Sunjay Kapur Assets: ‘স্বামী আপনাকে ত্যাগ করেছিল’, প্রাক্তন স্বামীর ৩০০০০ কোটির সম্পত্তি নিয়ে লড়াই, করিশ্মাকে তীব্র কটাক্ষ ব্যবসায়ীর তৃতীয় স্ত্রীর
Karisma Kapoor: গত ১২ জুন লন্ডনে পোলো খেলার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ব্যবসায়ী সঞ্জয়।

নয়াদিল্লি: বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই লড়তে হয়েছিল। প্রাক্তন স্বামী সঞ্জয় কপূরের বর্তমান স্ত্রীর সঙ্গে ফের আইনি লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়লেন অভিনেত্রী করিশ্মা কপূর। প্রয়াত সঞ্জয়ের সম্পত্তিতে ছেলেমেয়ের অধিকার নিয়ে লড়তে নামলেন তিনি। আর সেই লড়াইয়ের শুরুতেই খোঁচা শুনতে হল তাঁকে। গত ১৫ বছর টিকি দেখা না গেলেও, এখন সম্পত্তির ভাগ নিতে এসেছেন বলে করিশ্মাকে কটাক্ষ করলেন সঞ্জয়ের তৃতীয় স্ত্রী প্রিয়া সচদেব। (Sunjay Kapur Assets)
গত ১২ জুন লন্ডনে পোলো খেলার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ব্যবসায়ী সঞ্জয়। সেই থেকেই তাঁর সংস্থা ‘Sona Comstar’-এর মালিকানা নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। সঞ্জয়ের মা রানি কপূর, তাঁর দুই বোনও প্রিয়ার বিরুদ্ধে জাল দলিল বানানোর অভিযোগ তুলছেন। সঞ্জয়ের মায়ের দাবি, জাল দলিল এনে একা সর্বস্ব দখল করতে চাইছেন প্রিয়া। এমনকি গোপনে সংস্থার মালিকানাবদল থেকে সম্পত্তি বিক্রির অভিযোগও তুলেছেন তিনি। (Karisma Kapoor)
সেই আবহেই প্রিয়ার সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়লেন করিশ্মা। তবে নিজের জন্য নয়, সঞ্জয় এবং তাঁর দুই ছেলেমেয়ে সামাইরা ও কিয়ানের হয়ে তাঁকে নামতে হয়েছে এই লড়াইয়ে। প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি রেখে গিয়েছেন সঞ্জয়। একটি দলিল পেশ করে প্রিয়া জানিয়েছেন, সবকিছু তাঁর নামেই করে গিয়েছেন সঞ্জয়। আজ নয়, বিয়ের পর পরই দলিল তৈরি করিয়েছিলেন সঞ্জয়। তাঁর এই দাবি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন সঞ্জয়ের মা-ও। ছেলে কখনওই তাঁকে নিঃস্ব করে যেতে পারেন না, সম্পত্তিতে তাঁর ভাগ ১০ হাজার কোটি বলে দাবি করেছেন রানি।
সম্পত্তিতে নিজেদের ভাগ চেয়ে মামলা করেছেন সঞ্জয় ও করিশ্মার মেয়ে সামাইরা, ছেলে কিয়ান। বাবার সম্পত্তির এক পঞ্চমাংশ দাবি করছেন তাঁরা। সামাইরা প্রাপ্তবয়স্ক, মা করিশ্মার মাধ্যমে আদালতে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। মা করিশ্মাকে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দিয়েছেন সামাইরা। অন্য দিকে, কিয়ান এখনও নাবালক। তাঁর অভিভাবক হিসেবে মামলায় নাম রয়েছে করিশ্মার।
সামাইরা ও কিয়ানের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করছেন প্রিয়াও। বুধবার সেই নিয়ে শুনানি চলাকালীন করিশ্মাকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। জানান, আইনত তিনিই সঞ্জয়ের স্ত্রী। তাই এই মামলা ভিত্তিহীন। করিশ্মা এবং সঞ্জয়ের বিবাহবিচ্ছেদ মামলার প্রসঙ্গও টানেন প্রিয়া। তাঁর আইনজীবী বলেন, “যে স্নেহ, ভালবাসার কথা বলা হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলাকালীন, তা কোথায় ছিল? স্বামী বহু বছর আগেই ত্যাগ করেছেন আপনাকে। সম্পর্ক এত তিক্ত ছিল যে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছয় মামলা। কী ভালবাসার নজির! এতজন মারা গিয়েছেন। সমবেদনা দেখান।” প্রিয়াকে উদ্ধৃত করে তাঁর আইনজীবী বলেন, “আমি বিধবা। আইনত সঞ্জয়ের স্ত্রী। আপনি কোথায় ছিলেন? অনেক বছর আগেই আপনার স্বামী আপনাকে ত্যাগ করে।”
এদিন আদালতে প্রিয়া দাবি করেন, সঞ্জয়দের পারিবারিক যে RK Trust রয়েছে, তার আওতায় সামাইরা এবং কিয়ান আগেই ১৯০০ কোটি টাকার সম্পত্তি পেয়েছেন। প্রিয়ার বক্তব্য, “এত যে কান্নাকাটি করছেন…পরিবারের ট্রাস্ট থেকে আগেই ১৯০০ কোটি টাকার সম্পত্তি পেয়েছেন মামলাকারীরা। জানি না, ঠিক কত টাকা ওঁদের জন্য যথেষ্ট।”
যদিও সামাইরা ও কিয়ানের দাবি, সঞ্জয়ের দলিল জাল করেছেন প্রিয়া, যাতে সবকিছু তিনি পান। তাঁদের দাবি, জীবিতকালে সঞ্জয় কখনও দলিলের কথা জানাননি তাঁদের, প্রিয়ার মুখেও এতদিন তেমন কিছু শোনা যায়নি। সঞ্জয় মারা যাওয়ার পর এখন সবকিছু হস্তগত করতে চাইছেন প্রিয়া। সামাইরা ও কিয়ান সম্পত্তি সমান ভাগের দাবি তুলেছেন। যত দিন পর্যন্ত তা না হচ্ছে, ততদিন যাতে প্রিয়া কিছু বিক্রি করতে না পারেন, তার জন্য ইনজাংশন জারি করতেও আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।
সামাইরা ও কিয়ানের আইনজীবী মহেশ জেঠমালানি আদালতে বলেন, “এতদিন প্রিয়া বলে আসছিলেন, কোনও দলিল নেই। ট্রাস্টের হাতে কিছু সম্পত্তি রয়েছে। করিশ্মা এবং প্রিয়ার মধ্যেও কথা হয়। ঠিক হয়, দিল্লিতে তাজ মানসিং হোটেলে সেই নিয়ে আলোচনা হবে। সেই মতো গত ৩০ জুলাই বৈঠক হয়। এতদিন বলা হচ্ছিল, দলিল নেই। কিন্তু হঠাৎই সেখানে সঞ্জয়ের দলিল বলে একটি নথি পেশ করা হয়।”
সামাইরা ও কিয়ানের আইনজীবী জানান, সঞ্জয়ের প্রথম সন্তান হিসেবে বাবার সম্পত্তিতে অধিকার আছে তাঁদের। অথচ শেষকৃত্যের একদিন আগেই সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর হয়ে গেলেন প্রিয়া। জাল দলিলটির রেজিস্ট্রেশন পর্যন্ত হয়নি বলে জানান তিনি। দলিল আসল হলে, আগেই তা প্রকাশ্যে আনা হল না কেন, প্রশ্ন তোলেন তিনি।
শুনানি চলাকালীন, আদালত এদিন দলিলটি পেশ করতে বলে প্রিয়াকে। শুধু তাই নয়, ১২ জুন (সঞ্জয়ের মৃত্যুর দিন) পর্যন্ত সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির তালিকা জমা দিতে বলা হয় আদালতে। আগামী ৯ অক্টোবর ফের শুনানি রয়েছে মামলার।






















