Saurav Palodhi: ছোটদের শিক্ষার কথা বলতে গেলে কোনও রাজনৈতিক দল করতে হবে কেন? প্রশ্ন সৌরভ পালোধির
Saurav Palodhi on Onko Ki Kothin: স্কুল বন্ধ হওয়া থেকে শুরু করে চিকিৎসা ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে ছুঁয়ে গিয়েছে এই ছবি। 'অঙ্ক কি কঠিন'-এর ভাবনা কোথা থেকে এসেছিল সৌরভের?

কলকাতা: একজন ডাক্তার হতে চায়। একজন নার্স। আরেকজন ইঞ্জিনিয়ার। ছোট্ট স্কুলের গুটিকয়েক ছেলে মেয়ের মতো ওরাও স্বপ্ন দেখে, পড়াশোনা করে অনেক বড় হবে, স্বপ্নপূরণ করবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন তৈরির কারখানা, সেই স্কুলই যদি বন্ধ হয়ে যায়? বর্তমান সমাজের সামনে দাঁড়িয়ে, এই ছবি প্রশ্ন তুলে দেয়, সবাই কেন শিক্ষা পাবে না? গরীব বলে কি শিক্ষার অধিকার নেই? জীবনের অঙ্ক, স্বপ্ন দেখার অঙ্ক.. এর ওপরেই ভিত্তি করে সৌরভ পালোধি (Sourav Palodhi)-র নতুন ছবি 'অঙ্ক কি কঠিন'। আগামী ২৩ মে বড়পর্দায় মুক্তি পাচ্ছে এই ছবি। ইতিমধ্যেই দেশে ও দেশের বাইরে, বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হয়েছে এই সিনেমা। আর এবার সেটা দেখার সুযোগ পাবেন বাংলার দর্শকেরাও।
স্কুল বন্ধ হওয়া থেকে শুরু করে চিকিৎসা ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে ছুঁয়ে গিয়েছে এই ছবি। 'অঙ্ক কি কঠিন'-এর ভাবনা কোথা থেকে এসেছিল সৌরভের? পরিচালক বলছেন, 'এই ভাবনার শুরুটা কোভিডকালে। সেই সময়ে বিভিন্ন মানুষের কাছে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় যেতে হত। তখনই জানতে পারতাম, বড় স্কুলগুলোর সঙ্গে সঙ্গে ব্লকে ব্লকে যে স্কুলগুলো রয়েছে, সেগুলো ও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যেখানে হয়তো গুটিকয়েক ছাত্র-ছাত্রী, তারা মিড ডে মিলের লোভে পড়তে আসে, সেই সবই বন্ধ। কোভিড গেল, বড় স্কুলগুলো খুলেও গেল। কিন্তু সেই ব্লকে ব্লকে যে ছোট স্কুলগুলো ছিল, সেগুলো আজও বন্ধ। কিন্তু সেখানকার ছাত্র ছাত্রীরা? যারা স্বপ্ন দেখে ফেলেছে? সেই স্বপ্ন তৈরির কারখানাগুলোই তো বন্ধ। তারা কি করবে? সেই জায়গা থেকেই এই ছবির ভাবনা। তারপরে তো আমরা একটা কাল্পনিক গল্প তৈরি করলাম। ছবিটা তৈরী হল।'
ছবির মুখ্যচরিত্রে রয়েছে ৩ খুদে। ছোটদের নিয়ে কাজ করা সৌরভের কাছে সহজ নাকি কঠিন? পরিচালক বলছেন, 'এর আগে থিয়েটারে আমার ছোটদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। অনেক অডিশন নিয়ে এই ছবির ৩ খুদেকে বাছা। তারপরে ওদের সঙ্গে দীর্ঘ ওয়ার্কশপ। ওরা যাতে অভিনয় না করে ফেলে, সবটা যাতে সাবলীলভাবে করে ফেলে... সেই সমস্ত কিছু শেখানো। আমার গোটাটা ভালই লাগে। তবে বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করতে গেলে অনেক কিছুই মাথায় রাখতে হয়। ওরা কখনও শ্যুটিং করতে চাইবে না, কখনও বিভিন্ন কথাবার্তা বলবে। আমরা সেগুলোর জন্য তৈরিই ছিলাম। কোনও সমস্যা তৈরি হয়নি।'
'অঙ্ক কি কঠিন' -এ পরিচিত অভিনেতা অভিনেত্রীদের সংখ্যা অনেকটা কম। একাধিক মুখ্যভূমিকায় রয়েছে থিয়েটারের শিল্পীরা। কারণ হিসেবে সৌরভ বলছেন, 'বাণিজ্যিক ছবি তৈরি করার সময় ব্যবসার কথাটাও মাথায় রাখতে হয় অবশ্যই। কিন্তু আমি চেষ্টা করি চরিত্র ভেবে অভিনেতা অভিনেত্রীদের কাস্ট করার। যাকে যে চরিত্রে ভাল মানাবে, সেটা ভেবেই ছবিতে কাস্ট করেছি। পার্নো বা উষসীদিকে মনে হয়েছে ওই চরিত্রগুলোয় একেবারে দারুণ লাগবে, সেই কারণে ওদের নেওয়া। পরিচিত মুখ বলে নয়।' রানা সরকার ও কি এই ভাবনায় বিশ্বাসী? সৌরভ বললেন, 'রানাদার কাছে আমি কৃতজ্ঞ যে উনি আমায় এই গল্পটা বলার সুযোগ দিয়েছেন। আমি যখন স্ক্রিপ্টটা শুনিয়েছিলাম, রানাদা বলেছিলেন, 'এই ছবিটা আমাদের করা দরকার।' এখন মানুষ ছবির কনটেন্ট নিয়ে বেশি কথা বলছেন। 'লাপতা লেডিজ' সবার প্রিয় ছবি। কিন্তু অভিনেতা অভিনেত্রীদের নাম গুগল করে বলতে হবে অধিকাংশকেই। আমাদের ওই ছবিটাও, কাস্টিং নয়, কনটেন্ট নির্ভর। এই বড় অভিনেতা ছবিতে আছে বলে ছবিটা দেখতে যাব আমরা দর্শকদের মধ্যে এই ভাবনা ঢুকিয়ে দিতে চাই না।'
শিক্ষা দুর্নীতি থেকে শুরু করে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া.. ছবি জুড়ে রাজনীতির ছোঁয়া। এই ধরণের গল্প বলতে গেলে কী সাহস লাগে? সৌরভ হেসে বলছেন, 'আমি তো শিক্ষার কথা বলেছিল। সবাই শিক্ষা পাক, সমস্ত বাচ্চারা স্কুলে যাক। এই কথা বলতে কোনও রাজনীতি করতে হবে কেন? যে দলই দায়িত্বে আসুক, তাদের সবার তো এই দিকটায় নজর দেওয়া উচিত। আমরা এখনও আমাদের শিক্ষকদের দেখলে সম্মানে মাথা নত করি। সেখানে আমাদের কেন একজন শিক্ষককে দেখলে মনে হবে যে ইনি খালি ওএমআর জমা দিয়েছেন কি না? আমি তো ছোটদের শিক্ষার কথা বলেছি, এটা আমার দায়িত্ব। পাশাপাশি, আমার একটা রাজনৈতিক মত থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তার জন্য আমার ছবিকে কেউ যদি কোনও বিশেষ রাজনৈতিক দলের রঙে দাগিয়ে দেন, আমার কিছু করার নেই।'
টলিউডে বর্তমানে টালমাটাল পরিস্থিতি, সেই অঙ্ক কতটা বুঝেছেন সৌরভ? পরিচালক বলছেন, 'একেবারেই নয়। টলিউডে যে কোন দল কার বিরুদ্ধে লড়াই করছে, নাকি একটা দলের মধ্যেই দুই দলের মধ্যে লড়াই হচ্ছে এটা আমি বুঝি না। টলিউডে কাজ পাওয়ার জন্য কোনও দলের ঘনিষ্ঠ হতে হয় বলেও আমি মনে করি না। কারণ আমায় তো কেউ কখনও বলেনি যে আমি কোনও দলের সমর্থক বলে কাজ দেওয়া হচ্ছে না। টলিউডে কাজ পাওয়ার জন্য আমি আমার দলীয় সমর্থন বদলাতে পারব না। তবে হ্যাঁ, আমি সত্যিই গল্প বলার সুযোগ খুব কম পাই। কিন্তু আমার নিজের ওপর ভরসা রয়েছে। লিখতে পারি, গল্প বলতে পারি.. কিছু না কিছু একটা করে নেব।'






















