এক্সপ্লোর
মনে হল যেন একটা প্রচণ্ড বিস্ফোরণ, জানালেন এক প্রত্যক্ষদর্শী

কোল্লাম: ‘মনে হচ্ছিল মন্দিরে একটা বিশাল বোমা যেন কেউ ফেলে দিয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ দৃশ্য। বিস্ফোরণের ধাক্কায় বাড়ির ছাদ উড়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে দেওয়াল। চারিদিকে ছড়িয়ে রয়েছে মৃতদেহ। বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ছড়িয়ে রয়েছে। ভাঙা দেওয়ালে ঝুলে রয়েছে শরীরের অংশ। রক্তে ভেসে যাচ্ছে চারিদিক। সবকিছু যেন ভেঙে গুঁড়িয়ে চুরমার হয়ে গেছে। আমরা ভেঙে পড়েছিলাম, মুখ দিয়ে কোনও শব্দ বের হচ্ছিল না’। এমনই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা জানালেন পুত্তিঙ্গল মন্দিরে অগ্নিকাণ্ডের এক প্রত্যক্ষদর্শী অনিতা প্রকাশ। অনিতা ব্রিটেনে থাকেন। দেশে এসেছেন ছুটি কাটাতে। তাঁর বাড়ি ওই মন্দিরের একেবারেই পাশে। আগুনের ঘটনার পর ফিরে নিজের বাড়িকেই আর চিনতে পারছেন না অনিতা। যেন ধ্বংসস্তুপ। বিস্ফোরণের ধাক্কায় উড়ে গিয়েছে ছাদ। গোটা ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনকেই দায়ী করেছেন তিনি। তিনি বলেন, বিভিন্ন মহলের আপত্তি স্বত্ত্বেও ওইরকম জনবহুল এলাকায় বাজি প্রদর্শনী নিষিদ্ধ করেনি প্রশাসন। সরকারকেই এর দায় নিতে হবে। অনেকবার সাবধান করা সত্ত্বেও তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি আরও জানান, গতকাল দুপুরেই একডজন লোক এসে তাঁদের হুঁশিয়ারি দেয়, তাঁরা যেন কালেক্টরের কাছে ‘নো অবজেকশন’ লেখা জমা দেয়। না দিলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেয়, এমনটাই অভিযোগ। ওই লোকগুলোর হাতে ছোরা ছিল বলেও অভিযোগ করেন অনিতাদেবী। কিন্তু তা দেননি অনিতাদেবীর পরিবার। এর জেরে মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধ বাঁধে তাঁদের। প্রসঙ্গত, কেরলের মন্দিরে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০৯। আহত ৩০০-রও বেশি। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা। কোল্লামের পুত্তিঙ্গল মন্দিরে বার্ষিক উত্সব উপলক্ষে গতকাল রাতে সেখানে ভিড় জমান অসংখ্য পুণ্যার্থী। রাতভর বাজি প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভোররাত সাড়ে তিনটে নাগাদ হঠাত্ই বাজির আগুনের ফুলকি গিয়ে পড়ে মন্দির চত্বরে জমা করে রাখা বাজির স্তূপে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা মন্দির চত্বরে। এরপরই বিস্ফোরণ ঘটে বাজির স্তূপে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, পুত্তিঙ্গল মন্দিরের ছাদের একাংশ ভেঙে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে ছোটোছুটি শুরু করে দেন বহু পুণ্যার্থী। ততক্ষণে ভয়াবহ আকার নেয় আগুন। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় বেশ কয়েকজনের। দৌড়োদৌড়িতে পদপিষ্ট হয়ে মারা যান আরও বেশ কিছু মানুষ। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে দমকলের ৫০টিরও বেশি ইঞ্জিন।
Before You Go
Jadavpur Incident News | "ABVP-এর দায়িত্ব BJP নেয়নি। এটা স্বাভাবিক শিক্ষার সঙ্গে সংযোগ না থাকবে ছাত্রসংগঠন না থাকারই কথা" : Anirban Banerjee

ড: সুভাষ সরকারড: সুভাষ সরকার
Opinion




















