে যান। ইউএপিএ মামলা হয়। এই অত্যাচার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষ রুখে দাঁড়ান। মা-বাবার যন্ত্রার সঙ্গে...আমরা হয়ত সবসময় যোগাযোগ রাখতে পারিনি। কোথাও হয়ত ওঁদের তাই এমন মনে হয়েছে। কিন্তু আমরা ওঁদের সঙ্গেই আছি। তাঁদের সমব্যথী আমরা, চিরদিন তাঁদের সঙ্গেই থাকব।"




















