Snoring Solution : যে কোনও নাক ডাকাই ভয়ঙ্কর নয় ! তবে ঠিক কখন ভয়ঙ্কর অসুখের ইঙ্গিত? আলোচনায় চিকিৎসক
Sleep Apnoea: সব ধরনের নাক ডাকাই বিপদের সংকেত নয়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই বিপজ্জনক, ভয়ঙ্কর রোগেরও ইঙ্গিত। বলছেন চিকিৎসক দ্বৈপায়ন ঘোষ

কলকাতা : দিন কয়েক আগেই ডাক্তারবাবুর চেম্বারে এসেছিলেন সরমা দত্ত (নাম পরিবর্তিত )। নতুন বিয়ে হয়েছে। স্বামীর সঙ্গে মিলমিশও হয়েছে দারুণ কিন্তু সমস্যা একটাই। স্বামী সাঙ্ঘাতিক নাক ডাকেন। তাই নিয়ে অভিযোগ-অনুযোগ থেকে রাগারাগি। অবশেষে ডাক্তার দেখাতে রাজি হয়েছেন স্বামী। বলছেন “ডাক্তারবাবু, কিছু একটা করুন। ওঁর নাক ডাকার শব্দে আমি ঘুমোতেই পারি না।” শুধু কি সরমা ? ওঁর মতো বহু মানুষই রোজ আসেন ডাক্তারবাবুদের কাছে । কারও স্বামীর বয়স প্রৌঢ়ত্বের দোরগোড়ায়, কারও আবার বয়স নেহাতই ৩০ এর কোঠায়। চিকিৎসকর বলছেন, নাক ডাকার কোনও বয়স হয় না। শিশুদেরও নাক ডাকতে পারে আবার বৃদ্ধেরও। ইদানিং নাক-ডাকা নিয়ে বহু মেডিক্যাল আর্টিকল বা আলোচনা প্রকাশিত হয়। তাই অনেকেই সতর্ক। তবে বলে রাখা প্রয়োজন,সব ধরনের নাক ডাকাই বিপদের সংকেত নয়।
চিকিৎসক দ্বৈপায়ন ঘোষ (Pulmonologist ও sleep medicine consultant )বলছেন, যিনি নাক ডাকেন, তাঁকে কিছু প্রশ্ন (Berlin ও Epworth নামক স্কেল)দেওয়া হয়। রোগীর উত্তরগুলোর ভিত্তিতেই চিকিৎসকরা বুঝে নেন সমস্যাটি স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক। সেই অনুযায়ী ঝুঁকি মূল্যায়ন করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করে নেওয়া হয়।
কখন বোঝা যাবে, ডাক্তার দেখানোর সময় হয়েছে?
চিকিৎসক বলছেন, কেউ যদি জোরে জোরে, বিকট আওয়াজে নাক ডাকেন,তাহলে অন্তত একবার ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সেটা স্বাভাবিক নাকি কোনো রোগের পূর্বাভাস, সেটি বুঝবেন একমাত্র চিকিৎসকরাই। আরও দুটি বিষয় খেয়াল রাখা খুবই দরকার। প্রথমত, রোগী নাক ডাকতে ডাকতে হঠাৎ কিছু সময়ের জন্য থেমে যাচ্ছেন কি না ও তারপর দম আটকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে কি না। একে বলে ‘Apnoeic Spell’।
দুই, দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম পাচ্ছে কি না, সারা রাত ঘুমিয়েও কাজের মধ্যেই ঝিমুনি আসছে কি না।
এই ধরনের রোগীদের মূলত কী কী বিপদের আশঙ্কা থাকে?
নাক ডাকার প্রধান কারণ হল শ্বাসপ্রশ্বাসের পথে কোথাও না কোথাও একটা বাধা বা অবরোধ সৃষ্টি হওয়া। এই বাধা সাধারণত নাক থেকে শুরু করে গলা বা শ্বাসনালীর যেকোনো স্থানে হতে পারে। এর ফলে শ্বাসের সঙ্গে শরীরে নির্দিষ্ট পরিমাণে অক্সিজেন প্রবেশ করতে পারে না। ফলে শরীরের প্রায় সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ধীরে ধীরে ক্ষতি হতে শুরু করে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা বলছে, এর ফলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়ে ডায়াবেটিসের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস-এর কারণে স্ট্রোকের আশঙ্কাও বেড়ে যায়। আবার, অক্সিজেনের অভাবে ‘ক্যারোটিড বডি অ্যাক্টিভেশন’ হয়ে হার্ট রেট ওঠানামা করতে থাকে, খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়, হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ তৈরি হয়, স্মৃতিশক্তি কমে যায়। যৌন ইচ্ছাও হ্রাস পেতে পারে। সবথেকে চিন্তার বিষয় হল, অনেক ক্ষেত্রেই রোগীরা বুঝতেই পারেন না যে এই সমস্যাগুলো নাক ডাকার সঙ্গে সম্পর্কিত।
কোন ধরনের টেস্ট করা উচিত বা সাধারণত করা হয়?
Obstructive Sleep Apnea (OSA) রোগ নির্ণয়ের জন্য গোল্ড-স্ট্যান্ডার্ড পরীক্ষাগুলি হল লেভেল 1 পলিসমনোগ্রাফি। এই টেস্টের মাধ্যমে জানা যায়:
- নাক ডাকার ফলে ঠিক কতটা অক্সিজেন কমে যাচ্ছে
- কতক্ষণ ধরে শ্বাস বন্ধ থাকছে
- মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের কোনো অস্বাভাবিকতা ঘটছে কি না
- শরীরে কোনো অস্বাভাবিক নড়াচড়া হচ্ছে কি না, ইত্যাদি আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
তবে আজকাল, হোম-বেসড স্লিপ স্টাডি , মাল্টিপল স্লিপ ল্যাটেন্সি টেস্ট এবং অ্যাপ বেস্ড মনিটরিং ইত্যাদিও রোগী বিশেষে করা হচ্ছে। তবে, শ্বাসনালীর কোথায় ঠিক বাধার সৃষ্টি হচ্ছে, তা নির্দিষ্টভাবে জানতে গেলে অবশ্যই ডাক্তারের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ, নিরীক্ষণ এবং DISE (ড্রাগ ইন্ডিউসড এন্ডোস্কোপি ) করার দরকার পড়ে।
এই রোগের চিকিৎসা মূলত কীভাবে করা হয়?
চিকিৎসক জানাচ্ছেন OSA একবার নির্ণয় হয়ে গেলে, এখনও পর্যন্ত এর সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি হল CPAP মেশিন ব্যবহার। বর্তমানে CPAP মেশিনেরও বিভিন্ন ধরন এসেছে, যেগুলির অনেকগুলোই এখন খুব সহজেই, ঝামেলাবিহীনভাবে ঘুমের সময় বাড়িতে ব্যবহার করা যায়। CPAP মেশিন ব্যবহার করতে অনীহা বোধ করেন, তাঁদের জন্য কিছু সহজে ব্যবহার করা যায় এমন যন্ত্রপাতি আছে। যেমন: eXciteOSA, Provent থেরাপি, cNEP, ম্যান্ডিবুলার এডভান্সমেন্ট ডিভাইস ইত্যাদি। তবে খুব কম কিছু ক্ষেত্রে অপেরেশনের ও প্রয়োজন পড়ে।
এই ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার বা অপারেশন ছাড়াও কি অন্য কোনো উপায় আছে?
চিকিৎসকরা বলছেন, তাও আছে। আজ থেকে দুই-আড়াই বছর আগেও তেমন কোনও বিকল্প পদ্ধতি ছিল না। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু গবেষণার মাধ্যমে আরও কিছু নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি এসেছে, যেমন: মায়োফাঙ্কশনাল এপ্রোচ ও হাইপোগ্লোসাল নার্ভ স্টিমুলেশন।
এছাড়া, খুব প্রয়োজন ওজন কমানো, নিয়মিত বিশেষ কিছু ব্যায়াম ও ফিজিওথেরাপি। বিশেষভাবে নির্ধারিত ডায়েট চার্ট ফলো করতে হবে। বিজ্ঞাপন দেখে ওভার দ্য কাউন্টার ওষুধ বা যন্ত্রপাতি না কেনাই বাঞ্ছনীয়। বরং ডাক্তারের পরামর্শমতোই ওষুধ খেতে হবে।
এই সমস্যাও মাইল্ড থেকে মডারেট হয়। কোন পর্যায়ে আপনার সমস্যাটি দাঁড়িয়, তা বলতে পারবেন চিকিৎসকই।
মনে রাখতে হবে, নাক ডাকা নিয়ে যেমন অযথা ভয় পাওয়ার দরকার নেই, তবে যদি দিনে দিনে আওয়াজ বেড়ে গর্জনে পরিণত হয়,তাহলে একেবারেই দেরি না করে ডাক্তারি পরামর্শ নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
Check out below Health Tools-
Calculate Your Body Mass Index ( BMI )























