Capital Punishment: ফাঁসিতে না ঝুলিয়ে প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন দেওয়া যেতে পারে কি? মৃত্যুদণ্ড নিয়ে অবস্থান জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট
Supreme Court on Capital Punishment: মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে ফাঁসির বিধান রয়েছে দেশের সংবিধানে। সেই বিধানই বহাল রাখল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

নয়াদিল্লি: মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে ফাঁসির দড়িতে ঝোলানোর পরিবর্তে ‘প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশনে’র সুপারিশ করা হয়েছিল। ফাঁসির দড়িতে ঝোলানোর পরিবর্তে প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন দিলে যন্ত্রণা কিছুটা হলেও কমবে এবং জীবনের মর্যাদাও বজায় থাকবে বলে জানানো হয়। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দিল দেশের সুপ্রিম কোর্ট। (Supreme Court on Capital Punishment)
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে ফাঁসির বিধান রয়েছে দেশের সংবিধানে। সেই বিধানই বহাল রাখল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আপাতত দেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে ফাঁসিতে ঝোলানোর রীতিই বহাল থাকবে। (Capital Punishment)
বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে শুনানি চলছিল। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন দেওয়ার যে বিকল্প উপায়ের সুপারিশ করা হয়েছিল, তা খারিজ করে দিয়েছেন তাঁরা। এমনকি এই সংক্রান্ত আগের তিনটি রায় বৃহত্তর বেঞ্চের কাছে পাঠানোর যে আবেদন জমা পড়ে, খারিজ করে দেওয়া হয়েছে তাও।
আইনজীবী ঋষি মালহোত্রর তরফে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিকল্প উপায়ের সুপারিশ করা হয়েছিল এবং সেই মর্মে আবেদন জানানো হয়েছিল। প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশনের পাশাপাশি, গুলি করে হত্যা, বিদ্যুস্পৃষ্ট এবং গ্য়াস চেম্বারের পুরে দেওয়ার মতো বিকল্প উপায়ও তুলে ধরেছিলেন তিনি। তিনি জানান, এতে মাত্র কয়েক মিনিটেই প্রাণ বেরিয়ে যাবে। বেশি যন্ত্রণা পেতে হবে না। আবার জীবনের মর্যাদাও অক্ষুণ্ণ থাকবে।
আবেদনকারী আদালতে জানান, ফাঁসির দড়িতে ঝোলানো অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক, অমানবিক এবং নিষ্ঠুর আচরণ। এমনকি অপরাধ বিধির অনুচ্ছেদ ৩৫৪ (৫)-কে অসাংবিধানিক ঘোষণার দাবিও করেন তিনি। জানান, সংবিধানের ২১ নং অনুচ্ছেদে মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ফাঁসিতে ঝোলানো ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় লেগে যায়। প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন দিলে সময় লাগে মাত্র পাঁচ মিনিট। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি নীতিকেও সামনে রাখেন তিনি, যেখানে যতটা সম্ভব কম যন্ত্রণাদায়ক উপায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা বলা রয়েছে।
আরও পড়ুন: তৃণমূল আমলে দেওয়া জাতি শংসাপত্র যাচাইয়ে স্থগিতাদেশ, কলকাতা হাইকোর্ট বলল…
কিন্তু আদালত তাঁর ওই আবেদন খারিজ করে দেয়। বিচারপতিরা জানান, এব্যাপারে তাঁদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত নয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিপকল্প পদ্ধতির সপক্ষে যদি জোরাল বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পেশ করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে ফের বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা যেতে পারে। বলা হয়, "স্পষ্ট ভাবে জানাচ্ছি, এই রিট পিটিশন খারিজ হওয়ার অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতে পর্যালোচনার রাস্তাও বন্ধ হয়ে গেল। বরং বৈজ্ঞানিক এবং চিকিৎসাগত জোরাল প্রমাণ উঠে আসে, তাহলে পর্যালোচনা করে দেখা যেতে পারে।"
আদালত আরও জানিয়েছে, এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গড়তে পারে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিকল্প পদ্ধতিগুলি পর্যালোচনা করে দেখা যেতে পারে সেখানে।
কেন্দ্রের হয়ে আদালেত সওয়াল করছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল আর বেঙ্কটরামানি। তিনি আদালতকে জানান, সরকারের তরফে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এ ব্যাপারে আলোচনা করতে।
এর আগে, ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর শুনানি চলাকালীন কেন্দ্রের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল আদালত। কেন্দ্র রীতি বদলে তেমন আগ্রহী নয় বলে মন্তব্য করা হয়েছিল সেই সময়। বলা হয়েছিল, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোন উপায় বেছে নেবেন, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির সেই সুযোগ থাকা উচিত বলে। যদিও কেন্দ্রের যুক্তি ছিল, এটি মোটেই 'বাস্তবসম্মত' নয়। সেই নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে কেন্দ্রকে আগ্রহী দেখাচ্ছে না বলে টিপ্পনি করা হয়।






















