Fake Aadhar Card: ভুয়ো আধার কার্ড তৈরির অভিযোগ, বেঙ্গল STF-র হাতে গ্রেফতার এবার খোদ পোস্ট অফিসের কর্মী !
Uttar Dinajpur Post Worker Arrested: ডাকঘরের গ্রামীণ ডাক সেবক পদে কর্মরত ছিলেন, কীভাবে জড়ালেন 'অপরাধে', কী অভিযোগ ওই কর্মীর বিরুদ্ধে ?

ময়ূখঠাকুর চক্রবর্তী, সুদীপ চক্রবর্তী, রাজীব চৌধুরী, কলকাতা : একদিকে যখন ভিনরাজ্যে বাংলা ভাষাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থার অভিযোগে তোলপাড় গোটা রাজ্য। এরই মধ্যে, ফের রাজ্যের বুকে মিলল জাল আধার চক্রের হদিশ। ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি করার অভিযোগে উত্তর দিনাজপুরের কানকি সাব পোস্ট অফিসের এক কর্মীকে গ্রেফতার করল বেঙ্গল এসটিএফ। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের লালগোলায় জাল নথি তৈরির অভিযোগে, ২ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। গোটা ঘটনায় ইতিমধ্যেই তীব্র চাপানউতর শুরু হয়েছে রাজ্য় রাজনীতিতে।
আরও পড়ুন, স্কুল পড়ুয়াদের জন্য এবার 'অপারেশন সিঁদুর' নিয়ে বিশেষ মডিউল আনছে NCERT !
টাকা ফেললেই মিলছে নথি! রাজ্যের আনাচকানাচে কাঁড়ি কাঁড়ি উদ্ধার হচ্ছে নকল পরিচয়পত্র। কখনও বাংলাদেশের অঙ্কিতা পশ্চিমবঙ্গে এসে হয়েছেন চুমকি শিকদার! আবার কোথাও বাংলাদেশের নুরুল, ভারতে এসে নারায়ণ! এই নিয়ে যখন তুঙ্গে বিতর্ক, তখন রাজ্যের বুকে ফের প্রকাশ্যে এল জাল আধার কার্ড তৈরির চক্র। ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি করার অভিযোগে এবার উত্তর দিনাজপুরের কানকি সাব পোস্ট অফিসের এক কর্মীকে গ্রেফতার করল রাজ্য পুলিশের STF।
ধৃতের নাম বিধান মুর্মু।বাড়ি উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার থানা এলাকায়।ডাকঘরের গ্রামীণ ডাক সেবক পদে কর্মরত ছিলেন তিনি।উত্তর দিনাজপুরের কানকি সাব পোস্ট অফিস কর্মী হরিপদ কর্মকার বলেন, এসে দেখছি যে ওকে ধরে উঠিয়ে নিয়ে চলে গেছে। বিধান মুর্মুকে। কেন নিয়ে গেল? আপনারা কি মনে করছেন ও(বিধান মুর্মু) জালের উদ্দেশে? এবিপি আনন্দ এর প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,কী করে বলব স্যর? আমি তো জানি না এইগুলো। হরিপদ কর্মকার, কর্মী, কানকি সাব পোস্ট অফিস, উত্তর দিনাজপুর: কী করে বলব স্যর? আমি তো জানি না এইগুলো।আমরা বলতে পারব না, ওই কথা বলতে পারব না, আমরা বাইরের লোক আছি।
রাজ্য পুলিশের এসটিএফ সূত্রে দাবি,কিছুদিন আগেই, জাল আধার কার্ড চক্রের হদিশ পাওয়া যায় এ রাজ্যে। সেই সূত্র ধরে বিধান মুর্মুর নাম উঠে আসে।জানা যায়, তাঁর আইডি, পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে, বীরভূম, কল্যাণী সহ একাধিক এলাকায় রমরমিয়ে চলছিল ভুয়ো আধার কার্ড তৈরির কাজ। অন্যদিকে,মুর্শিদাবাদের লালগোলা থেকে,আধার কার্ড, প্যান কার্ড সহ একাধিক জাল নথিপত্র তৈরির অভিযোগে, ২ জনকে গ্রেফতার করেছে লালগোলা থানার পুলিশ।
ধৃতদের নাম আবু সুফিয়ান ও সাহিন আক্তার। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গার প্রিন্ট মেশিন, স্ক্যানার সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম।তবে এতদিনে ঠিক কত জাল নথিপত্র বানানো হয়েছে? তার মধ্যেও কি লুকিয়ে ছিলেন কোনও বাংলাদেশের নাগরিক? সবটা জানতে তদন্ত শুরু করেছে লালগোলা থানা।বৃহস্পতিবার,উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁয়, ফটোকপির দোকানের আড়ালে নকল আধার কার্ড তৈরির চক্রের অভিযোগে, বাকিবিল্লাহ ও মাতিন গাজি নামে ২ যুবককে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। অর্থাৎ, কেন্দ্র কি রাজ্য! ভুয়ো নথি তৈরির চক্রের জাল ছড়িয়েছে সর্বত্র। কাঠগড়ায় উঠেছেন খোদ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীও! আর এই জাল নথি চক্র ঘিরেও দোষারোপের পালা শুরু শাসক-বিরোধী শিবিরে।
তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, এটা তো ৫০ কিলোমিটার এলাকা তো বিএসএফ-এর আওতায়। এখন দেখা হচ্ছে, ডাক বিভাগেও জাল নথি তৈরি হচ্ছে। এর উত্তর তো দিতে হবে বিজেপিকেই। কেন্দ্রীয় সরকারকেই। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, না এটা হচ্ছে। ডাক কর্মী। সবই এ রাজ্যে জাল হচ্ছে। রাজ্যকে গালাগাল করেছে এই গোছের। কিন্তু, এই বিপুল পরিমাণে জাল নথির চক্র ঠেকিয়ে রাখা হবে কীভাবে? সে উত্তর অধরা..।






















