Shahid Khaqan Abbasi: ‘মুঠো থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে বালুচিস্তান, আঁধার নামার পর…’, পাক সরকারকে সতর্ক করলেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী
Balochistan News: ২০১৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন আব্বাসি।

ইসলামাবাদ: গভীর রাতে ভারতের স্ট্রাইক ঠেকাতে পারেনি। সেই আবহে নতুন বিপদ পাকিস্তানের সামনে। ভারত নয়, এমনটা বলছেন সেদেশেরই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসি। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের হাত ফস্কে বেরিয়ে যাচ্ছে বালুচিস্তান। বেরিয়ে যাচ্ছে বলা ভুল হবে, বালুচিস্তানের নিয়ন্ত্রণ পাকিস্তানের হাত থেকে অনেকটাই বেরিয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন আব্বাসি। দুনিয়ার সামনে মিথ্যে ছবি তুলে ধরা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। (Shahid Khaqan Abbasi)
২০১৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন আব্বাসি। ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া এবং জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি থেকে শিক্ষালাভ করা আব্বাসি বেশ কিছু ক্ষেত্রেই সতীর্থদের চেয়ে আলাদা ছিলেন। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে বালুচিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। ১০০০-১৫০০ লোকই বালুচিস্তানে অশান্তি পাকাচ্ছে বলে সম্প্রতি মন্তব্য করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। কিন্তু তাঁর সেই দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন আব্বাসি। তাঁর দাবি, আসিম যা-ই দাবি করুন না কেন, তিনি নিজে বালুচিস্তানে অন্য ছবি দেখেছেন। (Balochistan News)
গত ৫ মে The Balochistan Post-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আব্বাসি জানিয়েছেন, বালুচিস্তানে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে সর্বত্র। কোয়েট্টার শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকরা পর্যন্ত ভয়ভীত। সশস্ত্র নিরাপত্তা ছাড়া বাইরে বেরনোর সাহস পান না তাঁরা। তাঁর বক্তব্য, “আঁধার নামলে বালুচিস্তানের উপস্থিতি কার্যতই গায়েব হয়ে যায়। এটা নিছক আইন-শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার ইঙ্গিত নয়। বরং রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ফিকে হয়ে আসার ইঙ্গিত।” বালুচিস্তানের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সক্রিয় হয়ে ওঠার কথাই জানিয়েছেন আব্বাসি। তিনি জানিয়েছেন, সশস্ত্র সংগঠনগুলিই বালুচিস্তানে হাইওয়েতে টহল দেয়, চেকপয়েন্ট পর্যন্ত তৈরি করা হয়েছে, শহরাঞ্চল কার্যত নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছে তারা। এতেই বোঝা যাচ্ছে, মুঠোভর্তি বালির মতো পাকিস্তানের হাত থেকে বালুচিস্তান বেরিয়ে যাচ্ছে।
বালুচিস্তানে অস্থিরতা তৈরির নেপথ্যে কিছু সংখ্যক লোক রয়েছে বলে যে মন্তব্য করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, তারও তীব্র সমালোচনা করেছেন আব্বাসি। তাঁর বক্তব্য, “কয়েকশো মানুষের উপর দায় চাপানোর আসলে সঙ্কটকে ছোট করে দেখানোর প্রবণতা। বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, সরকারের হাতে বালুচিস্তানের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আর নেই।” আব্বাসির এই সাক্ষাৎকার ছাপা হয় ৫ মে, আর তার পর দিনই বালুচিস্তানের বোলান জেলায় সেনার কনভয়ে হানলা চালায় Baloch Liberation Army. এই সংগঠনই কয়েক মাস আগে একটি গোটা ট্রেন হাইজ্যাক করে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। ফলে আব্বাসির মন্তব্যে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন অনেকেই।
বালুচিস্তানের পরিস্থিতি যে বদলাচ্ছে, বেশ কিছু দিন ধরেই তা ঠাহর করা যাচ্ছে। বহু মানুষের গায়েব হয়ে যাওয়ার খবর উঠে আসছে সেখান থেকে। রাজনৈতিক অস্থিরতাও তৈরি হয়েছে, বেড়েছে উগ্রপন্থী সংগঠনগুলির কার্যকলাপ। বালুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাকামী সংগঠনগুলির প্রভাবও রীতিমতো বেড়েছে বলে বোঝা যাচ্ছে। কারণ আর কোনও লুকোছাপা নয়, সরাসরি সামরিক বাহিনীকে নিশানা করছে তারা। গ্রাম থেকে শহর, সর্বত্র তাদের উপস্থিতি বোঝা যাচ্ছে।
একদিকে ভারতের সঙ্গে নতুন করে যখন সংঘাত দেখা দিয়েছে, সেই সময় বালুচিস্তানের পরিস্থিতি কপালে ভাঁজ ফেলেছে পাকিস্তানের। আব্বাসির এই মন্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে সেখানকার রাজনৈতিক মহল। নওয়াজ শরিফের Pakistan Muslim League-Nawaz-এর প্রতিনিধি হিসেবেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন আব্বাসি। ২০২৪ সালে যদিও দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন তিনি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে দল বিচ্যুত হয়েছে বলে সেই সময় মন্তব্য করেন। বর্তমানে নওয়াজের ভাই শেহবাজ শরিফ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। এর আগে, ২০২৩ সালে পাকিস্তানে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করেছিলেন আব্বাসি। অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক সঙ্কট সেনাকে উৎসাহ জোগাতে পারে বলে জানিয়েছিলেন।






















