Iran Israel War : হিজবুল্লাহ-হামাসকে সমর্থন করা যাবে না, ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ থামাতে ১৫ শর্ত দিলেন ট্রাম্প
Donald Trump Ceasefire Plan :মূলত, এক মাসের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের অবসান ঘটাতেই এই পরিকল্পনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট । পাল্টা তেহরানের তরফ থেকেও বেশকিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

Donald Trump Ceasefire Plan : পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ থামাতে এবার বড় পদক্ষেপ নিল আমেরিকা (US Iran War)। ইরানকে লক্ষ্য করে ১৫-দফা শান্তি প্রস্তাব প্রকাশ্য়ে আনলেন ট্রাম্প (Donald Trump)। মূলত, এক মাসের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের অবসান ঘটাতেই এই পরিকল্পনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট । পাল্টা তেহরানের তরফ (US Iran Ceasefire Conditions) থেকেও বেশকিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
মার্কিন প্রস্তাবের মূল পয়েন্টগুলি কী কী ?
ট্রাম্প প্রশাসনের পেশ করা এই ১৫-দফা পরিকল্পনায় ইরানের ওপর অত্যন্ত কঠোর কিছু শর্তারোপ করা হয়েছে, জেনে নিন কী কী রয়েছে সেই শর্তের তালিকায়।
পরমাণু ও মিসাইল কর্মসূচি: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও তাদের মিসাইল পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দাবি জানানো হয়েছে ওয়াশিংটনের তরফে
ছায়া যুদ্ধের গোষ্ঠীকে সমর্থন নয় : হিজবুল্লাহ বা হামাসের মতো গোষ্ঠীগুলোকে তেহরানের সমর্থন বন্ধ করার দাবি করেছে মার্কিন প্রশাসন।
হরমুজ প্রণালী খুলতেই হবে : আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্ত রেখেছে আমেরিকা।
মার্কিন প্রস্তাবে সায় দিলে কী পাবে ইরান : বিনিময়ে ওয়াশিংটন ইরানকে আংশিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি, অর্থনৈতিক সহায়তা এবং দেশের বাইরে অবস্থিত জ্বালানি কেন্দ্রের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রসংঘ-নিয়ন্ত্রিত অসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর অনুমতি দেবে।
পাল্টা কঠিন শর্ত দিয়েছে ইরান
মার্কিন এই প্রস্তাবকে খুব একটা সহজভাবে নেয়নি ইরান। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী, তেহরান পাল্টা কিছু শর্ত দিয়েছে:
১. পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সমস্ত মার্কিন ঘাঁটি সরিয়ে নিতে হবে।
২. ইরানের ওপর থেকে সমস্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে।
৩. লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইজরায়েলি অভিযান বন্ধ করতে হবে।
৪. হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজ থেকে ইরানকে 'ট্রানজিট ফি' আদায়ের অনুমতি দিতে হবে।
পাকিস্তানের ভূমিকা ও ট্রাম্পের কূটনীতি
মজার বিষয় হল, এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে পাকিস্তান। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন, যেখানে ইসলামাবাদ এই আলোচনা সহজতর করার প্রস্তাব দিয়েছে। আগামী সপ্তাহেই পাকিস্তানে এই আলোচনা শুরু হতে পারে। মার্কিন প্রতিনিধি দলে ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ থাকতে পারেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
ইজরায়েলের অবস্থান ও সামরিক তৎপরতা
অন্যদিকে, গত চার সপ্তাহ ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ইজরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে কিছুটা বিস্মিত হয়েছে। তারা চেয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়াক। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ৩,০০০ সেনা মোতায়েন করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যার ফলে ওই অঞ্চলে বর্তমানে মার্কিন সেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩,০০০।
এটি কি নতুন কোনও পরিকল্পনা ?
কূটনীতিকদের মতে, ট্রাম্পের এই ১৫-দফা পরিকল্পনা আসলে ২০২৫ সালের মে মাসে করা একটি পুরোনো খসড়ারই নতুন সংস্করণ। সেই সময় ইজরায়েল ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালালে আলোচনা ভেস্তে গিয়েছিল। এখন দেখার বিষয়, পাকিস্তানের মাটিতে তেহরান এবং ওয়াশিংটন কি কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আরও দীর্ঘকাল যুদ্ধের কালো মেঘে ঢাকা থাকবে।
























