Operation Sindoor: পাকিস্তানে স্ট্রাইক চালাতে স্মার্ট যুদ্ধাস্ত্র বেছে নিল ভারত, কিছু বুঝে ওঠার আগেই আছড়ে পড়ল SCALP-HAMMER
India Strikes in Pakistan: মূলত নির্ভুল লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম, দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করেছে ভারত, যার মধ্যে রয়েছে SCALP, HAMMER-এর মতো যুদ্ধাস্ত্র।

নয়াদিল্লি: পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার বদলা নিল ভারত। গভীর রাতে পাকিস্তানে স্ট্রাইক চালাল তিন বাহিনী। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর এই প্রথম এসঙ্গে কোনও অভিযান চালাল ভারতীয় সেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনা। পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জায়গায় জঙ্গিদের ঘাঁটি, অস্ত্রভাণ্ডার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এই Operation Sindoor অভিযান চালাতে বাছাই করা অস্ত্রশস্ত্র ব্য়বহার করেছে ভারত। (Operation Sindoor)
মূলত নির্ভুল লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম, দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করেছে ভারত, যার মধ্যে রয়েছে SCALP, HAMMER-এর মতো যুদ্ধাস্ত্র। (India Strikes in Pakistan)
SCALP: এটি একটি দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া হয় এই ক্ষেপণাস্ত্র, যা ২৫০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে শত্রুপক্ষের ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম। একেবারে নির্ভুল লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম যেমন, তেমনই এর আঘাতে কিছুই আস্ত থাকে না, মুহূর্তের মধ্যে একেবারে ভেঙে গুঁড়িয়ে যায় সবকিছু। যে কারণে এই ক্ষেপণাস্ত্রকে Storm Shadow-ও বলা হয়।
HAMMER: এটি আসলে একটি স্মার্ট বোমা, যা জঙ্গিদের পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দিতে ব্য়বহার করা হয়েছে। বাঙ্কার থেকে বহুতল বিল্ডিং, প্রশিক্ষণ শিবির, অস্ত্রভাণ্ডার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদের। ৫০-৭০ কিলোমিটার দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম HAMMER. কত উঁচু থেকে ছোড়া হচ্ছে, তার উপর নির্ভর করে আঘাতের তীব্রতা।
Loitering Munitions: মূলত নজরদারি চালানোর কাজে ব্য়বহৃত হয়। যত ক্ষণ পর্যন্ত না লক্ষ্য নির্ধারণ হচ্ছে, তত ক্ষণ উড়ে বেড়ায় এই ড্রোন। এই ড্রোনকে Kamikaze Drone বা আত্মঘাতী ড্রোনও বলা হয়। স্বয়ংক্রিয় ভাবেও উড়তে পারে এই ড্রোন, আবার রিমোটের মাধ্যমেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। লক্ষ্যবস্তুকে চিহ্নিত করার পাশাপাশি, এই ড্রোনে বিস্ফোরক বা পেলোডও বসানো যায়। ড্রোনের মাধ্যমেই আঘাত হানা যায় লক্ষ্যে।
কাশ্মীরের পহেগাঁও জঙ্গি হামলার বদলা নিতেই মধ্য়রাতে Operation Sindoor অভিযান চালিয়েছে ভারত। পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নয় জায়গায় জঙ্গিদের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদ এবং হিজবুল মুজাহিদিনের ঘাঁটি লক্ষ্য করেই স্ট্রাইক চালানো হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, বাহওয়ালপুরের মর্কাজ সুভান আল্লায় নামক জইশ-ই-মহম্মদের সদর দফতর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বরাবর সেখানে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো, নাশকতা চালানো হতো ভারতে।
মুরিদকে-র মর্কাজ তৈবায় লস্কর-ই-তৈবার ২০০ একর জায়গার উপর স্ট্রাইক চালিয়েছে ভারত। সেখানে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি, সন্ত্রাসের দীক্ষা দেওয়া হতো, সেখানই নাশকতার পরিকল্পনা রচনা করা হতো।
কোটলির মর্কাজ আব্বাস শিবিরে আত্মঘাতী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ চলত। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গিদের কাছে অস্ত্রশস্ত্র যেত সেখান থেকেই।
মুজফ্ফরাবাদের সৈয়দনা বিলাল ও সাওয়াই নাল্লা শিবির থেকে ভারতে অনুপ্রবেশ ঘটাত লস্কর ও জইশ। সেখানে স্লিপার সেলের প্রশিক্ষণ চলত।
বরনালার মর্কজ আহলে হাদিথ শিবিরটি জঙ্গিদের কাজকর্ম পরিচালনা করত, সেটি ছিল জঙ্গিদের আঞ্চলিক রসদ ভাণ্ডার।
সরজলের তেহরা কালানে জইশের শিবিরে স্ট্রাইক চালানো হয়েছে। নতুন নিয়োগ করা জঙ্গিদের সেখানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। অনুপ্রবেশ শেখানো হতো জঙ্গিদের।
সিয়ালকোটের মেহমুনা জোয়ায় হিজবুল মুজাহিদিনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে স্ট্রাইক চালানো হয়েছে। এখনও সেখান থেকে কার্য পরিচালনা করে হিজবুল।






















