Harish Rana News: দুর্ঘটনার পরে আড়াই বছর ধরে বিছানায় ছেলে, সাড়হীন! তবু হরিশের মতো পরিণতি চায় না আনন্দের পরিবার
Passive Euthanasia Case: হরিশের পথে হাঁটল না মুম্বইয়ের আনন্দ দীক্ষিতের পরিবার। যখন চর্চায় রয়েছে নিষ্কৃতিমৃত্যু বা Passive Euthanasia, তখনই সামনে এল আরও এক ব্যক্তির কথা, যাঁর জীবন কাটছে হরিশ রানার মতোই।

কলকাতা: হরিশ রানা (Harish Rana)। এই নামটা যেন ভুলতে পারছেন না কোনও ভারতীয়ই। পরিবারের থেকে শেষ বিদায় নিয়ে হরিশ চলে গিয়েছেন হাসপাতালে। সেখানে ধীরে ধীরে খুলে নেওয়া হবে তাঁর লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম খুলে নেওয়া হবে। ১৩ বছর ধরে মৃতপ্রায় হলে বেঁচে ছিলেন হরিশ। সাড় ছিল না শরীরে, অনুভূতি ও প্রকাশ করতে পারতেন না ঠিক মতো। ১৩ বছর ধরে, হরিশের চিকিৎসা চালিয়ে কার্যত নিঃস্ব হয়ে বসে যেতেছিলেন তাঁর পরিবার। সেই কারণেই আদালতের কাছে হরিশের নিষ্কৃতিমৃত্যুর দাবি জানান তাঁরা। ১৩ বছর পরে, সেই নিষ্কৃতিমৃত্যুতে সম্মতি জানায় আদালত।
তবে হরিশের পথে হাঁটল না মুম্বইয়ের আনন্দ দীক্ষিতের পরিবার। যখন চর্চায় রয়েছে নিষ্কৃতিমৃত্যু বা Passive Euthanasia, তখনই সামনে এল আরও এক ব্যক্তির কথা, যাঁর জীবন কাটছে হরিশ রানার মতোই। 'ভেজিটেটিভ স্টেট'-এ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে রয়েছেন তিনি। নিশ্চল। আড়াই বছর ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন, আনন্দ দীক্ষিত। উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের বাসিন্দা এই আনন্দ। ২০২৩ সালে নতুন কেনা স্কুটিতে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন আনন্দ। কিন্তু ভাগ্য বিমুখ। ঘন কুয়াশার মধ্যে দুর্ঘটনার শিকার হন আনন্দ।
২০২৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন আনন্দ। সাধ করে স্কুটি কিনেছিলেন। নতুন কেনা সেই স্কুটি চালিয়েই বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু ঘন কুয়াশার মধ্যে রাস্তা দেখা যাচ্ছিল না - ঘটে যায় দুর্ঘটনা। গুরুতর আঘাত লাগে তাঁর। তারপর থেকে আড়াই বছরের ও বেশি সময় ধরে হাসপাতালের বিছানায় কার্যত অচেতন অবস্থায় বেঁচে রয়েছেন তিনি। জীবন চলছে যন্ত্রের সাহায্যে। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের বিছানায়, নেই কোনও শারীরিক উন্নতি। অথচ পরিবার ইতিমধ্যেই তাঁর জন্য খরচ করে ফেলেছেন ৪ কোটি টাকা!
কিন্তু তবু.. নিষ্কৃতিমৃত্যুতে সম্মতি নেই আনন্দের পরিবারের। তাঁরা তাঁদের জীবনের শেষ সঞ্চয়টুকু দিয়েও ছেলের চিকিৎসা করাতে চান। ইতিমধ্যেই আনন্দের চিকিৎসা করাতে গিয়ে তাঁদের জমিজমা বিক্রি করতে হয়েছে। মাথার ওপর থেকে চলে গিয়েছে ছাদটাও। এখন একটি ভাড়া বাড়িতে থাকে আনন্দের পরিবারে। একটি বিমা সংস্থার কাছে আনন্দের চিকিৎসার কিছুটা ব্যায়ভার বহন করার জন্য আবেদন জানিয়েছিল আনন্দের পরিবার। কিন্তু তা খারিজ হয়ে যায়। সেই কারণে আনন্দের পরিবারকে অতিরিক্ত ঋণ পর্যন্ত নিতে হয়েছে।
হোক.. তবু আনন্দের পরিবার মনে করেন.. প্রাণটুকু তো আছে। তাতেই 'আনন্দ'।
























