Iran America Conflict: আলোচনা বিশ বাঁও জলে!পাকিস্তানের মধ্যস্ততায় সায় নেই, স্পষ্ট জানাল ইরান
পাকিস্তানের উদ্যোগে কোনও ফোরাম যদি তৈরি হয়েও থাকে, সেটা ওদের নিজস্ব বিষয়! এতে ইরানের কোনও ভূমিকা নেই। জানাল তেহরান।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান , ইজরায়েলের যুদ্ধ নাকি থামাবে পাকিস্তান ! এমনটাই দাবি করেছিল ইসলামাবাদ। সেই দাবি নিয়ে কথা বলেনি আমেরিকাও। তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার জল্পনাই উড়িয়ে দিল ইরান। সোমবার তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এই ধরনের কোনও আলোচনায় তারা অংশ নেয়নি এবং পাকিস্তানের উদ্যোগে কোনও ফোরাম যদি তৈরি হয়েও থাকে, সেটা ওদের নিজস্ব বিষয়! এতে ইরানের কোনও ভূমিকা নেই।
মুম্বইয়ের ইরানের কনস্যুলেট জেনারেল একটি বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইরানের ব্যাখ্যা। সে-দেশের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও সরাসরি হচ্ছে না । তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান যে বার্তা পেয়েছে, তা “অত্যধিক, অবাস্তব ও অযৌক্তিক দাবি”তে ভরা। ইরান আরও জানিয়েছে, যদিও যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য আঞ্চলিক উদ্যোগকে তারা স্বাগতই জানাচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, এই সংঘাত কে শুরু করেছে ! এই মন্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, তেহরান সরাসরি আমেরিকার দিকেই আঙুল তুলছে।
এদিকে, পাকিস্তান রবিবার ঘোষণা করে দেয় যে, তারা খুব শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করবে। যদিও এই দাবি নিয়ে ওয়াশিংটন বা তেহরানের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার দাবিও করে বসেন, ইসলামাবাদ যুদ্ধ থামাতে অর্থবহ আলোচনার আয়োজন করতে পেরে সম্মানিত ! তবে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনও অনিশ্চয়তায় ঘেরা। পাকিস্তান নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরলেও তাকে অন্যরা মানলে তবে তো ! পাকিস্তানের মধ্যস্ততা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি ভারত। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পাকিস্তানকে ‘দালাল দেশ’ বলে কটাক্ষ করেন।
এদিকে, ইসমাইল বাঘাই আরও জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে ইরানের কাছে ১৫ দফা প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তবে সেই প্রস্তাবকে “অত্যধিক, অবাস্তব ও অযৌক্তিক” বলে খারিজ করেছে তেহরান। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও সরাসরি আলোচনা করা হচ্ছে না, যদিও আমেরিকার তরফে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে বলেই দাবি করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি। তাঁর হুমকি, খুব শীঘ্রই কোনও চুক্তি না হলে এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে না দেওয়া হলে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান আরও বাড়াতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প দাবি করেন, প্রয়োজনে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তেলের ভান্ডার এবং খার্গ দ্বীপ-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গুলিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে। এর আগে ফিনান্সিয়াল টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র খার্গ দ্বীপ দখলও করতে পারে—যা ইরানের তেল রফতানির প্রধান কেন্দ্র। সবমিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে। একদিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার চেষ্টা, অন্যদিকে ইরানের অস্বীকৃতি এবং আমেরিকার কড়া অবস্থান—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা ।
























