এক্সপ্লোর
বানভাসি 'ভূতুড়ে' গ্রাম, মানুষের সঙ্গ পেতে জেলেই ফিরতে চান ২০ বছর সাজা কাটানো আসামী

পিথোরাগড়: অনুরোধটা আসার পর চমকে উঠেছিল উত্তরাখণ্ডের উধম সিংহ নগর জেলার সিতারগঞ্জ জেল কর্তৃপক্ষ। ২০ বছরের কারাদণ্ড কাটিয়ে ছাড়া পাওয়ার পর ফের জেলে ফিরে আসার আর্জি জানিয়েছেন পিথেোরাগড় জেলার বাসিন্দা পুষ্কর দত্ত ভাট। রাগের বশে স্ত্রী ও কন্যাকে খুন করার দায়ে কারাদণ্ড হয়েছিল তাঁর। গত বছরের আগস্টে মেয়াদ কাটিয়ে গ্রামে ফিরে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২০ বছর পর গ্রামে ফিরে চমকে গিয়েছিলেন ভাট। ভাঙাচোরা ঘরবাড়ি, শুনশান গ্রাম। ২০১৬-র বিধ্বংসী বন্যায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। প্রাণ বাঁচাতে গ্রাম উজাড় করে পালিয়ে গিয়েছিলেন বাসিন্দারা। ঘরবাড়ি-ভিটেমাটির মায়া ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন তাঁরা। ভাটের প্রথমে নিজের বাড়িটা চিনতেও অসুবিধা হচ্ছিল। তাঁর কথায়, এটা যেন ভূতুড়ে গ্রাম। এখানে এরমাত্র মানুষ আমিই। এই কারণ জানিয়েই সিতারগঞ্জ জেলে তাঁকে ফিরিয়ে নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন ভাট। জীবনের ২০ টা বছর কেটেছে জেলে। সেখানে ফিরে গেলে অন্তত মানুষের সঙ্গ তো পাওয়া যাবে। এখানে তো শুধু ভূত, একরাশ দুঃখের স্মৃতি। জেলে ফেরার ইচ্ছেটা প্রথমেই মাথায় আসেনি। ছাড়া পাওয়ার পর বাসতাদি গ্রামে প্রায় ছয় মাস একাই কাটিয়েছেন ভাট। কিন্তু একাকীত্ব ও হতাশার যন্ত্রণা আর সহ্য করতে পারছেন না তিনি। তাঁর কথায়, এই ধ্বংসের মধ্যেই একাই এখানে থাকার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আর পারছি না। জেলা প্রশাসনকে তাঁর আবেদনে ভাট লিখেছেন, গ্রামের বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের কোনও পরিকল্পনা যদি সরকারের না থাকে তাহলে তাঁকে যেন জেলে ফিরে যেতে দেওয়া হয়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী ভাট বলেছেন, তাঁর বাড়ি সহ গ্রামের প্রায় সব বাড়িঘরই ভেঙে পড়েছে। বিদ্যুত্ সংযোগ তো নেই-ই। পাশের জঙ্গল থেকে হিংস্র পশুজন্তুরা ঘুরে বেড়ায় গ্রামে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর দু বছর কেটে গিয়েছে।কিন্তু এই গ্রামের দিকে প্রশাসন নজর দেয়নি।
খবর (News) লেটেস্ট খবর এবং আপডেট জানার জন্য দেখুন এবিপি লাইভ। ব্রেকিং নিউজ এবং ডেলি শিরোনাম দেখতে চোখ রাখুন এবিপি আনন্দ লাইভ টিভিতে
আরও পড়ুন






















