Uttar Pradesh News: ভুয়ো দূতাবাস কাণ্ডে ৩০০ কোটির দুর্নীতি! রাজীব গাঁধী হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ‘বাবা’র নামও উঠে এল, দিল্লির নাকের ডগায় এত বড় ঘটনা?
Fake Embassy of Westarctica: গত সপ্তাহেই উত্তরপ্রদেশ ও দিল্লির সীমানায় অবস্থিত একটি বিলাসবহুল দোতলা বাড়িতে নকল দূতাবাস চালানোর বিষয়টি সামনে আসে।

নয়াদিল্লি: দিল্লির উপকণ্ঠে ভুয়ো দূতাবাস খুলে প্রতারণা চক্র। যে দেশের অস্তিত্ব নেই, তার নামেই দূতাবাস এবং সেখান থেকেই হাওয়ালা ব্যবসার অভিযোগ। গোটা ঘটনায় ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির যোগ মিলল এবার। গত ১০ বছরে ১৬২ বার বিদেশযাত্রাও করেন ধৃত হর্ষবর্ধন জৈন। বিদেশি ব্যাঙ্কে একাধিক অ্যাকাউন্টেরও খোঁজ মিলেছে। (Uttar Pradesh News)
গত সপ্তাহেই উত্তরপ্রদেশ ও দিল্লির সীমানায় অবস্থিত একটি বিলাসবহুল দোতলা বাড়িতে নকল দূতাবাস চালানোর বিষয়টি সামনে আসে। ‘মাইক্রোনেশন’ ওয়েস্ট আর্কটিকার নামে ওই ভুয়ো দূতাবাস খুলে বসেছিলেন হর্ষবর্ধন। বিলাসবহুল ওই দোতলা বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন সেই মতো। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, নকল দূতাবাসের আড়ালে প্রতারণা চক্র চালাতেন হর্ষবর্ধন। বিদেশি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে মোটা টাকা তুলতেন। ২০১৭ সাল থেকে ওই প্রতারণা চক্র চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। বিগত আট বছর ধরেই নকল দূতাবাস চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। গাজিয়াবাদের ওই বাড়িটি ভাড়া নেন ছ'মাস আগে। বাড়ির বাইরে মাঝে মধ্যে দানধ্যানের অনুষ্ঠানও করতেন, নিম্নবর্গের মানুষদের খাওয়াতেন, যাতে দূতাবাসটিকে নিয়ে সন্দেহ না হয় কারও। (Fake Embassy of Westarctica)
শুধু তাই নয়, হর্ষবর্ধনের সঙ্গে বিতর্কিত 'ধর্মগুরু' চন্দ্রস্বামী এবং সৌদি আরবের অস্ত্র ব্যবসায়ী আদনান খাশোগীর সংযোগও খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। একটি ছবি হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা, যেখানে একই ফ্রেমে চন্দ্রস্বামীর সঙ্গে হর্ষবর্ধনকে দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট। আট এবং নয়ের দশকে জনপ্রিয় ছিলেন চন্দ্রস্বামী। দেশের প্রাক্তন তিন প্রধানমন্ত্রী, পিভি নরসিংহ রাও, চন্দ্রশেখর এবং ভিপি সিংহও তাঁর অনুগামী বলে খবর ছিল সেই সময়। কিন্তু অর্থনৈতিক তছরুপের অভিযোগ ওঠে চন্দ্রস্বামীর বিরুদ্ধে। ১৯৯৬ সালে গ্রেফতারও করা হয়। আশ্রমে তল্লাশি চালানো হলে সৌদির অস্ত্রব্যবসায়ী খাশোগীর সঙ্গে চুক্তির নথি মেলে। এমনকি দেশের প্রাক্তন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গাঁধীর হত্যার ঘটনাতেও চন্দ্রস্বামীর বিরুদ্ধে আর্থিক মদত জোগানোর অভিযোগ ওঠে।
#UPSTF
— UPSTF (@uppstf) July 23, 2025
यूपी एसटीएफ द्वारा गाजियाबाद में चल रहे अवैध दूतावास का भंडाफोड़ करते हुए हर्ष वर्धन जैन को कवि नगर से गिरफ्तार किया गया वह किराए के मकान में अवैध रूप से वेस्ट आर्कटिक दूतावास चला रहा था तथा अपने आप को West Arctica , Saborga, Poulvia , आदि देशों एम्बेसडर बताता था@Uppolice pic.twitter.com/OJKezC8Pkw
উত্তরপ্রদেশের STF জানিয়েছে, চন্দ্রস্বামীই হর্ষবর্ধনের সঙ্গে খাশোগীর পরিচয় করিয়ে দেন।। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক প্রতারক আহসান আলি সৈয়দের সঙ্গে আলাপ করানো হয়। আহসানের সাহায্যেই ২৫টি ভুয়ো সংস্থার অ্যাকাউন্ট খোলা হয়, যার মাধ্যমে কালো টাকা বিদেশে পাচার হতো। আহসান আসলে হায়দরাবাদের বাসিন্দা। কিন্তু অনেক বছর আগে তুরস্কের নাগরিকত্ব ঘোষণা করেন। সুইৎজারল্যান্ডে ওয়েস্টার্ন অ্যাডভাইজরি গ্রুপ নামের একটি সংস্থা খোলেন আহসান। সবমিলিয়ে ব্রোকারদের থেকে ৩০০ কোটি টাকা তুলেছিল ওই সংস্থা। ২০২২ সালে আহসান লন্ডনে গ্রেফতার হন। ৩০০ কোটি টাকার ওই দুর্নীতিতে হর্ষবর্ধনের কী ভূমিকা, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গাজিয়াবাদের ওই বাড়ির বাইরে সারি দিয়ে দাঁড়িয়েছিল বিলাসবহুল, দামি গাড়ি। প্রত্যেক গাড়িতে VVIP নম্বর প্লেট, যা কূটনীতিকদের জন্য বরাদ্দ করা হয়, তা লাগানো ছিল। বাড়ির ভিতরে তাবড় রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে নিজের ছবি ঝুলিয়ে রেখেছিলেন হর্ষবর্ধন। জানা যায়, রাষ্ট্রনেতাদের ছবি বিকৃত করে নিজের সঙ্গে জুড়েছিলেন তিনি। সেই সব ছবি দেখিয়ে বিত্তশালীদের মধ্যেও জায়গা করে নিয়েছিলেন। ওই বাড়ি থেকে ১২টি পাসপোর্ট, বিদেশমন্ত্রকের স্ট্যাম্প লাগানো নথি, ৩৪টি দেশের স্ট্যাম্প, নগদ ৪৪ লক্ষ টাকা, কূটনীতিকদের জন্য বরাদ্দ ১৮টি নম্বর প্লেট এবং বিদেশি মুদ্রাও উদ্ধার হয়।
জানা গিয়েছে, হর্ষবর্ধন হাওয়ালা চক্রে জড়িত ছিলেন। ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। শুধুমাত্র ওয়েস্ট আর্কটিকাই নয়, কখনও সাবোর্গা, কখনও পলভিয়া, কখনও আবার লোডোনিয়ার দূত হিসেবেও নিজের পরিচয় দিতেন।
কিন্তু যে ওয়েস্ট আর্কটিকার নামে ভুয়ো দূতাবাস খুলেছিলেন হর্ষবর্ধন, সেটি আসলে কোনও দেশ নয়, সেটি আসলে মাইক্রোনেশন। আন্টার্কটিকার মেরি বায়ার্ড ল্যান্ডে অবস্থিত আয়তনে ছোট একটি অঞ্চল ওয়েস্ট আর্কটিকা, যারা স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। কিন্তু কোনও দেশের সরকার বা আন্তর্জাতিক সংগঠন সেটিকে দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ২০০১ সালে ট্র্যাভিস ম্যাকহেনরি নামের আমেরিকার এক নাগরিক নিজেকে ওয়েস্ট আর্কটিকার গ্র্যান্ড ডিউক ঘোষণা করেন। নিজস্ব জাতীয় পতাকা, মুদ্রাও চালু করেন তিনি। কিন্তু হর্ষবর্ধনের সঙ্গে কোনও যোগ নেই বলে সাফ জানিয়েছে ওয়েস্ট আর্কটিকা। তারা জানিয়েছে, ওয়েস্ট আর্কটিকাকে কিছু অনুদান দিয়েছিলেন হর্ষবর্ধন। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে তাঁকে দলে যোগ দিতেও বলা হয়। কনসাল হিসেবে সম্মানও জানানো হয় তাঁকে। কিন্তু সরকারি ভাবে ওয়েস্ট আর্কটিকার দূত কখনওই নিযুক্ত করা হয়নি।
ওয়েস্ট আর্কটিকা জাবিয়েছে, তাদের প্রতিনিধি হিসেবে আর কোনও ভূমিকা থাকবে না হর্ষবর্ধনের। অনির্দিষ্ট কালের জন্য় সাসপেন্ড করা হয়েছে তাঁকে। হর্ষবর্ধনের হাতে যাঁরা প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তাঁদের প্রতি সমবেদনা ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, ভারতীয় সরকারকে সবরকম ভাবে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে তারা।






















