Pakistan Crime News : মেয়েকে নৃশংস খুন বাবা ও ভাইয়ের ! উঠেছিল ধর্ষণের অভিযোগও, চরম সাজা শোনাল আদালত
হত্যার পর, পরিবার চুপচাপ মারিয়ার মৃতদেহ কবর দিয়ে দেয়। কিন্তু পুরো ঘটনাটি গোপন ক্যামেরায় তুলে রেখছিল মারিয়ার আরেক ভাই শাহবাজ।

ঘৃণ্য। ন্যক্কারজনক। ভয়ঙ্কর। রক্ষকই ভক্ষক । এই প্রবাদ এক্ষেত্রে খেটে যায় অক্ষরে অক্ষরে। যে বাবা বুক দিয়ে আগলায় মেয়েকে... যে ভাইকে সব থেকে বেশি ভরসা করে রক্ষাবন্ধনে আবদ্ধ করে মেয়েরা...সেই বাবা ও ভাইয়েরই 'লালসার শিকার এক মেয়ে'। শুধু তাই নয়, মেয়েটিকে খুনও করে তার বাবা ও ভাই।
দ্য ডনের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালের ১৭ মার্চ, মারিয়া বিবি একটি মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তাঁর বাবা আব্দুল সাত্তার এবং ভাই ফয়জল। প্রাথমিকভাবে, ভাই ফয়জল পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে স্বীকারও করে নেয় যে সে তার বোনকে ধর্ষণ করেছে । তারপর এই সম্পর্ক লুকনোর জন্য এবং পরিবারের সম্মান বাঁচানোর জন্য সে বোন মারিয়াকে হত্যাও করে। সেই অপরাধে তার বাবাও তাকে সাহায্য করে। যদিও, ময়নাতদন্তে মারিয়ার ধর্ষণ বা গর্ভাবস্থার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ২০২৪ সালের ২৮ মার্চ ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। তারপরই সারা দেশে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে।
হত্যার পর, পরিবার চুপচাপ মারিয়ার মৃতদেহ কবর দিয়ে দেয়। কিন্তু পুরো ঘটনাটি গোপন ক্যামেরায় তুলে রেখছিল মারিয়ার আরেক ভাই শাহবাজ। মেয়েটিকে হত্যা করে গোপনে কবর দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হলে, কবর থেকে মৃতদেহটি তুলে ময়নাতদন্ত করা হয়। হত্যাকাণ্ডের কথা প্রকাশ না করায় পুলিশ প্রথমে শাহবাজ ও তার স্ত্রী সুমাইরাকেও গ্রেফতার করে। শাহবাজ ও সুমাইরা পুলিশকে জানান, মারিয়া ঘটনার একদিন আগে তাঁদের বলেছিলেন, বাবা ও ভাই তাঁকে ধর্ষণ করেছে। তবে পুলিশ ডিএনএ টেস্টে ধর্ষণের কোনও প্রমান পায়নি।
পাকিস্তানের একটি আদালত এক বছরের মধ্যে এই খুনের মামলাটির নিষ্পত্তি করে ২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। । তবে ধর্ষণের প্রমাণ না মেলায় খুনের দায়েই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে বাবা ও ভাই। এছাড়া দুজনকেই ১ কোটি টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। দ্য ডনের প্রতিবেদন অনুসারে, দায়রা আদালতের বিচারক বিচারপতি আব্দুল হাফিজ ভট্ট মোহম্মদ ফয়জল এবং আব্দুল সাত্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। আদালত জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার জন্য মামলাটি লাহোর হাইকোর্টে পাঠানো হবে।
পাকিস্তানে এই মামলাটি নিয়ে চর্চার অন্ত ছিল না। বিশেষত ভাইরাল ভিডিওটি সামনে আসার পর ছিছিক্কার পড়ে যায়। এক বছরের মধ্যে এই মামলার রায় দান করায় খুশি পাকিস্তানের অনেকেই।
ট্রেন্ডিং
সেরা শিরোনাম
