সুড়ঙ্গ দিয়ে বন্দি পালানো রুখতে সেন্সর বসছে গুজরাত জেলে

আমদাবাদ: জেলের মধ্যে সুড়ঙ্গ তৈরি করে বন্দিদের পালানো রুখতে রাজ্যের ২টি কেন্দ্রীয় জেলে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সেন্সর বসানোর পরিকল্পনা করছে গুজরাত সরকার।
গুজরাত পুলিশের অতিরিক্ত ডিজি (কারা) টি বিশ্ত জানান, পাঁচ বছর আগে ব্রিটিশ আমলে তৈরি সবরমতী কেন্দ্রীয় জেলের মধ্যে সুড়ঙ্গ পালানোর চেষ্টা করেছিল কয়েকজন বন্দি। তেমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে ‘সুড়ঙ্গ সনাক্তকরণ ব্যবস্থা’ বসানো হবে এই জেলে। একই ব্যবস্থা বসবে লাজপোর কেন্দ্রীয় জেলেও।
বিশ্তের দাবি, গুজরাত সম্ভবত দেশের প্রথম রাজ্য, যারা এই বিশেষ ব্যবস্থা বসাতে চলেছে। তিনি যোগ করেন, বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় সুড়ঙ্গের হদিস পেতে এই একই টানেল ডিটেকশন সিস্টেম ব্যবহার করে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। পুলিশকর্তা জানান, এর জন্য ২.৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে গুজরাত সরকার।
বিশ্ত জানান, ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩ মিটার নীচে নিয়মিত ব্যবধানে সেন্সর বসানো হবে। এই সেন্সর মাটির নীচের যে কোনও গতিবিধি সনাক্তকরণ করতে সক্ষম। প্রত্যকটি সেন্সর তার বসানোর জায়গা থেকে তিন মিটার (ওপরে এবং নীচে) ও ৬ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে যে কোনও চলাফেরা বা গতিবিধি ধরতে পারবে।
ওই পুলিশকর্তা আরও জানান, সবকটি সেন্সরের সঙ্গে কন্ট্রোল রুম ও অ্যালার্মের সঙ্গে যোগ থাকবে। কোনও গতিবিধি সনাক্ত হলেই সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্ম বেজে উঠবে। একইসঙ্গে, জেলকর্তাদের কাছে এসএমএস পৌঁছবে।
জানা গিয়েছে, প্রথম দফায় সবরমতী জেলের হাই-সিকিউরিটি জোনে এই আধুনিক ব্যবস্থা বসানো হবে। এখানেই, বিস্ফোরণ মামলায় অভিযুক্ত সহ দাগী আসামীদের এখানেই রাখা হয়। বিশ্তের আশা, চলতি বছরের শেষের দিকে প্রথম দফার কাজ শেষ হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে সবরমতী জেলের নীচে ২১৪ ফুটের সুড়ঙ্গ আবিষ্কার করেছিল জেল কর্তৃপক্ষ। জেল আধিকারিকরা দাবি করেছিলেন, ২০০৮ সালে আমদাবাদ ধারাবাহিক বিস্ফোরণ মামলায় অভিযুক্তরাই এই সুড়ঙ্গ তৈরি করেছিল।






















