Allahabad High Court: ‘নিজে বিপদ ডেকে এনেছেন, সমান দায় তাঁর’, ধর্ষণ মামলায় নির্যাতিতাকে দুষলেন বিচারপতি, অভিযুক্তের জামিন এলাহাবাদ হাইকোর্টে
Justice Sanjay Kumar Singh: সম্প্রতি নাবালিকাকে ধর্ষণের মামলায় বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি রাম মনোহর নারায়ণ মিশ্র।

লখনউ: নাবালিকার স্তন খামচে ধরা, পাজামার দড়ি ছিঁড়ে দেওয়া ধর্ষণের চেষ্টা নয় বলে মন্তব্য করেছিলেন এক বিচারপতি। সেই নিয়ে দেশের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত বিস্ময় প্রকাশ করেছিল। আরও এক কদম এগিয়ে এবার নির্যাতিতার ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন আর এক বিচারপতি। ঘটনাচক্রে এই বিচারপতিও উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্টে অধিষ্ঠিত। নির্যাতিতা নিজেই সমস্যা ডেকে এনেছেন, তিনিও ঘটনার জন্য সমান দায়ী বলে দাবি করলেন বিচারপতি। (Allahabad High Court)
সম্প্রতি নাবালিকাকে ধর্ষণের মামলায় বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি রাম মনোহর নারায়ণ মিশ্র। এবার বিতর্কিত মন্তব্য করলেন এলাহাবাদ হাইকোর্ট তাঁর সতীর্থ সঞ্জয় কুমার সিংহ। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে দায়ের হওয়া একটি মামলায় ধর্ষণের অভিযুক্তকে জামিন দিয়েছেন তিনি। যে রায় দিয়েছেন তিনি, তাতে নির্যাতিতার ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি। ( Justice Sanjay Kumar Singh)
জানা গিয়েছে, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে একটি মামলা দায়ের হয়, যেখানে স্নাতকোত্তর স্তরে পাঠরত এক তরুণী ধর্ষণের অভিযোগ এনেছিলেন। ওই তরুণী জানান, ২১ সেপ্টেম্বর বন্ধুদের সঙ্গে মিলে Hauz Khas রেস্তরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন। ভোররাত ৩টে পর্যন্ত সেখানে মদ্যপান করেন তাঁরা। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দিল্লিতে যেখানে পেয়িং গেস্ট থাকতেন, সেখানে ফেরা মুশকিল হয়ে ওঠে।
সেই অবস্থায় নিশ্চল চন্দক নামের বন্ধুটি তাঁকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। ওই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান নির্যাতিতা। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে নিশ্চল তাঁকে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে তোলে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তিনি কিছু বলার বা করার মতো অবস্থায় ছিলেন না। সেই সুযোগে তাঁকে দু’-দু’বার ধর্ষণ করে নিশ্চল। দু’দিন পর, ২৩ সেপ্টেম্বর এফআইআর দায়ের করেন নির্যাতিতা।
নির্যাতিতার বয়ানের নিরিখে তাঁর উপরই কার্যত ধর্ষণের দায় চাপান বিচারপতি সঞ্জয় কুমার সিংহ। তিনি বলেন, “অভিযুক্ত ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে তাঁকে দু’বার ধর্ষণ করেছেন বলে যে অভিযোগ এনেছেন নির্যাতিতা, তা সর্বৈব মিথ্যা এবং সমস্ত তথ্যপ্রমাণের পরিপন্থী। নির্যাতিতা জানিয়েছেন, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তাঁর সাপোর্ট দরকার ছিল, নিজেই বিশ্রাম নিতে যেতে রাজি হয়েছিলেন। নিজে বিপদ ডেকে আনেন উনি। তিনি নিজেই এর জন্য দায়ী। এটা ধর্ষণের ঘটনা নয়, বরং যা ঘটেছে, তা পারস্পরিক সম্মতিতেই ঘটে থাকতে পারে।”
অভিযুক্তের আইনজীবীকে উল্লেখ করে বিচারপতি সঞ্জয় কুমার সিংহ জানান, অভিযুক্তের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগও নেই, সুযোগ নেই প্রমাণ নষ্ট করারও। ১১ ডিসেম্বর থেকে জেলে রয়েছে নিশ্চল, তার কোনও অপরাধের রেকর্ডও নেই জামিন দিলে সে সুযোগের অপব্যবহার করবে না বলেও জানিয়েছেন অভিযুক্তের আইনজীবী। সরকারি কৌঁসুলি জামিনের বিরোধিতা করলেও, তা খারিজ করে দেন বিচারপতি সঞ্জয় কুমার সিংহ। তাঁর কথায়, “সব খতিয়ে দেখে আমার মনে হয়েছে, নির্যাতিতা এবং অভিযুক্ত দু’জনই যে প্রাপ্তবয়স্ক, সেব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। নির্যাতিতা স্নাতকোত্তর স্তরের পডুয়া। নিজের নৈতিক দায়িত্ব বোঝার মতো পরিণত তিনি, নিজের আচরণের গুরুত্ব বোঝার ক্ষমতাও রয়েছে। আদালত মনে করছে, নির্যাতিতার অভিযোগ যদি সত্যি বলে ধরেও নেওয়া হয়, সেক্ষেত্রেও বলা যায়, নির্য়াতিতা নিজে বিপদ টেকে আনেন এবং নিজেই তার জন্য দায়ী। তাঁর বয়ানেই বিষয়টি স্পষ্ট। ওঁর হাইমেন (সতীচ্ছদ) ছিঁড়ে গিয়েছে বটে, কিন্তু চিকিৎসক যৌন নির্যাতন নিয়ে কোনও মতামত জানাননি।” অভিযুক্ত নিশ্চলের জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। তদন্তে তাঁকে সহযোগিতা করতে নির্দেশ দিয়েছে।






















