শীতেও ডেঙ্গি-হানা অব্যাহত, মৃত্যু গৃহবধূর, হাসপাতালে ভাঙচুর পরিজনদের

কলকাতা: শীত এসে গিয়েছে। কিন্তু, ডেঙ্গি-আতঙ্ক অব্যাহত। ফের ডেঙ্গি আক্রান্তের মৃত্যু। চিকিৎসায় গাফিলতিতে ডেঙ্গি আক্রান্তের মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে ভাঙচুর। পরিবার সূত্রে খবর, শ্যামপুকুরের বাসিন্দা, বছর ৩৬-এর গৃহবধূ টুম্পা রজক গত বুধবার থেকে জ্বরে ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার, স্থানীয় পুর ক্লিনিকে প্লেটলেট পরীক্ষা করা হয়। তখন প্লেটলেট ছিল ১ লক্ষ ৬৪ হাজার। এরপর পরিবার তরফে বেসরকারি ল্যাবে পরীক্ষা করা হলে ধরা পড়ে প্লেটলেট আরও ৪০ হাজার কমে গিয়েছে। শুক্রবার গৃহবধূকে ভর্তি করা হয় মাড়োয়ারি রিলিফ হাসপাতালে, চিকিৎসক সন্তোষ মাহেশ্বরীর তত্ত্ববধানে। শনিবার প্লেটলেট ক্রমশ কমতে থাকে। চলে যায় চল্লিশ হাজারের নীচে। পরিবারের দাবি, শনিবার রাতে হঠাৎই মাড়োয়ারি রিলিফ হাসপাতাল, রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক জানিয়ে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। সেই মতো একটি অ্যাম্বুলেন্সও আনা হয়। কিন্তু, অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার আগে রবিবার সকাল পৌনে দশটা নাগাদ মৃত্যু হয় গৃহবধূর। ডেথ সার্টিফিকেটে ডেঙ্গি ও ডেঙ্গির জেরে রক্তক্ষরণের উল্লেখ রয়েছে। পরিবারের দাবি, চিকিৎসায় গাফলিতর জেরেই এ ভাবে মৃত্যু হল। মৃতের স্বামী বলেন, বার বার ডাক্তাররের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছি। পারিনি। অন্য জুনিয়ররা ছিলেন। তারা ইঞ্জেকশন আনতে বলে । সেটা আনি। মাস্ক খুলিয়ে বসিয়ে রেখেছিল। চিকিৎসায় গাফিলতিতে রোগী মৃত্যুর অভিযোগে, রোগীর পরিজনেরা হাসপাতালে তাণ্ডব শুরু করে দেন বলে দাবি। সঙ্কটজনক রোগীদের যেখানে রাখা হয়, সেই হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে ভাঙচুর চালানো হয়। হাসপাতালের এক নার্স বলেন, আমার দিকে তেড়ে এসেছিল। ডাক্তারে দিকে চেয়ার তুলে মারতে গিয়েছিল। এক রোগী বলেন, আচমকা দেখি চেয়ার ছুড়ে মারধর করছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। যদিও, গাফলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক সন্তোষ মাহেশ্বরী। ডেঙ্গির থাবা হাওড়াতেও। পরিবার সূত্রে খবর, শ্যামপুরের ডিহিডেরিয়া গ্রামের বাসিন্দা, বছর ৬৮’র মানিকলাল মণ্ডলের সপ্তাহ খানেক আগে জ্বর হয়। প্রথমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি ছিলেন। সেখান থেকে আনা হয় উলুবেড়িয়ার একটি নার্সিংহোমে। পরিবারের দাবি, রক্ত পরীক্ষা করে ডেঙ্গি ধরা পড়ে। প্লেটলেট ক্রমশ কমতে থাকায় উলুবেড়িয়ার নার্সিংহোম থেকে এনে মঙ্গলবার ভর্তি করা হয় সিএমআরআইয়ে। শুক্রবার সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। সিএমআরআই কর্তৃপক্ষের দাবি, সঙ্কটজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন হাওড়ার মানিকলাল মণ্ডল।






















