West Bengal Assembly Election 2026:'ইলিশ মাছ নিয়ে আসুন আমি বেছে খাইয়ে দিচ্ছি', কেন বললেন স্মৃতি ইরানি? কাকেই বা বললেন?
West Bengal Election: 'আপনাকে একটাই কথা বলতে পারি দিদি, ইলিশ মাছ নিয়ে আসুন আমি বেছে খাইয়ে দিচ্ছি আপনাকে।' কেন এমন বললেন স্মৃতি ইরানি?

কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শুরু হতে চলেছে আগামী সপ্তাহ থেকে। এবার রাজ্যে ভোট ২ দফায়। ২৩ এপ্রিল প্রথম এবং ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফা। শেষ পর্যায়ে জোরকদমে চলছে ভোটপ্রচার। প্রায় সমস্ত জনসভাতে গিয়েই বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, বাঙালি অস্মিতা রক্ষা করবে না বিজেপি। কারণ বিজেপি সরকার এ রাজ্যে ক্ষমতায় এলে মাছ খাওয়া কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে বাঙালির। উল্টোদিকে বিজেপিও পাল্টা জবাব দিয়েছে। এবারের ভোটে বিশেষ করে ভোটপ্রচারে সমস্ত রাজনৈতিক দলেরই নজর রয়েছে মাছের দিকে। এমনকী মাছ নিয়ে প্রচারেও বেরিয়েছেন প্রার্থীরা।
পয়লা বৈশাখেও রাজ্যে ভোটপ্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে মাছ। কোথাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাছ নিয়ে প্রচার সারলেন বিজেপি প্রার্থী, কোথাও মাছ নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় পা মেলালেন তৃণমূল প্রার্থী। এদিকে ইলিশ মাছ বেছে খাইয়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন স্মৃতি ইরানি। মাছ নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতিতে মাতামাতির শেষ নেই। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পয়লা বৈশাখের দিন রাজ্যে এসে বলেছেন, 'ইলিশ মাছ নিয়ে আসুন আমি বেছে খাইয়ে দিচ্ছি আপনাকে।' পয়লা বৈশাখের দিন স্মৃতি ইরানিকে প্রশ্ন করা হয়, তৃণমূলের তরফ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে যে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে মাছ খাওয়া বন্ধ করে দেবে। এ বিষয়ে কী বলবেন? জবাবে স্মৃতি ইরানি বলেন, 'আপনাকে একটাই কথা বলতে পারি দিদি, ইলিশ মাছ নিয়ে আসুন আমি বেছে খাইয়ে দিচ্ছি আপনাকে।'
একদিকে বিজেপি মাছ নিয়ে নিজেদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরিতে উঠেপড়ে নেমেছে। বুধবার কাতলা মাছ হাতে প্রচারে বের হন ব্যারাকপুরের বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচী। এদিন প্রচারে বেরিয়ে কৌস্তভ বলেন, 'বাঙালি মাছ ছাড়া বাঁচবে কী করে? মাছে-ভাতে বাঙালি। থাকবে বাঙালি মাছে-ভাতে। আর থাকবে বিজেপির সাথে।' এর আগে বিধাননগর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও মাছ হাতে ভোটপ্রচারে বেরিয়েছিলেন। কাতলা মাছের পর মোচা নিয়েও ভোটের প্রচারে বেরিয়েছিলেন তিনি। বাঙালি ঘটি-বাঙালের মধ্য়ে ইলিশ-চিংড়ির লড়াই দেখেছে। কিন্তু মাছ নিয়ে ভোটের লড়াই, এর আগে কখনও চাক্ষুষ করেনি।
অন্যদিকে, এই মাছ বিতর্কে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, 'যাঁরা আমাদের পাল্টাতে এসেছিল, আমাদের শিক্ষা দিতে এসেছিল, বাঙালি কী, বাঙালি টাইট দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে। যাঁরা মাছ বন্ধ করবেন বলেছিলেন না, তাঁদের দিয়ে মাছও ধরাব, আর মাছের দোকানে বসিয়ে মাছ বিক্রেতা ভাইদের যাঁরা অপমান করেছিল, তাঁদের পাশে বসিয়ে মাছ-মাংস দু'টোই বিক্রি করাব, শপথ। ২০১৯ সালে যাঁরা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছিল, তাঁরাই এখন দেখছি হাতে হাতে রুই-কাতলা-ইলিশ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর প্রচার করছে।'




















