Bangladesh Crisis: সেনাপ্রধানের সঙ্গে অশান্তি চরমে, ইউনূসের ইস্তফা-সম্ভাবনা, ঠিক কী কারণে চওড়া হচ্ছে ফাটল?
ফের কি পালাবদল বাংলাদেশে? সেনাপ্রধানের সঙ্গে অশান্তি চরমে। বাড়ছে চাপ। শীঘ্রই ইস্তফা দিতে পারেন ইউনূস।

বাংলাদেশের অন্দরের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে পড়ছে । সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কার্যত হতাশ তদারকি সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস। ইতিমধ্যেই ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার ও বাংলাদেশ সেনার মধ্যে ফাটল সকলের কাছেই স্পষ্ট হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার রাতে ইউনূসের বাসভবন থেকে বেরিয়ে এই কথা জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
কী নিয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি জটিল
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের মধ্যে মতের পার্থক্য বেড়েই চলেছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, বাংলাদেশ নতুন রাজনৈতিক সঙ্কটের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মনে রছে ওয়াকিবহাল মহল। হাসিনা-পরবর্তী সময়ে একসময় এই ইউনূসের উপরই ভরসা রেখেছিলেন ওয়াকার-উজ-জামান। কিন্তু এখন বাংলাদেশের নির্বাচন, সামরিক হস্তক্ষেপ এবং ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে দুই পক্ষের চ্যুতি।
বাংলাদেশের এই অস্থিরতার সূত্রপাত ২০২৪ সালের অগাস্টে। ছাত্রসমাজের আন্দোলন ক্রমেই গণ আন্দোলনের রূপ নেয়। তারপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান । তখনই মহম্মদ ইউনূসকে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে দায়িত্বে বসানো হয়। কিন্তু এখন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গেই মত মিলছে না ইউনূসের।
বুধবার ঢাকা সেনানিবাসের সেনা প্রাঙ্গণে অফিসার্স অ্যাড্রেসে সেনাপ্রধান বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন কারাতে হবে। আর এই নির্বাচন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত তদারকি সরকার নিতে পারে না বলে মনে করেন তিনি । ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, এ বিষয়ে তাঁর অবস্থান আগের মতোই। দেশের ভবিষ্যৎ পথ ঠিক করার অধিকার একমাত্র একটি নির্বাচিত সরকারেরই রয়েছে। এছাড়াও মায়ানমারের রাখাইনে মানবিক করিডরের বিষয়েও নিজের মত স্পষ্ট করে দেন তিনি। বলেন, মানবিক করিডরের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে হলে তা রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে, নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে হওয়া দরকার। অর্থাৎ ইউনূসের তদারকি সরকার এই বিষয়ে সম্মতি দিতে পারেন না।
সেই সঙ্গে সেনাপ্রধান স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বাংলাদেশি সেনাবাহিনী মহম্মদ ইউনূসের চিন ও পাকিস্তানপন্থী নীতিতে অসন্তুষ্ট। এদিকে নির্বাচন তাড়াতাড়ি করার উপর চাপ দিচ্ছে বিএনপিও। অন্যান্য দলগুলিও ইউনূসের নীতিতে তুষ্ট নয়। এই পরিস্থিতিতে নিজের ঘর থেকেও তেমন সমর্থন পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতেই চাপি পড়ে তিনি সরে যেতে চাইছেন বলে পর্যবেক্ষক বিশ্লেষকদের।
অন্যদিকে,বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচনের দাবি করেছে বিএনপি। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের জন্য একটি নির্দিষ্ট চিত্র সামনে না আনা হলে, অন্তবর্তী সরকারকে সহযোগিতা করা হবে কিনা সেই বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।






















