Pakistan News: পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করেছে পাকিস্তান? ট্রাম্পের দাবিতে প্রতিক্রিয়া ইসলামাবাদের, আফগান সীমান্তে পর পর ভূমিকম্প ঘিরে বাড়ছে জল্পনা
Pakistan Nuclear Test Allegations: সম্প্রতি নতুন করে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।

নয়াদিল্লি: নতুন করে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার ঘোষণা করতে গিয়ে সরাসরি পাকিস্তানের নাম টেনে এনেছেন। পাকিস্তানও গোপনে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করেছে বলে দাবি করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই নিয়ে শোরগোলের মধ্যে পাকিস্তানের তরফে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন ইসলামাবাদের এক আধিকারিক। অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়ার পরিবর্তে তিনি জানিয়েছেন, পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করা প্রথম দেশ নয় পাকিস্তান। নতুন করে পরীক্ষা শুরু করার ক্ষেত্রেও প্রথম দেশ নয় পাকিস্তান। আর তাতেই জল্পনা জোর পেয়েছে। (Pakistan Nuclear Test Allegations)
সম্প্রতি নতুন করে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। যে আমেরিকা পরমাণু অস্ত্র সংবরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, হঠাৎ করে তারা কেন ফের পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিল, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। এতে সরাসরি পাকিস্তান, রাশিয়া, চিনের উল্লেখ করেন ট্রাম্প। জানান, সকলের অগোচরে মাটির নীচে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করেছে ওই তিন দেশ। আর তাই আমেরিকারও পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই বলে যুক্তি দেন ট্রাম্প। (Pakistan News)
বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল পড়ে যেতেই মুখ খুলেছেন পাকিস্তানের এক আধিকারিক। তবে ট্রাম্পের অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়ার পরিবর্তে তাঁর বক্তব্য, “পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করা প্রথম দেশ নয় পাকিস্তান। পুনরায় পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষাকারী দেশ হিসেবেও থাকবে না পাকিস্তান।” তাহলে কি সত্যিই পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করেছে পাকিস্তান? তারা কবে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করল? সে ব্যাপারে কেউ জানতেই বা পারল না কেন?
এখনও পর্যন্ত যে তথ্য় মিলছে, তা হল, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করে থাকতে পারে পাকিস্তান, ঠিক যে সময় ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত চলছিল। কারণ ওই সময় পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান সীমান্তে পর পর বেশ কয়েক বার মাটি কেঁপে ওঠে, যা ভূমিকম্প বলেই গণ্য হচ্ছিল এতদিন। গত ৩০ এপ্রিল থেকে ১২ মে-র মধ্যে কমপক্ষে চার বার ভূমিকম্প হয় পাক-আফগান সীমান্তে, যার তীব্রতা ছিল ৪.০ থেকে ৪.৭ পর্যন্ত।
১৯৯৮ সালের ২৮ এবং ৩০ মে পাকিস্তান যে Chagai-1, Chagai-2 পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করে, সেই সময়ই এই তীব্রতাতেই কেঁপে উঠেছিল মাটি। ফলে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা ও পর পরা মাটি কেঁপে ওঠার মধ্যে সংযোগ খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। এমনকি ট্রাম্পের মন্তব্যেও তেমন ইঙ্গিত মিলেছে। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “ওরা তো কিছু বলে না। কোথায় পরীক্ষা করছে, জানা যায় না তাও। মাটির নীচে পরীক্ষা করে। মানুষ বুঝতে পারেন না কী ঘটছে। শুধু কম্পন অনুভূত হয় একটু।” তবে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে চিন্তার যথেষ্ট কারণও রয়েছে পাকিস্তানের। কারণ এতে আমেরিকার হাত মাথার উপর থেকে সরে যেতে পারে যেমন, তেমনই আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের কাছ থেকে ঋণ পাওয়াও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ভারত এবং পাকিস্তান, দুই দেশই পরমাণু শক্তিধর। শত্রুপক্ষের তরফে পরমাণু হামলা হলে, তবেই পাল্টা পরমাণু হামলার শপথ নিয়েছে ভারত। অর্থাৎ ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, আগ বাড়িয়ে প্রথমে কারও উপর পরমাণু হামলা চালানো হবে না। কিন্তু লাগাতার ভারতের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য করে চলেছে পাকিস্তান। চলতি বছরে সেই নিয়ে পাকিস্তানকে কড়া বার্তাও দেয় ভারত। পরমাণু অস্ত্রকে সামনে রেখে হুমকি দেওয়া যাবে না বলে মে মাসেই জানিয়ে দেয় দিল্লি।
কিন্তু ট্রাম্প যে দাবি করেছেন এবং এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে পর পর মাটি কেঁপে ওঠার যে ঘটনা, তার মধ্যে সংযোগ খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। কারণ পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার সঙ্গে মাটি কেঁপে ওঠার প্রত্যক্ষ সংযোগ রয়েছে। বিজ্ঞান বলছে. ২০ কিলোটন পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করলে যে বিস্ফোরণ ঘটে, তার মাত্রা হয় ২০০০০ টন TNT. এ থেকে মাটি কেঁপে ওঠা স্বাভাবিক ঘটনা, যা সেন্সরে ধরা পড়ে। ২০০৬ সালের ৯ অক্টোবর উত্তর কোরিয়া প্রথমবার যখন পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করে, সেই সময় যে মাটি কেঁপে ওঠে, তাকে স্বাভাবিক ভূমিকম্প ভেবে ভুল করেছিলেন সকলে, যার তীব্রতা ছিল ৪। পিয়ংইয়ং নিজে থেকে ঘোষণা করলে কয়েক ঘণ্টা পর বিষয়টি ধরা পড়ে।
চলতি বছরে পাক-আফগান সীমান্তে বারংবার মাটি কেঁপে উঠলে, সেগুলিকে ভূমিকম্প বলেই চিহ্নিত করে ভারতের ন্য়াশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি। গোটা পৃথিবীতে রাষ্ট্রপুঞ্জের Comprehensive Nuclear Test Ban Organisation-এর ৩০০টি কেন্দ্র নজরদারি চালালেও, পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে কিছু জানায়নি তারা। পাক-আফগান সীমান্ত থেকে বালুচিস্তানে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা কেন্দ্রটি কয়েকশো কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ১৯৯৮ সালে সেখানেই পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করেছিল তারা। এই মুহূর্তে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যেও সংঘাত চরমে। তবে পাক-আফগান সীমান্ত ভূমিকম্পপ্রবণও। ইন্ডিয়ান এবং ইউরেশিয়ান পাতের সংযোগস্থল সেটি। গত ৩১ অগাস্টও ভূমিকম্প হয় সেখানে, যার তীব্রতা ছিল ৬। সেবার ২২০০ মানুষ মারা যান। একদিন আগে, ৩ নভেম্বরও ভূমিকম্প হয়েছে সেখানে।






















