National Deworming Day 2025 :মিষ্টি বেশি খেলে, দাঁত কিড়মিড় করলেই কৃমি নয় ! ভ্রান্ত ধারণা ভুলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলি জানুন...
কৃমি মূত্রনালী দিয়ে ঢুকে মূত্রনালীর ইনফেকশনের কারণ হতে পারে।কৃমি মলদ্বার থেকে ঢুকে পড়তে পারে যোনিপথে।এবিপি লাইভকে বিস্তারিত জানালেন, ডা. অগ্নিমিতা গিরি।

ছোটবেলায় কৃমির সমস্যায় ভোগেননি এমন মানুষ কমই আছেন। তবে কৃমি যে শুধুই বাচ্চাদের সমস্যা, তা একেবারেই নয়। কৃমির সমস্যায় ভুগতে পারেন শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই। National Deworming Day ঠিক এই সমস্যাটা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য । শুধু তাই নয়, বহু দিন ধরেই এই অসুস্থতা নিয়ে বেশ কিছু ভুল ধারণা মানুষের মনে এমন ভাবে গেঁথে গিয়েছে, যা মুছে ফেলা কঠিন। ১০ ফেব্রুয়ারি এ বছরও পালন করা হচ্ছে National Deworming Day। এবারের থিম Worm-free Children, Healthy Nation। অর্থাৎ কৃমি মুক্ত শিশু, স্বাস্থ্যবান দেশ। ছোটবেলা থেকেই মা-বাবা যদি সন্তানকে কৃমিমুক্ত রাখতে পারে, তাহলে তার স্বাস্থ্যের সার্বিক উন্নতি হয়। এবছর সরকারি উদ্যোগে স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শিশুদের কৃমি তাড়ানোর ওষুধ (Albendazole এর সিঙ্গল ডোজ )দেওয়া হবে। এই বিষয়ে এবিপি লাইভকে বিস্তারিত জানালেন, ডা. অগ্নিমিতা গিরি।
কৃমি কী ? জীবন বিজ্ঞানের পাঠে এর সঙ্গে পরিচয় হয় বটে, কিন্তু চারিপাশে ছড়িয়ে থাকা ভ্রান্ত ধারণাগুলো সঠিক তথ্যটা অনেক সময়ই ভুলিয়ে দেয়। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অগ্নিমিতা গিরি জানালেন, শিশুদের শরীরে সাধারণত পিনওয়ার্ম বা থ্রেডওয়ার্ম দেখা যায়। এগুলোর বিজ্ঞানসম্মত নাম এন্টারোবিয়াস ভার্মিকুলারিস।
কৃমি নিয়ে এত ভাবনা চিন্তা বা সচেতনতা প্রচারের কারণ হল, কৃমি কিন্তু এক শিশুর থেকে আরেকজনের শরীরে যেতে পারে অনায়াসেই।
- মলদ্বারের চারপাশে চুলকানি হলেই সতর্ক হতে হবে। রাত বাড়লেই বাড়তে পারে কষ্ট। বারবার চুলকানির জন্য সেখানকার ত্বক ছড়ে গিয়ে সংক্রমণ হতে পারে।
- মলদ্বারে এই অস্বস্তি বাচ্চাদের মেজাজ তিরিক্ষে করে দেয়। তারা রাতে ভাল ঘুমোতে পারে না। খিদে কমে যায়। তার ফলে দ্রুত ওজনও কমতে থাকে। আবার কোনও কোনও শিশু রাতে বিছানা ভিজিয়ে ফেলে, যাকে ডাক্তারি ভাষায় nocturnal enuresis বলা হয়।
- কৃমি মলদ্বার থেকে ঢুকে পড়তে পারে যোনিপথে। এর পরে একে একে সংক্রমিত করতে থাকে জরায়ু, ফ্যালোপিয়ান টিউব, ডিম্বাশয়কে।
- তারপর পেটের গহ্বরের আস্তরণে (peritoneal cavity) ছড়িয়ে পড়ে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে যোনিপথে চুলকানি, শ্বেতস্রাব, পেটে ব্যথা হতে পারে।
- কৃমি আবার মূত্রনালী দিয়ে ঢুকে মূত্রনালীর ইনফেকশনের কারণ হতে পারে। তার ফলে আবার প্রস্রাব করতে জ্বালার অনুভূতি হতে পারে। তলপেটে ব্যথা, ক্ষুধামান্দ্য হতে পারে। মাঝে মধ্যে বমি বমি ভাবও এর লক্ষণ।
- রাতে দাঁত কিড়মিড় করা কৃমির লক্ষণ নয়।
কৃমি থেকে বাঁচার উপায় - শিশুদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখাই প্রথম শর্ত।
- বাইরে থেকে এসে হাত ধোয়া, খাওয়ার আগে হাত ধোওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ।
- শুধু শিশুদের উপর নিয়ম জারি করলেই হবে না, সতর্ক থাকতে হবে অভিভাবকদেরও। বড়দের থেকেও কিন্তু শিশুরা সংক্রমিত হতে পারে। তাই ছোট বাচ্চাদের যাঁরা খাইয়ে দেন, তাঁদেরও সতর্ক থাকতে হবে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।
- হাতের নখ ছোট রাখা আবশ্যক।
- মুখে হাত না দেওয়া খুব জরুরি।
- খাওয়া বা খাওয়ানোর আগে হাত ধোয়া ও নখ ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
- যেসব শিশুরা বারবার কৃমির সমস্যায় ভোগে, তাদের চামচে খাওয়ার অভ্যেস করাতে হবে।
কৃমিমুক্ত করতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই ওষুধ খেতে হবে । চিকিৎসকরা সাধারণত Albendazole, Mebendazole, Pyrantel palmoate এর মতো ওষুধ দিয়ে থাকেন। শিশুরা ওষুধ খেলে, বাড়ির বড়দেরও ওষুধ খেতে হবে, কৃমির উপসর্গ না থাকলেও। আর একটা কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে, বেশি মিষ্টি বা চকোলেট খেলে কৃমি হয়, এই ধারণা এক্কেবারে ভুল।
Check out below Health Tools-
Calculate Your Body Mass Index ( BMI )























