ভেনেজুয়েলার পর এবার ভূমিকম্পের ধাক্কা ভারতের কাছেই, সকাল-সকাল থরথর করে কাঁপল মাটি
পাকিস্তানে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল একাধিক এলাকা। কম্পনের গভীরতা ছিল ৩৫ কিলোমিটার। এখনও পর্যন্ত হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই।

নয়া দিল্লি : শনিবার সকালে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পাকিস্তান। ভেনেজুয়েলার ভয়াবহ ভূমিকম্প নিয়ে চর্চার মধ্যেই এই ধাক্কা। ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৪। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎসস্থল ছিল ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। কম্পন দেশের একাধিক এলাকায় অনুভূত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এখনও বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই
রয়টার্স-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক ছড়ালেও এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন শুরু করেছে।
পর্যবেক্ষণে প্রশাসন
ভূমিকম্পের পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থাগুলিকে সতর্ক রাখা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প মাঝারি শক্তির হলেও, এর প্রভাব নির্ভর করে ভূমিকম্পের গভীরতা, কেন্দ্রস্থল এবং জনবসতির ঘনত্বের উপর।
শুক্রবার সন্ধ্যাযতেও একবার পাকিস্তানে কেঁপে ওঠে মাটি। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির (NCS) তথ্য অনুযায়ী, ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয় দেশের বিভিন্ন অংশে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ৭৫ কিলোমিটার গভীরে। গভীরতায় উৎপন্ন হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনও পর্যন্ত সামনে আসেনি। তবে দেশের একাধিক এলাকায় কম্পন অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানে এটি দ্বিতীয় মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প। পরপর দুই দিনের কম্পনে উদ্বেগ বেড়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। ভূতত্ত্ববিদদের মতে, পাকিস্তান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে হওয়ায় এখানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা একই ভূমিকম্পপ্রবণ বলয়ের অন্তর্গত। ফলে এই অঞ্চলে মাঝেমধ্যেই কম্পন অনুভূত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এবারের দুই ভূমিকম্পে বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও, আফটারশকের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।
এর আগে ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলায়
২ দিন আগেই ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। বুধবার (স্থানীয় সময়) সন্ধ্যায় মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে আঘাত হানে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত অন্তত ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১,৫০০-রও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। বহু বাড়ি ভেঙে পড়েছে, বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা (State of Emergency) ঘোষণা করেছেন। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে।
কোথায় ছিল ভূমিকম্পের কেন্দ্র?
প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২। এর উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে, মোরন এলাকার পশ্চিমে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ২২ কিলোমিটার।
আরও পড়ুন : ফের ভূমিকম্পের জোর ধাক্কা ! ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলায়, বড় বিপর্যয়ের পর নতুন আতঙ্ক























