Bangladesh : বাংলাদেশে সত্যজিৎ রায়ের বাড়ি ভাঙা শুরু, কেন রায়-বাড়ির স্মৃতি ভেঙেচুরে দিতে চায় ইউনূস প্রশাসন?
Demolition of Satyajit Rays ancestral home: প্রতিবাদ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কড়া বার্তা দিয়েছে ভারত সরকারও। কিন্তু কী এমন হল যে, এই বাড়ি ভেঙে ফেলতে হল? কী অবস্থায় রয়েছে বাড়িটি ?

কলকাতা : বাংলাদেশের ময়মনসিংহে সত্যজিৎ রায়ের পারিবারিক বাড়ি ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করল বাংলাদেশ সরকার। ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি ভেঙে ফেলার প্রতিবাদ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কড়া বার্তা দিয়েছে ভারত সরকারও। কিন্তু কী এমন হল যে, এই বাড়ি ভেঙে ফেলতে হল? কী অবস্থায় রয়েছে বাড়িটি ?
এর আগে জুন মাসে সিরাজগঞ্জে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৈতৃক ভিটেতে ভাঙচুর চালানো হয়। তার আগে এপ্রিলে ঢাকার মিরপুরে একটি শহিদ স্মৃতি স্তম্ভ ও লালমনিরহাটে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি মঞ্চের একাংশও ভেঙে ফেলা হয়েছিল। বাংলাদেশের সাংবাদপত্র দ্যা ডেলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ময়মনসিংহের হরিকিশোর রায় রোডের শতাব্দী প্রাচীন বাড়িটি ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। হরিকিশোর রায় ছিলেন কিশোরগঞ্জের কাটিয়াদী উপজেলার মসূয়ার জমিদার। তিনি বাংলা শিশু সাহিত্যের অন্যতম পথিকৃত উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী, সুকুমার রায় ও সত্যজিৎ রায়ের পূর্ব পুরুষ। শতাব্দী প্রাচীন একতলা বাড়িটি ১৮৮৯ সাল থেকে বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমি ব্যবহার করা শুরু করে। এখানেই এখন একটি ঘর তৈরি করা হচ্ছে। তাই গত কয়েকদিন ধরে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি ভাঙার কাজ চলছে।
যদিও এরমধ্যে ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি ভেঙে ফেলার প্রতিবাদ শুরু হয়েছে বাংলাদেশের অন্দরেই। ডেলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী ঐতিহাসিক ভবন ভাঙার তীব্র প্রতিবাদ করে কবি শামিম আশরফ বলেছেন, জমিদার হরিকিশোর রায়ের এই বাড়িটি ইতিহাসের অংশ। স্বার্থান্বেষী মানুষ ভাবে এগুলো জরাজীর্ণ ,পচা। ভেঙে ফেলতে চায়, উন্নয়নের নামে, নানা অজুহাতে। সত্যজিৎ রায়ের পরিবারের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বাড়ি ভেঙে ফেলার প্রসঙ্গে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের (ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগ) মাঠ কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, এটি রায় পরিবারের ঐতিহাসিক বাড়ি, প্রত্নতত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে বাড়িটি এখনও তালিকাভুক্ত না হলেও তা তালিকাভুক্ত হতে পারে।
এই বাড়ি ভাঙার প্রতিবাদ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারত সরকারকে বিষয়টিতে নজর দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। তারপর ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, এই বাড়িটি বাংলাদেশ সরকারের অধীনস্থ। এটি বাংলার সাংস্কৃতিক নবজাগরণের অন্যতম প্রতীক। তাই বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করা হচ্ছে, এটি ভাঙার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হোক এবং মেরামতি করে ভারত-বাংলাদেশের যৌথ সাংস্কৃতিক নিদর্শনের উদাহরণ হিসেবে মিউজিয়াম করা হোক। এক্ষেত্রে ভারত সরকার সব রকমের সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক।






















