Om Birla: প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল, যথেষ্ট সমর্থনও নেই, তাও লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কেন গুরুত্বপূর্ণ?
No Trust Motion: ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে শোরগোল জাতীয় রাজনীতিতে।

নয়াদিল্লি: লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিল বিরোধীরা। বিরোধীদের প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে বিজেপি বিরোধী শিবির। তাঁকে পদ থেকে সরানোর দাবি তোলা হয়েছে অনাস্থা প্রস্তাবে। সরাসরি সংবিধানের বিধান তুলে ধরে ওম বিড়লার অপসারণ চাইছেন বিরোধীরা। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, DMK-কে সাংসদরা ওই অনাস্থা প্রস্তাবে সই করলেও, তৃণমূল বিরত রেখেছে নিজেদের। চিঠিতে কাজ না হলে অনাস্থা প্রস্তাব আনা যেত বলে মত তাদের। (No Trust Motion)
তবে এই মুহূর্তে ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে শোরগোল জাতীয় রাজনীতিতে। আগেও একাধিক বার তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় খোদ লোকসভায় দাঁড়িয়ে সেই নিয়ে সরব হন। এবারে বাজেট অধিবেশনের একেবারে গোড়া থেকেই ওম বিড়লার ভূমিকা নিয়ে সরব বিরোধীরা। রাহুল গাঁধীর বক্তৃতায় বার বার বাধাদান, বিরোধী সাংসদদের সাসপেন্ড করা নিয়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলছিলই। (Om Birla)
সেই আবহেই ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়ল। কিন্তু এই অনাস্থা প্রস্তাব কী? স্পিকারকে অপসারণের কী বিধান রয়েছে সংবিধানে?
রাষ্ট্রপতি বা বিচারপতিদের মতো লোকসভার স্পিকারকে ইমপিচ করার নিদান নেই দেশের সংবিধানে। তবে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৪ (সি)-তে স্পিকারকে সরানোর বিধান রয়েছে। বলা রয়েছে, লোকসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন থাকলে স্পিকারকে পদ ছাড়তে হবে। সেক্ষেত্রে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিতে হয় প্রথমে।
সংসদীয় নীতি অনুযায়ী, এর পর ১৪ দিনের নোটিস পিরিয়ড বাধ্যতামূলক। অনাস্থা প্রস্তাব যাতে অর্থহীন বা শুধুমাত্র প্রতীকী না হয়, তার জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম সদস্যের সমর্থন থাকতে হবে অনাস্থা প্রস্তাবে। ১৪ দিনের নোটিস পিরিয়ড পেরিয়ে গেলে প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য উত্থাপিত করতে হবে লোকসভায়। সেই অধিবেশনের তদারকি করতে পারবেন না সংশ্লিষ্ট স্পিকার। ডেপুটি স্পিকারই গোটা বিষয়টি দেখবেন। ডেপুটি স্পিকার না থাকলে, রাষ্ট্রপতি কাউকে সেই দায়িত্বে নিযুক্ত করবেন।
অনাস্থা প্রস্তাবে ভোটাভুটির গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। লোকসভার সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন থাকলে তবেই স্পিকারকে অপসারণ করা সম্ভব। সেই নিরিখে ৫৪৩ জন সদস্যের লোকসভায় স্পিকারকে সরানোর পক্ষে অন্তত ২৭২টি ভোট জমা পড়তে হবে। শুধুমাত্র ভোটাভুটির সময় উপস্থিত থাকলে হবে না, সকলের ভোট প্রয়োজন এক্ষেত্রে। সংখ্য়াগরিষ্ঠের সমর্থন পেলে পদ ছাড়তে হবে স্পিকারকে। আবার নতুন স্পিকার নির্বাচিত হবেন। কিন্তু অনাস্থা প্রস্তাব ব্যর্থ হলে, স্পিকার নিজ পদে আসীন থাকবেন যেমন, তেমনই তাঁর পদের কর্তৃত্ব আরও মজবুত হয়।
ভারতে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পিকারকে অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে সরানোর ইতিহাস নেই। গোটা প্রক্রিয়া এতটাই জটিল, তাও এর জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়। তার পরও স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবকে হাতিয়ার করতে পারেন বিরোধীরা। কারণ সংখ্য়ার জোরে স্পিকারকে সরানো না গেলেও, তাঁর প্রতি যে অনাস্থা নেই বিরোধীদের, স্পিকারের আচরণ যে পক্ষপাতদুষ্ট বলে মনে করছেন বিরোধীরা, তার রেকর্ড থেকে যায় সংসদের ইতিহাসে। পাশাপাশি, অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে সংসদে আলোচনার অর্থই স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে।
























