Mousumi Kayal: কামদুনির মতো, অভয়ার মতো... কান্নায় ভেঙে পড়লেন মৌসুমী, বললেন অহঙ্কারের পতন
Kamduni: ১৩ বছর কেটে গিয়েছে, বিচার মেলেনি। উল্টে মমতা প্রতিবাদীদের কখনও সিপিএম, কখনও মাওবাদী বলে দেগে দিয়েছেন।

কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন সবে ২ বছর ক্ষমতায় এসেছেন। ২০১৩ সালের ৭ জুন। কামদুনিতে ঘটে গেল ভয়ঙ্কর ঘটনা। গণধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হল এক তরুণীকে। বিক্ষোভে ফেটে পড়ল গোটা রাজ্য। কামদুনিতে শুরু হল প্রতিবাদ আন্দোলন। যে আন্দোলনের মুখ ছিলেন টুম্পা ও মৌসুমী কয়াল। নির্যাতিতার বন্ধু।
তারপর ১৩ বছর কেটে গিয়েছে, বিচার মেলেনি। উল্টে মমতা প্রতিবাদীদের কখনও সিপিএম, কখনও মাওবাদী বলে দেগে দিয়েছেন। করা হয়েছে একাধিক মিথ্যে মামলা। কিন্তু নির্যাতিতার ওই পরিবার কি আদৌ বিচার পেয়েছে?
সোমবার রাজ্য থেকে মমতা সরকারের উৎখাত হওয়ার দিন ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন অনুষ্ঠানে কামদুনির প্রতিবাদীকে সঞ্চালক তথা এবিপি আনন্দের এডিটর সুমন দে প্রশ্ন করেছিলেন, বৃত্ত সম্পূর্ণ হল?
মৌসুমী বললেন, '২০১৩ সালের ৭ জুন যখন ঘটনাটি ঘটেছিল… (কাঁদতে, কাঁদতে) আজ যেমন খুব আনন্দ হচ্ছে, অনেক কষ্টও আছে আমাদের। ৭ জুনের রাতের পর যখন আমাদের ঘরের মেয়ের দেহটা দেখে মাননীয়ার কাছে দৌড়ে গিয়েছিলাম, তখন উনি বেসিদিন ক্ষমতায় আসেননি, আমরা ভেবেছিলাম বিচার পাব। বিচারের জন্যই আমরা এই আন্দোলন সৃষ্টি করেছিলাম। শুধু মৌসুমী, টুম্পা বলে নয়। গ্রামের প্রতিটা বাচ্ছা থেকে, বৃদ্ধ থেকে সকলেই বেরিয়ে এসেছিল। আমরা একসঙ্গে হয়ে আন্দোলন করেছিলাম। আমরা প্রত্যেকে চেয়েছিলাম উনি আসুন আমাদের গ্রামে। এসে উনি কী বলেছিলেন সকলেই দেখলেন ফুটেজটা। আমরা নাকি মাওবাদী, রাজনীতি করি। সেই থেকে শুরু হল আমাদের জার্নি, আমাদের আন্দোলন।'
মৌসুমী আবেগঘন কণ্ঠে আরও বললেন, 'বিচারের জন্য কোথায় যাইনি। দিল্লি গিয়েছি, দিনের পর দিন কোর্টের দরজায় ঠকঠক করেছি। আমাদের মেয়েটাকে যেভাবে মারা হয়েছিল, মাননীয়া, আমার এখন মাননীয়া বলতেও খারাপ লাগছে, দিদি আপনি শুনতে পাচ্ছেন? আপনি নাকি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়ে মায়েদের কিনে নিয়েছিলেন? সেই মায়েরাই আজকে আপনাকে টেনে হিঁচড়ে নবান্ন থেকে বাইরে বার করে নিয়ে আসল। কারণ এটা হচ্ছে আমাদের মায়েদের রাজ্য, এটা নারীদের রাজ্য। এটা মা দুর্গার রাজ্য, মা লক্ষ্মীর রাজ্য, মা কালীর রাজ্য। এখানে মাসে দেড় হাজার টাকা দিয়ে, ১৭০০ টাকা দিয়ে মায়েদের, মেয়েদের কেনা যায় না। এটা আপনি দেখে নিন যে, মায়েরা কীভাবে আপনাকে ছুড়ে ফেলে দিল। কারণ মায়েরা চায় তাদের ঘরের মেয়েরা সুরক্ষিত থাকুক। মায়েরা চায় তাদের ঘরের মেয়েরা যেন নিশ্চিন্তে স্কুলে, কলেজে যেতে পারে। সেই ৭ জুন কী ঘটেছিল, প্রত্যেকটা মা, প্রত্যেকটা মেয়ে জানে।'
যোগ করলেন, '১৩ বছর ধরে লড়াই করছি। ১৩ বছরে একটার পর একটা মিথ্যে মামলা পুলিশ দিয়েছে। নবান্ন থেকে নেতাদের বলা হয়েছে একটার পর একটা মামলা দিয়ে যেন আমাদের দমিয়ে দেওয়া হয়। কণ্ঠস্বর রোঘ করে দেওয়া হয়। কিন্তু আমরা দমিনি। আজ সত্যিই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছি। সাধারণ মানুষের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেলে সাধারণ মানুষ ইতিহাস তৈরি করে। আপনার অহঙ্কারের পতন আজ বুঝতে পারলেন। রাজ্যের প্রত্যেকটা মা, প্রত্যেকটা মেয়ে চেয়েছিল, ক্ষমতায় যেই আসুক, এই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন না আসে। কামদুনির মতো, অভয়ার মতো...' কান্নায় গলা জড়িয়ে এল মৌসুমীর।
পালাবদলের দিন দিনবদলের অপেক্ষায় কামদুনি।
সেরা শিরোনাম





















