Tollywood Year Ender: বিতর্ক, সংঘাত, সাফল্য, টলিউডের ঘটনাবহুল বছর, কেমন কাটল বাংলা অভিনয় জগতের ২০২৫?
Bengali Film Industry: বাংলা বিনোদন দুনিয়া কী কী দেখল? বছর শেষে একবার দেখে নেওয়া যাক, টলিউডের ভাল-মন্দ সময়।

কলকাতা: আজ ২০২৫-এর শেষ দিন। চলতি বছরের শেষে এসে দাঁড়িয়ে টলিউডের দিকে ফিরে তাকালে মনে হয়, বছরটা বাংলা ইন্ডাস্টির জন্য কিছু কম ঘটনাবহুল ছিল না। ছবির সাফল্য থেকে শুরু করে একের পর এক বিতর্ক.. বাংলা বিনোদন দুনিয়া কী কী দেখল? বছর শেষে একবার দেখে নেওয়া যাক, টলিউডের ভাল-মন্দ সময়।
নজিরবিহীন সংঘাত
বাংলা ছবি দেখানোর জন্য যে পর্যাপ্ত প্রেক্ষাগৃহ নেই, তা বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন পরিচালক , প্রযোজকের কথাতেই উঠে এসেছে। সেই কারণে প্রত্যেক বছরই উৎসব অনুষ্ঠানের সময়ে একাধিক সিনেমা একসঙ্গে মুক্তি পেলে প্রেক্ষাগৃহ নিয়ে একটা প্রচ্ছন্ন লড়াই লেগেই থাকে। টলিউডের ইন্ডাস্ট্রির মোটের ওপর খবর যাঁরা রাখেন, প্রত্যেকেই এই বিষয়টা নিয়ে অবগত। তবে চলতি বছরে নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছায় এই সংঘাত। ২০২৫ সালে পুজোর সময়ে একসঙ্গে মুক্তি পেয়েছিল ৪টি বাংলা সিনেমা। 'রঘু ডাকাত', 'রক্তবীজ ২', 'যত কাণ্ড কলকাতায়' আর 'দেবী চৌধুরানী'। এই ২টি ছবির মধ্যে, 'রঘু ডাকাত' আর 'রক্তবীজ ২'-এর যে দ্বৈরথ সমাজমাধ্যম দেখেছে, তা নজির বিহীন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেব আর উইন্ডোজের অনুরাগীরা একে অপরকে চূড়ান্ত ট্রোলিং করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে পুলিশের দ্বারস্থ পর্যন্ত হয়েছেন জিনিয়া সেন। দেবের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ভুয়ো বক্সঅফিস কালেকশন দেওয়ার। একসঙ্গে ছবি মুক্তি পেলে সোশ্যাল মিডিয়ায় অল্পবিস্তর 'স্লেজিং' চোখে পড়ে বটে, তবে এবার পুজোয় বাংলা সিনেমা নিয়ে সংঘাত নজিরবিহীন।
দেব-শুভশ্রীর 'প্রত্যাবর্তন'
'ধূমকেতু' কবে আসবে, প্রত্যেক বছর এই প্রশ্নই ঘুরে ফিরে আসত দেব (Dev), শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় (Subhasree Ganguly) আর রানা সরকারের (Rana Sarkar) কাছে। অবশেষে, ২০২৫ সালে, ছবি তৈরির ১০ বছর পরে মুক্তি পেল 'ধূমকেতু'। দেব-শুভশ্রী জুটির ম্যাজিক যে এখনও দর্শকদের মনে জাদু ছড়াতে অব্যর্থ, তা যেন ফের একবার প্রমাণ হয়ে গেল। এই বছর যে সমস্ত বাংলা সিনেমা ভাল ফল করেছে, সেগুলির মধ্যে অন্যতম হল 'ধূমকেতু'। পর্দায় রসায়ন জমজমাট হলেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিন্তু অন্য গল্প শোনাল। ছবি মুক্তির আগে দেব আর শুভশ্রী অতীত ভুলে বন্ধুত্বের বার্তা দিলেও ছবি মুক্তির পরে একাধিক সাক্ষাৎকারে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। ফলাফল, বাহ্যিক বন্ধুত্বের অন্দরেও বজায় রইল দেব শুভশ্রীর বৈরিতা।
ফেডারেশন-পরিচালক দ্বন্দ্ব অব্যাহত
চলতি বছরে টলিউডের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বিষয় পরিচালক আর ফেডারেশনের দ্বন্দ্ব। যদিও এর সূত্রপাত শুরু হয়েছিল গত বছর থেকেই। চলতি বছরে ফেডারেশনের কিছু সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আইনি পথে হাঁটেন পরিচালকদের একাংশ। যদিও বছরের শেষের দিকে এই আইনি পথ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, সুদেষ্ণা রায়ের মতো পরিচালকেরা। ফলাও করে তাঁরা জানিয়েও দিয়েছেন যে তাঁরা ফেডারেশনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়েই কাজ করতে চান। তবে এখনও নিজেদের দাবি নিয়ে অনড় রয়েছেন যে সমস্ত পরিচালকেরা, তাঁদের মধ্যে অন্যতম অনির্বাণ ভট্টাচার্য (Anirban Bhattacharya)। ফলস্বরূপ, অনির্বাণের হাতে সিনেমা বা সিরিজের কাজ নেই। প্রসঙ্গ, যাঁর কাজের সূত্র ধরে ২০২৪ সাল থেকে এই দ্বন্দ্ব শুরু, তিনি রাহুল মুখোপাধ্যায়। ফেডারেশনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব অনেক আগেই মিটিয়ে নিয়েছেন তিনি। সামনেই মুক্তি পাচ্ছে তাঁর নতুন সিনেমা।
বাংলা-বিতর্কে 'বুম্বাদা'
ইন্ডাস্ট্রিতে সবাই তাঁকে 'বুম্বাদা' বলেই সম্বোধন করে থাকেন। তিনি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। চলতি বছরে বিতর্কে জড়িয়েছে তাঁর নামও। মুম্বইতে একটি সিরিজের প্রচারে গিয়ে একটি কথার পরিপ্রেক্ষিতে বাঙালিতের রোষের মুখে পরেছিলেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা। সিরিজের সাংবাদিক সম্মেলনে বাঙালি সাংবাদিক বাংলায় প্রশ্ন করায় তাঁকে হিন্দি বা ইংরাজিতে প্রশ্ন করতে বলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্য়ায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ক্লিপিং ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পরে চূড়ান্ত কটাক্ষের মুখে পড়েন ইন্ডাস্ট্রির 'জ্যেষ্ঠপুত্র'। পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় তৎকালীন পরিস্থিতি বর্ণনা করে একটি বিবৃতি দেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, পাশাপাশি ক্ষমাও চেয়ে নেন।
বিতর্ক এবং অনির্বাণ
২০২৫ সালে যাঁর নাম আর বিতর্ক মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ হয়ে রইল, তিনি অনির্বাণ ভট্টাচার্য। প্রথমেই বলতে হয় ফেডারেশনের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্বের কথা। ফেডারেশনের বেশ কিছু নিয়মের বিরোধিতা করে যে পরিচালকেরা আইনি পথে হেঁটেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন অনির্বাণ। আইনি পথে হাঁটা পরিচালকের কাজে বাধা সৃষ্টি হওয়ার পরেই সেই পথ থেকে সরে দাঁড়ান একাধিক পরিচালক। অনির্বাণ অবশ্য অনড়, তাঁর মতে নিজেদের দাবির মধ্যে অনৈতিক এখনও কিছুই খুঁজে পাননি তিনি। ফলে সদুত্তর না পেলেও তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। ফলস্বরূপ, সিনেমা বা সিরিজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য দূরে অনির্বাণ। তবে গানের দল 'হুলিগানইমজ'-এর জন্য শিরোনামে রইলেন অনির্বাণ। তাঁদের প্রথম নিবেদন, 'মেলার গান' ভীষণ জনপ্রিয়তা পায় সোশ্যাল মিডিয়ায়, ভাইরাল হয়। এরপরে একটি কনসার্টে 'হুলিগানইমজ'-এর গানে কুণাল ঘোষ, শতরূপ ঘোষ ও দিলীপ ঘোষের নাম উল্লেখ থাকায় তা তুমুল বিতর্ক আর জনপ্রিয়তা দুয়েরই কারণ হয়ে দাঁড়ায়। 'সনাতনী' নিয়ে মন্তব্য করায় অনির্বাণের নামে দায়ের হয় মামলাও।
গর্বের নাম অনুপর্ণা
চলতি বছরে রুপোলি পর্দায় বাঙালির গর্ব বলতে, অনুপর্ণা রায়। পুরুলিয়ার কন্যে ৮২তম ‘ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব’-এ সেরা পরিচালকের খেতাব পেয়েছেন। ‘সংগস অফ ফরগটেন ট্রিজ়’ ছবির জন্য পুরষ্কৃত হয়েছেন তিনি। এই বঙ্গ তনয়া ইতি মধ্যেই দু’দুটি চলচ্চিত্র তৈরি করে সাড়া ফেলেছেন। ২০২৩ সালে তাঁর পরিচালিত মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘রান টু দ্য রিভার’ এবং ২০২৫-এ মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সংগস অফ ফরগটেন ট্রিজ়’। তবে ‘রান টু দ্য রিভার’ তাঁর তৈরি প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি। সাদা শাড়ি লাল পাড়ে অনুপর্ণার পুরস্কার নেওয়ার দৃশ্য, কথা বলতে গিয়ে বারে বারে কেঁপে ওঠার সেই ছবি বহুদিন গর্ব ভরে মেনে করবে বাঙালি।
বিপাকে অঙ্কুশ-মিমি
বেটিং অ্যাপ মামলায় একাধিক বলিউড তারকাদের সঙ্গে সঙ্গে, টলিউড থেকে তলব করা হয় মিমি চক্রবর্তী ও অঙ্কুশ হাজরাকে। তাঁরা নির্দিষ্ট দিনে হাজিরা দিতে গিয়ে যাবতীয় নথি জমা দিয়ে আসেন। সেপ্টেম্বরে মিমি, অঙ্কুশকে ED-র ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি। এরপরে, ডিসেম্বরের শেষের দিকে ইডি জানায়, অজান্তে নয়, বেআইনি জেনেও বেটিং অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন অভিনেতা অভিনেত্রী। সেই কারণে মিমির ৫৯ লক্ষ টাকার সম্পত্তি ও অঙ্কুশের ৪৭ লক্ষ ২০ হাজারের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি।






















