Brain Eating Amoeba: হু হু করে বাড়ছে মস্তিষ্ক কুরে কুরে খাওয়া অ্যামিবার সংক্রমণ ! পরপর ৩ জনের মৃত্যু কেরালায়, ছাড় পায়নি ৩ মাসের শিশুও
Kerala Brain-eating Amoeba Case: এর আগে ১৪ অগাস্ট থামারাসেরি অঞ্চলের ৯ বছর বয়সী একটি মেয়ে এই একই হাসপাতালে অ্যামিবার সংক্রমণে মারা গিয়েছিল। বেড়েই চলেছে সংক্রমণ।

কেরালার কোঝিকোড় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে অ্যামিবিক মেনিঞ্জোএনসেফালাইটিসের মত একটি বিরল ও প্রাণঘাতী মস্তিষ্কের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মৃত্যু হয়েছে ৩ মাস বয়সী একটি শিশু সহ আরও ২ জন ব্যক্তির। ভয়ঙ্করভাবে বাড়ছে সংক্রমণ। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিকরা এই তথ্য জানিয়েছেন। এই মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে অগাস্ট মাসে কেরালায় এই সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন জনে।
কোঝিকোড় জেলার ওমাসেরির আবুবকর সিদ্দিকের ছেলে এই শিশুটি এক মাস ধরে চিকিৎসাধীন ছিল কোঝিকোড় হাসপাতালেই। রবিবার তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ার পরে আইসিইউতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে আকস্মিকভাবেই। অন্য আরেক মৃতের নাম ৫২ বছর বয়সী রামলা যিনি মালাপ্পুরম জেলার কাপ্পিলের বাসিন্দা। বিগত ৮ জুলাই তাঁর শরীরে এই রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে কোঝিকোড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এর আগে ১৪ অগাস্ট থামারাসেরি অঞ্চলের ৯ বছর বয়সী একটি মেয়ে এই একই হাসপাতালে অ্যামিবার সংক্রমণে মারা গিয়েছিল। স্বাস্থ্য আধিকারিকদের মতে কোঝিকোড়, মালাপ্পুরম এবং ওয়েনাড় জেলার আটজন রোগী বর্তমানে কোঝিকোড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অ্যামিবিক মেনিঞ্জোএনসেফালাইটিস মূলত দূষিত জলে সাঁতার কাটা বা স্নানের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। এই বছর কেরালা জুড়ে এখনও পর্যন্ত ৪২টি এমন সংক্রমণের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। বারবার সংক্রমণের ঘটনা ঘটতে থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ কোঝিকোড়, ওয়েনাড় এবং মালাপ্পুরম জেলায় কূপ ও জল সংরক্ষণের ট্যাঙ্কগুলিতে ক্লোরিনেশন শুরু করেছে। আরও সংক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য সচেতনতামূলক প্রচারও চলছে। আধিকারিকরা এই তথ্য দিয়েছেন সংবাদমাধ্যমকে। এই বিষয়ে সারা দেশে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে এখন কেরালা রাজ্যটি।
পরিসংখ্যান অনুসারে এর আগে ১৯৭১ সালে প্রথমবার ভারতের তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র এবং অন্যান্য রাজ্যে এই অ্যামিবার সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল। আক্রান্তদের সকলেই মারা গিয়েছিলেন। ২০১৬ সালে কেরালায় প্রথম এই সংক্রমণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই সংক্রমণের জন্য দায়ী একটি অণুজীব যার নাম Naegleria fowleri যা মূলত গরম ও মিষ্টি জলের উৎস যেমন পুকুর, হ্রদ, কূপ, নদী ইত্যাদিতে থাকে। নাকের পথ দিয়েই এই অণুজীব শরীরে প্রবেশ করে আর দ্রুত তা মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। উষ্ণ আবহাওয়া আর ভারী বৃষ্টিপাত এই অ্যামিবার বেড়ে ওঠা ও বংশবিস্তারের জন্য উপযুক্ত।
এই অ্যামিবা শরীরে প্রবেশের ১-১২ দিনের মধ্যেই লক্ষণ দেখা দেয় শরীরে যার মধ্যে রয়েছে প্রচণ্ড জ্বর, মাথা যন্ত্রণা, বমিভাব, গা গোলানো, আলোর প্রতি উচ্চ সংবেদনশীলতা ইত্যাদি। সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে থাকলে খিঁচুনি, ভারসাম্য হারানো এবং প্রায়ই কয়েক দিনের মধ্যেই মৃত্যু ঘটে।
Check out below Health Tools-
Calculate Your Body Mass Index ( BMI )






















