Ventilation Guideline: প্রয়োজন ছাড়াই বিল বাড়াতে ভেন্টিলেশন? পরিস্থিতি সামাল দিতে জারি কড়া গাইডলাইন
Ventilation Guideline for Hospital: প্রয়োজন ছাড়াই, বিল বাড়াতে রোগীকে রাখা হয়েছে ভেন্টিলেশনে! বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের একাংশের বিরুদ্ধে প্রায়ই ওঠে এরকম মারাত্মক অভিযোগ।

সন্দীপ সরকার ও ঝিলম করঞ্জাই, কলকাতা: দেশজুড়ে বাড়ছে বয়স্ক রোগীদের সংখ্যা। প্রয়োজন বাড়ছে ভেন্টিলেশন সাপোর্টের। সেই সুযোগে শুধুমাত্র বিল বাড়াতে দুর্নীতি হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালের একাংশে। এই অভিযোগ নতুন নয়। দুর্নীতি রুখতে এবার দেশজুড়ে বেসরকারি হাসপাতালে ভেন্টিলেটর ব্যবহারে কড়া গাইডলাইন জারি ডিরেক্টর জেনারেল অফ হেলথ সার্ভিসেস-এর। গাইডলাইন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া চিকিৎসক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
প্রয়োজন ছাড়াই, বিল বাড়াতে রোগীকে রাখা হয়েছে ভেন্টিলেশনে! দিনের পর দিন রোগীকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে মৃত্যুর পরেও! বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের একাংশের বিরুদ্ধে প্রায়ই ওঠে এরকম মারাত্মক অভিযোগ। লক্ষ লক্ষ টাকার বিল মেটাতে সর্বস্বান্ত হয় রোগীর পরিবার। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে দেশজুড়ে বেসরকারি হাসপাতালে ভেন্টিলেটর ব্যবহারে কড়া গাইডলাইন জারি Director General of Health Services-এর।
DGHS-এর নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা না করে, অপ্রয়োজনে শুধুমাত্র চিকিৎসার বিল বাড়াতে, ভেন্টিলেটরযুক্ত ICU বা CCU-তে রোগীকে রাখা যাবে না। কেন রোগীকে ভেন্টিলেশন দেওয়া হচ্ছে, তার উপযুক্ত কারণ উল্লেখ করতে হবে মেডিক্যাল রেকর্ডে। পরিবারকে না জানিয়ে, রোগীকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া যাবে না। রোগী যদি একাকী থাকেন বা কোনও আত্মীয় বা পরিচর্যাকারী না থাকেন, সে ক্ষেত্রে এই শর্ত প্রযোজ্য হবে না। ভেন্টিলেটর সাপোর্ট এবং ICU-এর দৈনিক খরচ, সম্মতি দেওয়ার সময়ই আত্মীয়-পরিজনদের স্পষ্টভাবে জানাতে হবে, যাতে আর্থিক বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকে। ICU বেড ও ভেন্টিলেশনের খরচ আলাদাভাবে জানাতে হবে, কোনও লুকোনো খরচ যেন না থাকে, যা পরিবারের ওপরে বোঝা হিসাবে চেপে যেতে পারে। বিলিং ডেস্ক, ওয়েটিং এরিয়া সহ যে সব জায়গায় রোগীর পরিজনরা থাকেন, সেখানে ভেন্টিলটরের খরচ সম্পর্কিত তথ্য টাঙিয়ে রাখতে হবে।
ভেন্টিলেটর ব্যবহারের খরচে যাতে কোনও বৈষম্য বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ না থাকে সে বিষয়েও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে Director General of Health Services-এর নির্দেশিকায়। বলা হয়েছে, প্রত্যেক হাসপাতালে একই রকম খরচ রাখতে হবে। সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে ভেন্টিলেশনের খরচ আলাদা হবে না। ভেন্টিলেটর চার্জ কেবলমাত্র তখনই নেওয়া যাবে, যখন যন্ত্রটি সক্রিয়ভাবে রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হবে। ১৪ দিনের বেশি সময় ধরে ভেন্টিলেটরে থাকা প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রে হাসপাতালকে মাসিক অভ্যন্তরীণ অডিট করতে হবে। এই অডিটে দীর্ঘমেয়াদি ভেন্টিলেশন চালিয়ে যাওয়ার ক্লিনিক্যাল যৌক্তিকতা রয়েছে কিনা পর্যালোচনা করতে হবে। এই পর্যালোচনার জন্য প্রতি হাসপাতালে একটি বহুবিভাগীয় কমিটি গঠন করতে হবে। রোগীকে ভেন্টিলেশনে দেওয়ার পর থেকে, পরিবারের কাছে আতঙ্ক তৈরি করা যাবে না। পরিবারের সঙ্গে প্রতিদিন আলোচনা করে বিষয়টি বুঝিয়ে বলবেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রকের আধিকারিকদের পাশাপাশি, দিল্লির সফদরজং, রামমোহন লোহিয়া, এইমস সহ বিভিন্ন হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে তৈরি হয় ১০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি।
সেই কমিটিই এই গাইডলাইন তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেসরকারি হাসপাতালে ভেন্টিলেটরের ব্যবহার ও খরচে স্বচ্ছতা আনার বিষয়টি লোকসভায় আলোচিত হয়। তারপরই জরুরি ভিত্তিতে গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা ই-মেলে পরামর্শ পাঠাতে পারবেন। সেই সব পরামর্শ অনুযায়ী, নির্দেশিকার চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে।
Check out below Health Tools-
Calculate Your Body Mass Index ( BMI )






















