Debolinaa Nandy: 'হাসপাতালে জ্ঞান হতেই প্রবাহকে খুঁজেছি, আমি সম্পর্ক ভাঙায় বিশ্বাসী নই', প্রথমবার মুখ খুললেন দেবলীনা
Debolinaa Nandy Update: তিনি যে প্রবাহর সঙ্গেই থাকতে চান, সেই কথা বারে বারে বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন দেবলীনা।

কলকাতা: তাঁর ব্যক্তিগত জীবনই এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত ও প্রত্যেকেই জানতেন যে, বিবাহিত জীবন ও কাজ, এই দুই নিয়ে বেশ সুখেই রয়েছেন সঙ্গীতশিল্পী ও ভ্লগার দেবলীনা নন্দী (Debolinaa Nandy)। তবে চেনা এই ছন্দের প্রথম তাল কাটে, দেবলীনার পোস্ট করা একটি লাইভ ভিডিওতে। ফেসবুক লাইভে এসে দেবলীনা জানান, কাজের জায়গা আর সংসার, এই দুয়ের সমস্যায় জর্জরিত তিনি। সেই লাইভে তিনি প্রথম আভাস দেন যে, তাঁর মা-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা নিয়েই শ্বশুরবাড়িতে মূলত অশান্তি। এরপরে, সেই রাতেই খবর পাওয়া যায়, অনুষ্ঠান থেকে ফেরার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দেবলীনা।
পরবর্তীকালে জানা যায়, দেবলীনা মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সঠিক সময়ে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ও যথাযথ চিকিৎসার কারণেই বিপদ কাটে তাঁর। এখনও হাসপাতালেই রয়েছেন অভিনেত্রী, ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পরে, বন্ধু সায়কের করা একটি ভিডিওতে প্রথম মুখ খোলেন দেবলীনা। জানান, তিনি আত্মহত্যাই করতে গিয়েছিলেন।
এরপরে, দেবলীনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে একাধিক ভিডিও শেয়ার করে, দেবলীনার স্বামী প্রবাহ ও তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকেদের নিয়ে গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ করেন দেবলীনার মা ও দিদি। সেখানেই তাঁরা জানান, সামাজিক বিয়ে হয়ে গেলেও, প্রবাহদের বাড়ির গড়িমসিতেই দেবলীনা আর প্রবাহর এখনও আইনত বিয়ে হয়নি। এমনকি এই তথ্যও তাঁরা প্রকাশ্যে আনেন যে, অগাস্ট মাসে দেবলীনাকে অশান্তির কারণে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় ও প্রবাহর থেকে দূরে থাকতে বাধ্য করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই গোটা বিষয়টা নিয়ে যথেষ্ট মত, বিরুদ্ধ মত এমনকি ট্রোলিং পর্যন্ত চলতে থাকে। দেবলীনার পরিবারের তরফে বারে বারে ট্রোলিং বন্ধ করার আবেদন করা হলেও, খুব একটা কাজে আসেনি তা। আর আজ, একটি দীর্ঘ লাইভ ভিডিওতে প্রথম মুখ খোলেন দেবলীনা।
সঙ্গীতশিল্পী প্রথমেই স্পষ্ট করে দেন যে, অনেকেই তাঁকে প্রশ্ন করেছেন যে, সম্পর্কে অশান্তি থাকলে, কেন তিনি তা ছেড়ে বেরিয়ে আসেননি? দেবলীনার কথায়, 'আমাদের প্রেমের বিয়ে। প্রবাহর তরফ থেকে কী ছিল জানি না, আমার তরফ থেকে তো ভালবাসা ছিল। পাগলের মতো ভালবেসেছি প্রবাহকে। ছেড়ে বেরিয়ে আসা এতটা সহজ নয়।' পাশাপাশি দেবলীনা তুলে ধরেন ছোট বড় বিভিন্ন ঘটনার কথা, যা হয়তো তিনি ভ্লগে দেখাতে চাননি এতদিন। দেবলীনাও বলেন যে, অগাস্ট মাসে তাঁকে ও প্রবাহকে আলাদা হয়ে যেতে বাধ্য করেছিলেন তাঁর শাশুড়িমা। কোনও আইনি পরামর্শ নেওয়া হয়নি, প্রবাহ ও দেবলীনার থেকে আলাদাই থাকতে চেয়েছিলেন বলে দাবি সঙ্গীতশিল্পীর।
শুধু দেবলীনার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা নিয়ে নয়, আর্থিক কারণেও দেবলীনাকে শ্বশুরবাড়িতে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে পড়তে হত বলে জানিয়েছেন তিনি। সঙ্গীতশিল্পী জানিয়েছেন, তিনি যে আর্থিকভাবে তাঁর বাবা মা-কে সাহায্য করতেন, তা পছন্দ ছিল না তাঁর শ্বশুরবাড়ির কারোরই। দেবলীনা প্রসঙ্গত বিয়ের আগের একটি ঘটনার কথাও তুলে ধরেন। বিয়ের আগে একটি দুর্ঘটনা ঘটে দেবলীনার সঙ্গে, সেই সময় ও হাসপাতালে তাঁকে রেখেই চলে এসেছিলেন প্রবাহ, অপেক্ষা করেননি, এমনটাই দাবি দেবলীনার।
সঙ্গীতশিল্পী জানান, এখন তাঁর শ্বশুরবাড়ির সবাই তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা অস্বীকার করছেন, তবে তাঁর কাছে যাবতীয় প্রমাণ রয়েছে। তিনি গোটাটারই ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন। দেবলীনা আরও বলেছেন, তিনি যখন লাইভ করেছেন, সেটা দেখেও প্রবাহদের বাড়ির তরফ থেকে কোনও ফোন করা হয়নি। দেবলীনা আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছে, সেই খবর প্রবাহকে দেওয়ার জন্য ও ফোন করা হয়েছিল দেবলীনার পরিবারের তরফে, কিন্তু প্রবাহর পরিবারের তরফ থেকে ফোন তোলা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন দেবলীনা। তবে দেবলীনা এ কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি সম্পর্ক ভাঙায় বিশ্বাসী নন। তিনি হাসপাতালে জ্ঞান হওয়ার পরেও প্রবাহকেই খুঁজেছেন। তিনি যে প্রবাহর সঙ্গেই থাকতে চান, সেই কথা বারে বারে বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন দেবলীনা। বারে বারে বলতে থাকেন...'আমার টাকাপয়সা লাগবে না, খোরপোশ লাগবে না.. আমি শুধু অপেক্ষা করছি প্রবাহর একটা ফোনের, একটা মেসেজে.. আসেনি। আমি বোঝাতে পারছি না আমি প্রবাহকে কতটা ভালবাসি..'
প্রসঙ্গত, এই বিষয়ে প্রবাহ বা তাঁর পরিবারের তরফ থেকে কোনও বিবৃতি এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।






















